| ২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর স্বীকৃতির আশায় দিশেহারা মাসুদা

মনোহরদী প্রতিনিধি:  ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিচয়। এরপর প্রেম, অবশেষে নিজেদের সিদ্ধান্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন পুলিশ কনষ্টেবল একেএম জাহিদুল আমিন ও আনসার সদস্য মাসুমা বেগম। কিন্তু বেশী দিন স্থায়ী হয়নি তাদের সংসার জীবন। বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর পুলিশ সদস্য জাহিদ ভূলে গেলেন তার স্ত্রী ও দেড় বছরের সংসার জীবনের কথা। এমনকি বিয়ে করার কথাও অস্বীকার করলে তিনি। মা-বাবা হারা সহজ-সরল অসহায় মাসুদা তার স্বামীর স্বীকৃতি পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিদর্শক, নরসিংদী পুলিশ সুপার, মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মনোহরদী থানাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেও বিচার না পেয়ে অবশেষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাসুদা বেগম।
কনষ্টেবল জাহিদ কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের একেএম রুহুল আমীনের ছেলে। পুলিশ কং নং ৫৯৬। মাসুদা বেগম মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের মানারকান্দা গ্রামের মোমতাজ উদ্দিনের মেয়ে। কনষ্টেবল জাহিদ বর্তমানে সিলেট আরআরএফ কার্যালয়ে কর্মরত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পুলিশ কনষ্টেবল একেএম জাহিদুল আমীন ২০১৩ সালে নরসিংদী পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। এ সময় মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউপি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিচয় হয় আনসার সদস্য মাসুদা বেগমের। দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে কথা বলার পর উভয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৮ মে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা কাবিন দিয়ে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর মাধবদী এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে তারা সংসার জীবন শুরু করে। কিছুদিন পর কৌশলে স্ত্রীর কাছে থাকা দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় জাহিদ। গত এক বছর পূর্বে সিলেট জেলায় বদলী হওয়ার পর স্ত্রী মাসুদার সাথে তার যোগাযোগ কমতে থাকে। জাহিদ তার পূর্বের বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে গত বছরের ১৮ নভেম্বর তারই এলাকার সামিরা সুলতানা তাইয়্যেবা নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করে।
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানার পর আগের মাসুদা জাহিদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের বিয়ের কথা অস্বীকার করে। পরে মাসুদা জাহিদের নিজের বাড়ীতে গিয়ে তার বাবা-মাকে তাদের বিয়ের কথা জানালে তারাও তার সাথে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। অবশেষে সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর কনষ্টেবল জাহিদ মাসুদাকে বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
মাসুদা বলেন, আমার স্বামী জাহিদুল নিজে ও তার লোকজন দিয়ে মোবাইল ফোনে টাকার লোভ দেখিয়ে তার পথ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আসছে। টাকা নয় আমি জাহিদের স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই।
এ বিষয়ে কনষ্টেবল একেএম জাহিদুল আমীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

# লক্ষন বর্মণ

Print Friendly, PDF & Email

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *