| ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | বৃহস্পতিবার

নরসিংদীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর অভিযোগ, শিক্ষককে থানায় আটক করায় ছাত্রীর বাড়িতে হামলা,অস্ত্র ঠেকিয়ে বাবাকে তুলে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী:  নরসিংদীতে স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়। শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডে স্কুল ছেড়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। নির্যাতনের হাত থেকে স্কুল ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের রক্ষায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার অভিযুক্ত শরীর চর্চা শিক্ষক সৈয়দ এনামুল হককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের স্বজনরা সন্ত্রাসীদের নিয়ে স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে ছাত্রীর বাবাকে তুলে নেয়া হয়। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দাবী করে এসব অভিযোগে অস্বীকার করেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্রী সূত্রে জানাযায়, আলীজান জে এম একাডেমী’র শরীর চর্চা শিক্ষক সৈয়দ এনামুল হক বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের শরীর হাত দেয়। এসব বিষয় পাশ কাটিয়ে যেতো স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গত তিন বছর পূর্বে শিক্ষক এনামুল তার স্ত্রী’র অনুপুস্থিতিতে সাজেশন দেয়ার কথা বলে স্কুলের ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। ওই সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীর উপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা চালায়। পরে ছাত্রীর চিৎকার চেঁচামেচি করে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা স্কুলে প্রধন শিক্ষকের নিকট অভিযোগ করেন। সন্তানের উপর এমন নির্যাতনের খবরে ষ্টোক করে র্দীঘ দিন হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকেন। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়া হলেও সম্প্রতি ওই শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দেয় এনামুল। এতে রাজি না হলে শারীরিক শিক্ষা,আইসিটি ও ক্যারিয়ার শিক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়া হবে বলে ছাত্রীকে হুমকি দেয়। এতে উদ্ধবিগ্ন হয়ে পরেন ছাত্রীর অভিবাক। নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
সম্প্রতি ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেন সদর মডেল থানা পুলিশ। এতে নড়ে চড়ে বসে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহযোগীরা। জিজ্ঞাসাবাদের জণ্য অভিযুক্ত শরীর চর্চা শিক্ষক সৈয়দ এনামুল হককে আটক করে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এনামুলের স্বজনরা ৩০/৩৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে স্কুল ছাত্রীর বাসায় হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে ছাত্রী ও তার বাবাকে তুলে নিয়ে আসে। এবং থানায় গিয়ে সব মিথ্যে বলে অভিযুক্ত শিক্ষকে ছাড়িয়ে আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
স্কুল ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন,আমি হিন্দু মানুষ। বিচার চেয়েও যেন ভুল করেছি। এখন বাড়িতে থাকার উপায় নেই। প্রতি মুহুর্তে ভয়ভিতি দেখাচ্ছে। বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে থানায় মিথ্যে সাক্ষি দিতে বাধ্য করছে অস্ত্রধারীরা। শুধু তাই নয়। ওই শিক্ষকের কিছু হলে আমার পরিবারকে শেষ করে দিবে বলেও হুমকি দিয়ে গেছে।
স্কুল ছাত্রীর বরাত দিয়ে সদর মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, শিক্ষক এনামুল ছাত্রীকে নিয়ে ড্রিম হোলিডে পার্কে বেড়াতে গেছেন। অটো দিয়ে আসার সময় ছাত্রীর গায়ে হাত দিয়েছেন। স্কুলের দুই জন শিক্ষকও বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক কিছুই জানেনা বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে পুলিশ সুপারের অফিসে বসা হবে। সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয়। সেটাই গ্রহন করা হবে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক সৈয়দ এনামুল হক। তিনি বলেন,এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দলাদলীর শিকার হচ্ছি আমি। তবে কি কারনে তার কোন সদ উত্তর তিনি দিতে পারেনি।

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন,এসব ঘটনা ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে ঘটনাটি বেশ পুরোনো। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আদালতের মাধ্যমে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হলে বিষয়টি আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখা যাবে।

 

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *