| ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৩রা রজব, ১৪৪১ হিজরী | শুক্রবার

নরসিংদীতে সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বাসায় দূর্ধর্ষ চুরি

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদীতে সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন খানের বাসায় দূর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার পর এই চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই চিকিৎসক। এই ঘটনায় চিকিৎসকের বাসা থেকে, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ডায়মন্ডের নেকলেস, বিদেশী ঘড়ি, ল্যাপটপ কম্পিউটার, ট্যাব ও মোবাইল সেট চুরি হয়।
পুলিশ ও চিকিৎসকের পরিবার জানায়, নরসিংদী সদর হাসপাতাল জরুরী বিভাগের ইএমও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান বাপ্পী তার পরিবার নিয়ে গত ৩বছর যাবৎ সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকার গ্যাস অফিস সংলগ্ন হারুন মোল্লার বাড়ির ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকছেন। গতকাল রাত ৯টার দিকে তিনি সদর হাসপাতালে নাইট ডিউটি করতে চলে যায়। পরিবারের বাকি সদস্যরাও উপজেলার মোড়ে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। আজ দুপুর ১২টার দিকে তার স্ত্রী বাসায় ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে তাকে ফোন করে বাসায় আসতে বলে। পরে ডা. মামুন বাসায় এসে দেখে দুইটি ঘরের একটি আলমিরা, ২টি ওয়ারড্রপ, ড্রেসিং টেবিল ও টিভির ডেস্ক এর তালা ভেঙে নগদ ২লক্ষ টাকা, প্রায় ৫ভরি স্বর্ণ, একটি ডায়মন্ডের নেকলেস, ৩টি বিদেশী মূল্যবান হাত ঘড়ি, একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার, একটি ট্যাব ও একটি মোবাইল সেট চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি ঐসময় পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আ: গাফ্ফার ও নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম।
নরসিংদী সদর হাসপাতাল জরুরী বিভাগের ইএমও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান বাপ্পী আক্ষেপ করে বলেন, আমার সাথেই কেন এমন হবে। এর আগে ২ বছর আগে এই বাসায়ই আমার ঘরে চুরি হয়েছে। আবার হলো। এবার আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আমি তো কারো কোন ক্ষতি করিনি। আমি তো সবসময় নিজে অসুস্থ থেকেও মানুষের চিকিৎসা করে গেছি। তবে আমার সাথেই কেন এমন হবে। এই ২ লক্ষ টাকা গতকাল পোস্ট অফিস থেকে এফডিআর ভেঙে তুলেছি। আমার কিছু ঋণ পরিশোধ ও চাচার চিকিৎসা করার জন্য। আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা এখন আমি কি করব। বাসায় কেউ না থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটাতে পেড়েছে চোর চক্র।
নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার পর একাধিক চোর রান্না ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এই চুরি সংঘটিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শহরে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এটাও ঠিক একই ভাবে ঘটানো হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published.