সেক সেক্সি আর সেতু বন্ধন

নিউজ ডেস্ক,নরসিংদী প্রতিদিন, বুধবার,২৮ মার্চ ২০১৮:

সংস্কৃতে সেক মানে সেচন, সিঞ্চন (সদাবারিসেক)। কিন্তু বাংলায় সেক (বিকল্প বানা সেঁক) মানে গরম পানি বা কাপড় দিয়ে ধীরে ধীরে তাপ প্রয়োগ (মেসের চাকর হয় লবেজান সেঁক দিতে ভাঙা হাড়ে- জসীম উদ্দীন; কিন্তু তাপ সেক করিলে বাঁচিলেও বাঁচিতে পারে- বিষবৃক্ষ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; কেশব তখন আগুন জ্বালিয়া চরণের হাতে-পায়ে সেক দিতেছিল এবং তাহার নিদাঘতপ্ত মরুতৃষ্ণার সহিত প্রাণপণে যুঝিতেছিল- পণ্ডিতমশাই, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।

এদিকে ‘সেক্সি’ শব্দটা নেতিবাচক অর্থে গ্রহণ করা উচিত নয় এমন মন্তব্য করে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নারী কমিশনের প্রধান মমতা শর্মা। এরপর সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জয়পুরের একটি অনুষ্ঠানে মমতা শর্মা ‘সেক্সি’ শব্দটাকে বর্ণনা করেছিলেন ‘সুন্দর ও আকর্ষণীয়’ বলে। এরপর থেকেই নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি।

ইংরেজি সেক্স ও বাংলা যৌনতা- এই শব্দ দুটি ব্যুৎপত্তিগত ও চেতনাগত দিক দিয়ে মোটেও সমগোত্রীয় নয়। এদের অর্থেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। ইংরেজিতে ‘সেক্সি’ শব্দটি কেবল নারীকেই বোঝায় না। seductive, desirable, inviting, sensual, sultry, provocative, tempting, exciting, stimulating, interesting এমন হাজারও প্রতিশব্দ তার। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষে লাতিন sexus থেকে ইংরেজি sex শব্দের উৎপত্তি।

সেক্স শব্দের অর্থ quality of being male or female। নারীপুরুষ উভয়েই কিন্তু এর আওতায় পড়ে। তবে এখনও উপমহাদেশে সেক্সি শব্দটি একমাত্রিকভাবে গুরুবক্ষ, ক্ষীণকটি, গুরুনিতম্ব নারীর উদ্দেশে উচ্চারিত বা আলোচিত হয় (আমি এখনো তেমন সেক্সি কথাটার সাথে বেশি পরিচিত না- হোস্টেল, নওয়াজ ফারহিন অন্তরা)।

আর সেতুবন্ধ হিন্দু তীর্থ বিশেষ। ভারতের রামেশ্বরের দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপশ্রেণীও সেতুবন্ধ নামে পরিচিত (ঐ সেতুবন্ধে পদার্পনের পাশে আগুনে আগুনে পুড়েও সীতারকলঙ্ক পুড়ল না, শেষে পাতাল প্রবেশ করে উদ্ধার খুঁজতে হল- নজরুল রচনাবলী)।

কথিত আছে রামচন্দ্র বানর সৈন্য নিয়ে লঙ্কা যাওয়ার জন্য সমুদ্রের উপর এ বাঁধ দিয়েছিলেন। কিন্তু আলঙ্কারিক অর্থে সেতুবন্ধ মানে সংযোগ (কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মধ্যযুগের সঙ্গে আধুনিক যুগের সেতুবন্ধ রচনা করেছিলেন)।

অভিধানে সেতুবন্ধের অর্থে বলা হয়েছে সেতুনির্মাণ, ক্ষেত্রাদির উপর আলি বাঁধা, কোনো কিছুর মধ্যে সংযোগ। তবে শব্দটির সঙ্গে হিন্দুদের একটি তীর্থস্থানের ইতিহাস জড়িত। পুরাণে বলা হয়েছে, ভারতবর্ষের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত সেতুই সেতুবন্ধু।

কথিত আছে, রামের আদেশে হনুমান এ সেতুবন্ধ তৈরি করেন। শ্রীলঙ্কা হতে পুষ্পক বিমানে আরোহণ কালে এই সেতু দেখিয়ে রাম বললেন, ‘এই অগাধ অপার সাগরের সেতুবন্ধন সেতুবন্ধ নামে বিখ্যাত ও পবিত্র তীর্থ হবে’।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সেতুবন্ধ শব্দটির সামান্য বিবর্তন হয়েছে। শব্দটিকে আমরা ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবেই চিনি। সেতুবন্ধ শব্দটা শুদ্ধ হলেও আমরা এখন সেতুবন্ধনই লিখি। তবে এটা ভুল নয়।

Be the first to comment on "সেক সেক্সি আর সেতু বন্ধন"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*