| ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের চুড়ামনকাঠি, চৌগাছা, কালীগঞ্জ ও বারোবাজার এলাকার মানুষের কাছে ত্রাস হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোখলেছুর রহমান নান্নু ভারতে খুন হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তর মৃত্যুর বিষয়টি দায়িত্বশীল কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম সাফু মিয়ার ৯ সন্তানের মধ্যে মেজ নান্নু। ১৯৮৬ সালে শহরের রবীন্দ্রনাথ (আরএন) সড়কের একটি হোটেল বয়ের কাজ করতেন। সেখান থেকেই অপরাধ ও মাদকের জগতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ভাড়াটে কিলার হিসেবে পরিচিতি পান। তার হাতে অন্তত ১৪জন খুন হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে ২০টির অধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট বিএনপি কর্মী ইদ্রিস হত্যা মামলায় মোখলেছুর রহমান নান্নুসহ ১৩জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি উপ-পরিদর্শক তহিদুল ইসলাম। এছাড়াও নান্নুর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আইনশৃংখা বাহিনীর চোখে ধুলো দিতে নয়া কৌশল কিনা সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জানতে চাইলে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, উড়ো খবর পাচ্ছি নান্নু ভারতে খুন হয়েছে। অফিসিয়ালি আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। নান্নুর হাতে নিহত ইদ্রিসের ছেলে শামিউল ইসলাম বলেন, আমারও শুনছি নান্নু ভারতে খুন হয়েছে। তবে সেই খবর কতটুকু সঠিক জানি না। আমার বাবার হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নান্নুসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে এটা নতুন কোন নাটক কি না জানি না। আমরা সব সময় আতংকে থাকি।’ এলাকাবাসী বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সর্বহারা দলের নেতা সিরিয়াল কিলার হিসেবে পরিচিত মোখলেছুর রহমান নান্নু ভারতে পালিয়ে আছে। সেখানে অপহরণের পর ২১ আগস্ট খুন হয়েছে বলে এলাকায় চাউর। তার বিরুদ্ধে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান মিন্টুসহ অন্তত ২০টি হত্যা মামলা রয়েছে। এর আগেও দুই বার খুন হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু পরবতীতে দেখা গেছে সেই খবর ছিল ভূয়া। এবারও সেই রকম নাটক সাজানো হয়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। জানা যায়, ১৯৮৬ সালে যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ (আরএন) রোডে একটি আবাসিক হোটেলে বয়ের কাজ করতেন মোখলেছুর রহমান নান্নু। সেখান থেকেই তার অপরাধ জগতে প্রবেশ। এক সময় হোটেল ব্যবসা ছেড়ে মাদক ব্যবসায় নেমে পড়ে নান্নু। আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে অল্প দিনের মধ্যে শ্যামনগরের সর্বহারা দলের নেতা ইউনুস আলী ইনো ও কেরো নজরুলে বাহিনীতে যোগ দেন। শুরু হয় আন্ডারওয়ার্ডে যাত্রা। তার দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে সর্বহারা দলের আরেক নেতা শরিফুল তার দলে ভেড়ান নান্নুতে। শরিফুল বাহিনীর প্রধান কিলার ও সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পান। ৯৭ সালের দিকে পুলিশের হাতে শরিফুল নিহত হলে তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেন নান্নু। শরিফুলের নাম মুছে দিয়ে বাহিনীর নাম দেন ‘মিয়া বাহিনী’। এলাকার ছিঁচকে সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের নতুন সদস্য করেন। ১৯৯৭ সালে ভাড়াটে খুনি হিসেবে আর্বিভূত হয় মোখলেচুর রহমান নান্নু। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার প্রভাব ও ব্যক্তি দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা মিশনে ভাড়াই ব্যবহার করা হয়। জেলা শীর্ষ নেতাদের আশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে নান্নু। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি হত্যা মামলা রয়েছে। আলোচিত হত্যাকা-ের মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর চৌগাছার পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চৌগাছার সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টু, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য বাবু, একই সালের ২৯ মার্চ কাঠ ব্যবসায়ী বিএনপি কর্মী ইদ্রিস আলী হত্যাকা-। ছয়টি হত্যা মামলায় নান্নু প্রধান আসামি। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি হত্যাকা-ে নান্নুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই গুলো হলো- ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের গুরুদাস, একই গ্রামের মিন্টু, বারোবাজার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রউফ, সুবর্ণসরা গ্রামের মোমিন, যশোর সদরের মথুরাপুর গ্রামে চকম আলী, ইছালি গ্রামের কোহিনুর,সাজিয়ালি গ্রামের আনিস, হাশিমপুর গ্রামের জয়নাল ও লিটু। গ্রেফতার এড়াতে নান্নু ভারতে পালিয়ে রয়েছে।

ইন্দ্রজিৎ

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *