| ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী | শনিবার

সিরাজী এম আর মোস্তাক
শিক্ষানবিস আইনজীবি, ঢাকা।

১৯৭১ এর ৭মার্চে বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালিন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ৩০লাখ বাঙ্গালি প্রাণ বিসর্জন করেছিলেন। ১৯৭২-৭৫ শাসনকালে বঙ্গবন্ধু সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর তা নেই। এখন বাংলাদেশে ৩০লাখ শহীদের বংশ-পরিবারের অস্তিত্ব নেই। শহীদগণ মুক্তিযোদ্ধা নাকি অমুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তার প্রমাণ নেই। বরং এখন বিধিবদ্ধ হয়েছে, মাত্র ২লাখ ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন। শুধু তারাই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। তাই তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারা মোটা অংকের ভাতা পাচ্ছেন। তাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিগণ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। আর ৯৯ভাগেরও বেশি নাগরিক বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হয়েও অমুক্তিযোদ্ধা বিবেচিত হয়েছেন।
এখন ৭ই মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন একইসাথে চলছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে বাঙ্গালিরা ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সামনে আন্তর্জাতিক শব্দটি থাকায় তা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ১৯৭১ সালে সংঘটিত হত্যাকান্ড বাঙ্গালিরাই করেছে, পাকিস্তানিরা করেনি। তাই ট্রাইব্যুনালে পাকিস্তানিরা অভিযুক্ত হয়নি। এখন পাকিস্তানিদের ঘাতক বা যুদ্ধাপরাধী বললে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল অবমাননা হবে। বাঙ্গালি জাতির এমন লান্থণার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বীকৃতি দিয়েছে।
মূলত সকল লান্থণা ও বৈষম্য দুর করতেই ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণটি স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতিদানে যে সুনাম হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে তার চেয়ে বেশি লান্থণা হয়েছে। বাঙ্গালি জাতিকে এ সত্য চোখে আঙুল দিয়ে শিক্ষা দেয়াই তাদের লক্ষ্য। তারা ঝি’কে মেরে বৌকে শেখানোর চেষ্টা করেছে। এরপরও বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন থাকলে, জাতির পোড়া কপাল। সুতরাং ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা আর নয়, দেশের ১৬কোটি নাগরিক সবাই মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর সফল উত্তরসূরী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আর কোনো বাঙ্গালি নয়, শুধু পাকিস্তানীরা সাজা পাবে।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *