| ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | রবিবার

বেলাবোতে মসজিদ কমিটির নেতৃত্ব ও টাকার ভাগভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মুসুল্লিদের দুইটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার,৫ পুলিশ সহ আহত ৮

লক্ষন বর্মন,নরসিংদী : নরসিংদীর বেলাবোতে মসজিদ কমিটির নেতৃত্ব ও টাকার ভাগভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মুসুল্লিদের দুইটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সাথে মুসুল্লির সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ৫ পুলিশ সহ ৮ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন মিয়া ও আলামিন নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলার সিমান্ত এলাকা বেলাবো উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের দুলালকান্দি বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলো- বেলাবো থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক গৌতুম, মোস্তফা মিয়া ও কনষ্টেবল আনোয়ার হোসেন। তাদেরকে বেলাব স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় মুসুল্লিদের সূত্রে জানাযায়, বেলাবো উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের দুলালকান্দি বাজার জামে মসজিদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সাবেক ইউপি সদস্য আশাবুদ্দিন মেম্বার। সম্প্রতি মসজিদে নতুন করে কমিটি করা হয়। নতুন কমিটির নেতৃত্ব পায় জহিরুল ইসলাম। কিন্তু নতুন কমিটিকে মানতে নারাজ সাবেক কমিটির লোকজন। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপুরন চলে আসছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার মুসুল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। ওই সময় আশ্রাবুদ্দিন মেম্বারের পক্ষ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আঃ ওহাব সৌরভ মসজিদ উন্নয়নে জন্য চাঁদা উঠানো এবং সেই টাকা রাখার বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় বক্তব্যের বিরোধিতা করেন জহিরুল ইসলামের লোকজন। এনিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপযার্য়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মুসুল্লিরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পুলিশ মুসুল্লিদের ধাওয়া দেয়। এসময় পুলিশের সাথে সর্ঘংষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করেন। মুসুল্লিদের ইটপাটকেল ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৫ পুলিশ সদস্য সহ ৮ জন আহত হয়। ওই সময় পুলিশ ২ জনকে আটক করে।
নারায়নপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও মসজিদ কমিটির একপক্ষের নেতা আশ্রাবুদ্দিন বলেন, জহিরুল ইসলাম বিএনপি নেতা। সে দেলোয়ার হোসেন সাঈদির মুক্তির দাবীতে পোষ্টার ছাপিয়েছিল। এর পর থেকে স্থানীয় মুসুল্লিরা তাকে পছন্দ করতো না। কিন্তু সে ক্ষমতা খাটিয়ে মসজিদের নেতৃত্ব নিতে চায়। একই সাথে মসজিদ উন্নয়নের টাকা তার জিম্মায় রাখতে চায়। এতে বাধা দিলেই তারা আমাদের ধাওয়া দেয়।
অপর পক্ষের নেতা জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়াযায়নি।
বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম খান বলেন,মসজিদের নেতৃত্ব ও উন্নয়নের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মুসুল্লিরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এতে আমাদের ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

#

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *