1. nahidprodhan143@gmail.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  2. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  3. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  4. narsingdipratidin.mail@gmail.com : narsingdi :
  5. news@narsingdipratidin.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  6. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  7. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
  8. subeditor@narsingdipratidin.com : Narsingdi Pratidin : Narsingdi Pratidin
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন



সহকর্মীকে ফাঁসাতে, নিজেই ফেঁসে গেলেন, শিবপুর থানার ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত সোমবার, ৪ জুন, ২০১৮

লক্ষন বর্মন*
নরসিংদী প্রতিদিন,সোমবার,৪ জুন ২০১৮ : নরসিংদীতে থানা হাজতে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে শিবপুর থানার এএসআই সোহেল রানাসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিবপুর থানার এএসআই সোহেল রানা

৩ জুন রোববার দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন এবং থানা হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইন এ মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত আবুল কালামের স্ত্রী সোমা বেগম। পুলিশ সহকর্মী ও আলীগ নেতাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে স্বীকারোক্তি আদায়েল অভিযোগ উঠে এএসআই সোহেল রানা বিরুদ্ধে। দুই মাস পূর্বে ছাত্রলীগের কর্মীকে হয়রানীর জেরে শাস্তিমূলক বদলী হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভোক্তভোগীরা দাবী করেছে। একই ঘটনায় পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাঁজানো স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার প্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে এএসআই সোহেল রানা, কনস্টেবল মামুন ও গোয়েন্দা পুলিশের এসআই খোকন চন্দ্র সরকারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো শিবপুর থানার এস আই রিজাউল কাজী,একই থানার এ এস আই মামুন,মনোহরদী থানার এস আই নাজিম,একই থানার এ এস আই শাহীন সরকার।

মামলার এজাহার,পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে কথাবলে জানায়, অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানা মনোহরদী থানায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকাকালীন সময়ে গত ৭ এপ্রিল বড়চাপা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহাগকে হয়রানীর প্রতিবাদ জানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। এই ঘটনার এএসআই সোহেল রানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রী করলে তাকে মনোহরদী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে সে শিবপুর থানায় যোগ দেয়।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে এএসআই সোহেল রানা প্রাইভেটকারসহ আবুল কালাম ও হিমেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে আবুল কালামের স্বজনরা থানায় গিয়ে কালামকে নির্যাতন করা হচ্ছে দেখতে পায়। ওই সময় এএসআই সোহেল তাদের নিকট ২ লাখ টাকা দাবী করে অন্যথায় কালামকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু দাবীকৃত টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হাত ভেঙ্গে দেয়। পরে ভোর রাতে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের ৩ নেতা-কর্মী ও গোয়েন্দা পুলিশের এসআই খোকন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যাবসায় জড়িত থাকার জবানবন্দী আদায় করে। এবং তা মুঠোফোনে রেকর্ড করে। এসময় ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আটককৃত হিমেলকে ছেড়ে দিলেও ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে আবুল কালামকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মামলায় পলাতক আসামী করা হয়েছে, মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম ও একদুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফরিদ আলম ভূঞা তুষারকে।

পুলিশের সূত্র জানায়, একই ঘটনায় মনোহরদী থানার এসআই নাজিম ও এএসআই শাহিনুরে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদেরকে মনোহরদী থানা থেকে প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আমার ঘনিষ্ট। এ কারণে এএসআই সোহেল ছাত্রলীগের সভাপতির উপর প্রতিশোধ নিতে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্দনও থাকতে পারে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র সরকার বলেন, আমি চলতি বছর জেলার সেরা মাদক উদ্ধারকারী হিসেবে ৩ বার পুলিশ সুপারের নিকট পুরস্কৃত হয়েছি। এএসআই সোহেল ছাত্রলীগের ছেলেকে হয়রানী করে প্রত্যাহার হওয়ার সময় আমিও বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আর এই ক্ষোভ থেকেই সে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আতাঁত করে আমাকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িয়েছে বলে আমার ধারণা।

হয়রানীর শিকার আবুল কালামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সোমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মাদক ব্যবসা দূরের কথা কখনো মাদক সেবনও করেনি। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে থানায় কোন মামলাও নেই। আর ২ লাখ টাকার জন্য সেই লোকটিতে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়েছে এএসআই সোহেল। আমি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে এএসআই সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

এব্যপারে অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানা নরসিংদী প্রতিদিনকে বলেন, থানায় কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। হিমেলকে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে কোন টাকা নেয়া হয়নি।

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনে মিটিং এ আছেন বলে জানান। তাই এ বিয়য়ে পরে কথা বলবেন বলে জানায়।

follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
শাহিন আইটির একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান