| ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | বৃহস্পতিবার

মোবাইল ব্যবহার শিশুদের মানসিক ভাবে বিপর্যয় করে তুলে

খন্দকার শাহিন,নরসিংদী প্রতিদিন: অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ক্ষতিকর দিকগুলো পূর্নবয়স্কদের জন্য যতটা ক্ষতি,তা শিশুদের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর। শিশুরা এক মিনিট কথা বললে মস্তিষ্কে যতটা কম্পন সৃষ্টি হয় তা দূর হতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। তাই শিশুদের যতটা সম্ভব মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখা উচিত।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে ১শ শিশুর মধ্যে ৭০ জনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন কোন গবেষণা না থাকলেও শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নেহাত কম হবে না।
দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়ই শিশুরা খেলা ও ছবি দেখা হিসেবে ব্যবহার করে যোগাযোগের মাধ্যম যন্ত্র গুলো। এ কারণে শিশুরা মানসিক ও স্বাস্থ্য ভয়াবহ আকারে দারণ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিক গুলো প্রতিটি অভিভাবক খেয়াল রাখা উচিত। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক লোকেরা মোবাইল ফোন অতিমাত্রায় ব্যবহার না করাটাই ভালো।
এছাড়া টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোন ও ট্যাব নিয়ে খেলা করা ছোট শিশুরা অন্য শিশুদের চেয়ে কম ঘুমায় বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। এসব ডিভাইস নিয়ে প্রতি ঘণ্টা খেলার কারণে শিশুদের ১৫ মিনিট করে ঘুম কম হয় বলে বিজ্ঞানভিত্তিক ওই গবেষণার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

ব্রিকবেক ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭৫০ জন অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাড়িতে টাচস্ক্রিনযুক্ত ডিভাইস ব্যাপকভাবে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু ছোট শিশুদের ওপর এর প্রভাবের বিষয় উন্নীতকরনে এখনো ঘাটতি রয়েছে।

সন্তানেরা কতক্ষণ টাচস্ক্রিন ডিভাইস নিয়ে খেলা করে বা তাদের ঘুমের ধরণ কেমন, এসব বিষয়ে জরিপে অংশ নেয়া অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে দেখা যায় ৭৫ শতাংশ শিশু এসব ডিভাইস নিয়ে খেলা করে। এদের মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৫১ শতাংশ শিশু দিনে একবার এবং ২৫ মাস থেকে ৩৬ মাস বয়সীরা নিয়মিত খেলা করে।

এক ঘন্টা টাচস্ক্রিন ডিভাইস নিয়ে খেলার ফলে তারা ১৫ মিনিট করে কম ঘুমায়। তারা রাতের চেয়ে দিনে বেশি ঘুমায়।

তবে টাচস্ক্রিন ডিভাইস নিয়ে খেলা এসব ছোট শিশু দ্রুত মটর যান্ত্রিক দক্ষতা আত্মস্থ করতে পারে বলে ওই গবেষণায় দেখানো হয়েছে।

তাহলে কি তাদের টাচস্ক্রিন ডিভাইস নিয়ে খেলতে দেয়া উচিত?

এর উত্তর গবেষক ড. টিম স্মিত বিবিসি অনলাইনকে বলেন, বিষয়টি খুবই জটিল, বিজ্ঞান এখনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক।আমরা এখনো প্রযুক্তির পেছন পেছন যাচ্ছি এবং এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলার সনময় এখনো হয়নি।

এই গবেষণাটি বর্ণনামূলক নয় বলে জানিয়েছেন ড. স্মিত। তবে ঘুমের সমস্যার সাথে টাচস্ক্রিনের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি ছোট শিশুদের টিভি দেখানের কথা বলেছেন।তবে টিভি অনুষ্ঠান যেন তাদের বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা খেয়াল রাখতে বলেছেন।কিন্তু তা অবশ্যই ঘুমের আগে নয়।

কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. আনা জয়সি টাচস্ক্রিন এবং ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে করা এই গবেষণাকে সময়োপযোগী বলেছেন।তিনি বলেন, টাচস্ক্রিন ঘুমে কতটা প্রভার ফেলে, যতদিন পর্যন্ত আমরা তা জানতে না পারবো, ততদিন অভিভাবকদের উচিত ছোট শিশুদের কাছ থেকে এসব ডিভাইস দূরে রাখা।-

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *