| ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী | শনিবার

দেশজুড়ে খ্যাতি নরসিংদীর হানিকুইন আনারস

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী: নরসিংদীতে একটি প্রবাদ আছে ‘ রাবানের আনারস রসে টস ট্স’। রাবান নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার লাল মাটি অধূষ্যিত একটি গ্রাম। নরসিংদীতে সর্বপ্রথম এই গ্রামেই আনারস চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে তা আশপাশের গ্রামগুলোতে বিস্তৃতি লাভ করে। নরসিংদীতে দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় জাতের আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। জলডুগি বা হানিকুইন নামে পরিচিত এই আনারসের চাহিদা ক্রগাগত বাড়তে থাকায় ও ফলন ভালো হওয়ায় এই জেলায় আনারসের নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। আকারে ছোট হলেও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে খ্যাতি নরসিংদীর লাল মাটিতে চাষ করা এই আনারস।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ বছর আগেও নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাবান, বরাব, সাতটেকিয়া, কুড়াইতলী ও বেলাবো উপজেলার পাটুলি, বাজনাব ও আমলাবো ইউনিয়নের উঁচু এলাকার লাল মাটির অনেক জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকতো। কোথাও কোথাও কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের বাগান করা হলেও বাগানের জমিতে চাষ হতো না কোনও ফসল।
তবে এখন আর পতিত রাখা হয় না লাল মাটির এসব জমি। বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি ও বিভিন্ন ফলের বাগানের জমিতেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে দেশীয় জাতের আনারস।
জানা যায়, সাধারণত পাহাড়ি লাল এঁটেল মাটি এই আনারস চাষের উপযোগী। এই মাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় আনারস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। সফলতা পাওয়ায় প্রতি বছর জেলার লাল মাটির এলাকায় বাড়ছে আনারস বাগানের সংখ্যা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিক্ষিপ্তভাবে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে নরসিংদীর আনারস।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ৩২ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে পলাশ ও বেলাবো উপজেলার ৩২৪ হেক্টর লাল এঁটেল মাটির জমিতে আনারস চাষ হয়েছে।
পলাশ উপজেলার কুড়াইতলী গ্রামের আনারস চাষি সুনীল দাস বলেন, আনারস চাষে নিয়মিতভাবে তেমন শ্রম দিতে হয় না। চারা রোপনে পুঁজি বিনিয়োগের তুলনায় লাভ বেশি পাওয়া যায়। প্রতি পিস আনারস ২০ থেকে ২৫ টাকায় জমি থেকেই কিনে নিয়ে যায় পাইকারী ক্রেতারা।
একই উপজেলার বরাব গ্রামের দিপু দে বলেন, কাঁঠাল বাগান, আম বাগান, লটকন বাগান ও লিচু বাগানের মধ্যেও আনারসের চাষ করা যায়। ফলন শুরু হলে আনারস ও চারা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় আনারসের রং ও আকার খুব বেশি ভাল হচেছে।
বেলাব উপজেলার বাঙ্গালগাঁও গ্রামের ফরিদ মিয়া ও লায়েছ মিয়া জানান, এ বছর তাদের ২৫ বিঘা জমি থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারবেন। চারার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আগামী বছর একই জমি থেকে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা যাবে।
নরসিংদীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. লতাফত হোসেন বলেন, চলতি বছর ৩ হাজার ৫০০ টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আনারসের চাষ বৃদ্ধিতে চাষিদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় চাষিদের সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়া যাচ্ছে না। এসব সহযোগিতা দেওয়া গেলে আনারস চাষে কৃষকরা আরও আগ্রহী হতেন।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *