শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং |

স্কুল ছাত্র প্রিংকন হত্যা মামলার দুই বছর পর আদালতে চার্জশিট


পলাশ প্রতিনিধি: অবশেষে হত্যা মামলার দুই বছর পর ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র সুপ্রিয় সাহা প্রিংকন হত্যার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (সিআইডি) সৈয়দ মোহাম্মদ কাসিফ সানোয়ার নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার চার্জশিটটি দাখিল করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮/৫/২০১৫ ইং বিকালে ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সুপ্রিয় সাহা প্রিংকন এলাকাবাসীর সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথযাত্রায় অংশ নিয়ে নিখোজ হয়। পরবর্তীতে নিখোজের একদিন পর ঘোড়াশাল শীতলক্ষা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। এসময় লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়। ঘটনার পর নিহত প্রিংকনের মা পপি রানী সাহা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তবার সিআইডিতে চলে গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিহতের মোবাইল ফোন ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে হত্যার সাথে তিন জন আসামী জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত করেন। আসামীরা হলেন, ঘোড়াশাল উত্তর চরপাড়া এলাকার খোকন চন্দ্রদাসের ছেলে সেন্টু চন্দ্র, ঘোড়াশাল কুলুপাড়া এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া ও রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া এলাকার নবাব আলীর ছেলে আজম মীর খালেক। আসামী মীর খালেক পলাশ প্রাণ আরএফএল পার্কে শ্রমিকের কাজ করতেন। অপরদিকে আসামী সেন্টু ও রাসেল এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ মাদকাসক্ত ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ কাসিফ সানোয়ার জানান, আসামী আজম মীর খালেক অপর দুই আসামীদের দিয়ে প্রাণের বিভিন্ন পণ্য চুরি করাত ও একসাথে মাদক গ্রহণ করত। সেই থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনার দিন আসামীরা স্কুল ছাত্র প্রিংকনকে ফোন করে ডেকে নিয়ে মুক্তিপন আদায় করার উদ্দ্যোশে অপহরণ করে। পরে প্রিংকন চিৎকার করলে তারা তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থানেই তার মৃত্যু হয়। এবং লাশ গুম করার উদ্দ্যোশে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। নিহত স্কুল ছাত্র প্রিংকনের মা পপি রানী জানান, হত্যা মামলার দুই বছর পর আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। মামলার রায় ও রায়কার্যকর যানি আরো কতটা সময় লাগে। আমার ছেলেকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করছে তাদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.