1. nahidprodhan143@gmail.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  2. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  3. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  4. narsingdipratidin.mail@gmail.com : narsingdi :
  5. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  6. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
  7. subeditor@narsingdipratidin.com : Narsingdi Pratidin : Narsingdi Pratidin
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

আইন না মানা, বেপরোয়া গতি, এরপর কে?

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক,নরসিংদী প্রতিদিন,৮ এপ্রিল ২০১৮:
সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক মহামারির নাম। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। অনেককে বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। গণপরিবহনগুলো যেন সাক্ষাৎ যমদূত। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে রাজধানীর রাজপথে। রাজধানীর বাইরের অবস্থাও তথৈবচ।
দুই বাসের ঘেঁষাঘেঁষি হাত কেড়ে নিয়েছে কলেজছাত্র রাজীবের, চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিউলি আক্তারের, দুই বাসের চাপায় মেরুদণ্ডের হাড় গুঁড়ো হয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন আয়েশা খাতুন। আতঙ্ক নিয়ে এখন অপেক্ষা, এরপর কে পড়বে প্রাণঘাতী বাসের নিচে।
এপ্রিল মাসের শুরু থেকে গত এক সপ্তাহে সারা দেশে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। হাত, পা কিংবা মেরুদণ্ড হারানোর সংখ্যাও এর চেয়ে কম নয়। কিন্তু এ নিয়ে কেউ-ই গা করছে না। সরকার, বাস মালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কারও চিন্তা-ভাবনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আইন না মানা, বেপরোয়া গতি, যাত্রী নিতে দুই বাসের পাল্লাপাল্লি, যাত্রীর অসাবধানতা, সিগন্যাল না মানাই মোটাদাগে এসব দুর্ঘটনার কারণ। বিশেষ করে বেপরোয়া চালকদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের মধ্যে কাজ করে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার লোভ এবং এই কারণে ব্যস্ত রাস্তায় তারা পরস্পরের সঙ্গে প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এভাবে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে কিংবা পিষ্ট হয়ে যাত্রী ও পথচারীর প্রাণ যায়। অনেক চালকেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা। লাইসেন্স না থাকার কারণে বাস চালাচ্ছে অদক্ষ আর অপ্রাপ্তবয়স্করা। এ নিয়েও কোনো নজরদারি নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবেই দেশে বর্তমানে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা
১০ লাখের বেশি। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩৪ লাখ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। অন্যদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে সাড়ে ২৪ লাখ। প্রায় ১০ লাখ যানবাহন চালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। কিন্তু তারাই রাজধানীসহ দেশের সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছে অঙ্গীকার করেছিল। জাতিসংঘের সেই অঙ্গীকারনামায় শর্ত ছিল ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার। কিন্তু বাস্তবে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এ নিয়ে সরকারেরও কোনো মাথাব্যথা নেই।

মালিককেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে: সৈয়দ আবুল মকসুদ

সড়কে আসলে অরাজকতা চলছে। শুধু মৃত্যুই তো বড় কথা নয়, লাখো মানুষের ভোগান্তি আর আতঙ্কের দিকটাও দেখতে হবে।
দুর্ঘটনা ঘটলেই শুধু চালকের কথা বলা হয়। আমি মনে করি, মালিককেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। হালকা শাস্তিতে হবে না, কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এসব ঘটনায় মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা উচিত। শাস্তি হিসেবে জেলের পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও করতে হবে। রাজীবের ব্যাপারে আদালত এক কোটি টাকার যে ক্ষতিপূরণের কথা বলেছে, আমি এটাকে সমর্থন করি।
মনে রাখা দরকার, সব দুর্ঘটনার জন্য চালকরা দায়ী নয়। যাত্রীর অসাবধানতার জন্যও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। যদি অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কিংবা চালকের কোনো প্রকার গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে চালককে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। এমনকি ওই দুর্ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করে আমরা এ ব্যাপারে চালকের মৃত্যুদণ্ডের কথাও বলেছিলাম।
সড়কে দুর্ঘটনা রোধে আমাদের দেশে পরিবহন মালিকরা আন্তরিক নয়, সরকারও আন্তরিক নয়। পরিবহন শ্রমিক আর মালিকদের মধ্যে থাকে যোগসাজশ, তাই অনেক সময় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর হতে হবে। যেসব সংস্থা গণপরিবহনকে নানাভাবে তদারকি করে তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোধ হতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা।

follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন

প্রয়োজনে ফোন করুন- ০১৭১৩৮২৫৮১৩

শাহিন আইটির একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান