| ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী | বৃহস্পতিবার

শূন্যপদ নেই তবু অতিরিক্ত সচিব হলেন ১৬৩ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক,নরসিংদী প্রতিদিন,বৃহস্পতিবার,৩০ আগস্ট ২০১৮: শূন্যপদ না থাকলেও যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে ১৬৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার এবং ৩০ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তা আছেন।

বুধবার রাতে পদোন্নতি পাওয়া ১৫৪ কর্মকর্তার নামে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাকি ৯ কর্মকর্তা লিয়েনে থাকায় তাদের প্রজ্ঞাপন পরে জারি করা হবে। এবারও পদোন্নতি থেকে প্রায় শতাধিক কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।

অতিরিক্ত সচিব পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১২১। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত আছেন ৪৭৫ কর্মকর্তা। এ পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে ১৬৩ জনকে অতিরিক্ত সচিব করা হয়। ফলে এ পদে কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩৮ জনে।

হিসাব অনুযায়ী অনুমোদিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা সংখ্যা দাঁড়াল ৫১৭। ফলে পদ না থাকায় পদোন্নতি পাওয়া অধিকাংশ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইন সিটু) কাজ করতে হবে অথবা ওএসডি থাকতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেওয়াজ অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ইতিমধ্যেই ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিবের মতো নির্ধারিত পদের তুলনায় যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদেও অনেক বেশি কর্মকর্তা রয়েছে। এ মুহূর্তে যুগ্মসচিবের ৪১১টি পদের বিপরীতে ৬১৩ জন এবং উপসচিবের এক হাজার ৬টি পদের বিপরীতে এক হাজার ৭৫৭ জন কর্মরত আছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিসিএস ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের একজন, ১৯৮৪ ব্যাচের ৬ জন, ১৯৮৫ ব্যাচের ১৪ জন, ১৯৮৬ ব্যাচের ৮ জন, নবম ব্যাচের ৭ জন এবং নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে দশম ব্যাচের ৯৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এর মধ্যে দশম ব্যাচের ৯ জন লিয়েনে থাকায় তাদের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে থেকে ৩০ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে এবার কমবেশি ৬০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে এর আগে একাধিকবার বঞ্চিত হয়েছিলেন। অতিরিক্ত সচিব পদে ১৬৩ জনকে পদোন্নতি দিতে কমবেশি শতাধিক কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। যারা বিসিএস ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচ, ১৯৮৪ ব্যাচ, ১৯৮৫ ব্যাচ, ১৯৮৬ ব্যাচ ও নবম ব্যাচের কর্মকর্তা।

তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বিচারাধীন অথবা চাকরির গোপন প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য থাকায় পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বঞ্চিতদের অনেকেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে একইভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিতে সব স্তরে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছিলেন। ওই সব বঞ্চিতরাও আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকার পরিবর্তন হলেই আগের সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বপালনকারীরা বঞ্চিত হবেন- এ যেন জনপ্রশাসনের ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বঞ্চিত হলেন যারা : পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিসিএস ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের একমাত্র কর্মকর্তা শওকত নবী পদোন্নতি পেয়েছেন। বিসিএস ১৯৮২ বিশেষ ও নিয়মিত ব্যাচের যারা বঞ্চিত হলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- জীবন কুমার চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল, মিশকাত আহমেদ চৌধুরী, এটিএম মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন, মুহাম্মদ নুরুল আলম, লোকমান আহমেদ, মুজিবুর রহমান আল মামুন, মো. হাবিবুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, মো. আবদুর রাজ্জাক, শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার, এনায়েত হুসাইন, মো. কায়সারুল ইসলাম, মো. তানকিন হক সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শমসের আলী,

মো. জালাল উদ্দিন, মো. আতাউল হক, মো. খালিদ মাহমুদ, ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফ, মো. শরফুদ্দিন খান জিলানী, ইউসুফ আলী, মো. আবদুল আজিজ, বিকাশ চন্দ্র শিকদার, এএএম নাসিহুল কামাল, মওদুদ একে কাইয়ুম চৌধুরী, গোলাম মওলা, মো. ওয়াসিম জাব্বার, মো. শওকত আকবর, মুশফিক আহমেদ শামীম, আবদুল খালেক, জিয়াউর রহমান খান প্রমুখ। পদোন্নতি বঞ্চিতদের মধ্যে আরও আছেন ১৯৮৫, ১৯৮৬, নবম ও দশম ব্যাচের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা।

পদোন্নতি পেলেন যারা : মো. শওকত নবী (১৭৩৯), মো. আমিনুল রব চৌধুরী, এনডিসি (৩৩৯৫), মো. হাফিজ উদ্দিন (৩৪৩৪), মুহাম্মদ আমজাদ হোসেইন (৩৪৭৫), মো. আব্দুর রউফ (৩৪৮০), আবু সাঈদ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ (২১৪৫), মো. মজিবুর রহমান (৩৬৮০), নিমাই চন্দ্র পাল (৪৫৪০), মো. আবদুল মালেক (৪৫৪৮),

মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী (৪৫৯০), মশিউর রহমান (৪৬৬০), মো. তসলীমুল ইসলাম (৪৬৬২), ড. সৈয়দ আবু আসাদ এনডিসি (৪৬৯৬), মো. মাহবুব উল ইসলাম (৪৭০৯), বিশ্বনাথ বণিক (৪৭৬৩), মোহাম্মদ হাবিবুল কবির চৌধুরী (৪৭৮৬), মো. শাহ আলম মৃধা (৪৯১৬), আনোয়ারুল ওয়াহেদ চৌধুরী (৪৯২৬),

মো. শাহজাহান মিয়া (৪৯৩৪), বেগম নাসরীন আখতার চৌধুরী (৪৯৬৯), বেগম পারভীন আখতার (৪৯৭৮), ডা. মো. ফারুক হোসেন (৫২২১), মো. মিজান উল আলম (৫২৫২), সোহেল আহমেদ (৫২৫৯), মো. ইউসুফ আলী (৫২৬৯), নারায়ণচন্দ্র দেবনাথ (৫৩৪৩), মো. আমিনুল ইসলাম (৫৩৫১), মো. আইয়ুব হোসেন (৫৩৯৯), লুৎফুন নাহার বেগম (৫৪০৫), মোসাম্মাৎ হামিদা বেগম (৫৪৭২), আনিস মাহমুদ (৪১২৮), অনল চন্দ্র দাস (৫৪৩৫), সারওয়ার মাহমুদ (৪১৫৭),

কেএম তরিকুল ইসলাম (৪১৬৪), মো. হাসানুল ইসলাম (৪১৬৬), আখতারি বেগম (৪১৮৭), সত্যেন্দ্র কুমার সরকার (৫৪৮৩), ড. মো. হেলাল উদ্দিন (৪২২০), ড. পিয়ার মোহাম্মদ (৪২২২), মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৪৮৮), মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী (৫৪৮৯), মো. মনজুর হোসেন (৫৪৯০), চন্দন কুমার দে (৫৪৯২), মীর জহুরুল ইসলাম (৪২২৮), মো. নজীবুল ইসলাম (৪২২৯), বেগম সালমা মমতাজ (৫৪৯৬), মো. দেলওয়ার হায়দার (৫৪৯৭), মমিনুর রশিদ আমিন (৫৪৯৮),

মো. মিজানুর রহমান (৪২৩২), ড. শাহ আলম (৫৪৯৯), নীতিশ চন্দ্র সরকার (৫৫০০), ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৪২৩৪), মোহাম্মদ জাকীর হোসেন (৪২৩৫), মো. আবুল মনসুর (৫৫০১), তুলসী রঞ্জন সাহা (৫৫০৩), মো. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা (৫৫০৪), সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম (৪২৪১), সুবাস চন্দ্র সাহা (৫৫০৭), মো. কামরুজ্জামান (৫৫০৯), মাসুদ আহমদ (৪২৪৩), মো. সালাহউদ্দীন চৌধুরী (৫৫১১), মো. সেলিম রেজা (৫৫১৩), বেগম মাহফুজা আখতার (৪২৪৫),

মো. মকবুল হোসেন (৫৫১৪), নাজমুল হক খান (৫৫২০), মো. মোস্তফা কামাল (৫৫২১), মো. শহিদুল ইসলাম (৫৫২২), খাজা আবদুল হান্নান (৫৫২৪), বেগম খোদেজা আক্তার খানম (৫৫২৬), মো. মনিরুজ্জামান (৫৫২৭), এবিএম আজাদ এনডিসি (৫৫২৮), অশোক কুমার দেবনাথ (৫৫৩১), আবুল কালাম সামসুদ্দিন (৪২৪৮), সুবোল বোস মণি (৫৫৩২), রতন চন্দ্র পণ্ডিত (৪২৪৯), ড. তরুন কান্তি শিকদার (৫৫৩৬),

মো. শাখাওয়াত হোসেন (৫৫৩৮), মো. দেলোয়ার হোসাইন (৫৫৪১), মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ (৫৫৪৩), মো. সাইদুর রহমান (৫৫৪৪), মো. মোকাব্বির হোসেন (৫৫৪৮), মো. ইমরুল চৌধুরী (৫৫৫১), মো. মোকাম্মেল হোসেন (৫৫৫৪), মো. আনওয়ার হোসেন (৫৫৫৭), মো. দেলওয়ার হোসেন (৪২৫২), মো. আবদুল কাদের (৫৫৫৮), মো. মাসুদ করিম (৫৫৫৯),

মো. আবদুল করিম (৫৫৬১), শেখ মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ (৫৫৬৩), মো. হাবিবুর রহমান (৫৫৬৪), শেখ মুজিবুর রহমান (৫৫৬৫), মীর মো. নজরুল ইসলাম (৫৫৬৬), আ. গাফ্ফার খান (৫৫৬৭), মো. মশিউর রহমান (৫৫৬৮), মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ (৫৫৭২), সঞ্জয় কুমার বণিক (৫৫৭৫), ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস (৫৫৭৬), রঞ্জিত কুমার দাস (৫৫৭৯), মোহাম্মদ ইরফান শরীফ (৫৫৮০), মো. আবু বকর সিদ্দিক এনডিসি (৫৫৮৮), অমিতাভ সরকার (৫৫৯২), বেগম রুম্মান আখতার খান (৪২৫৩),

মো. মাহবুব কবীর (৪২৫৪), মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৫৯৩), প্রণব কুমার ঘোষ (৫৫৯৪), মো. এহছান-ই-এলাহী (৫৫৯৫), বেগম ইফফাত আরা মাহমুদ (৫৫৯৭), মো. আজহারুল ইসলাম খান (৫৫৯৮), একেএম দিনারুল ইসলাম (৫৬০০), মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার (৫৬০১), একেএম হুমায়ুন কবীর (৫৬০৫), এসএম সেলিম রেজা (৫৬০৬), মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার (৫৬০৯), মো. মমিনুর রহমান (৫৬১০), মো. সাহেদ আলী (৫৬১২),

মো. আবদুল বারিক (৫৬১৭), বেগম জাকিয়া সুলতানা (৫৬২১), মো. মহিবুর রহমান (৫৬২২), আবুল হাসনাত মো. লতিফুল কবীর (৫৬২৫), বেগম সাইদা নাইম জাহান (৫৬২৬), মো. মতিউর রহমান (৫৬২৭), বেগম আসমা তামকীন (৫৬২৯), বেগম খালেদা আক্তার (৫৬৩৪), বেগম জেবুন্নেছা করিম (৫৬৩৫), একেএম মাহবুবুর রহমান জোয়ার্দার (৭৪৯০),

ড. মো. সাইদুর রহমান সেলিম (৭৪৯১), ড. মো. ইউনুস আলী প্রামাণিক (৭৪৯২), ড. শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (৭৪৯৩), ড. মো. রেজাউল হক (৭৪৯৪), মো. আবদুল হাকিম মজুমদার (৭৪৩৪), মো. শহীদুল হক ভূঞা (৭৪৯৯), আফতাব আহমেদ (৭৩৮৪), বেগম ফৌজিয়া নাহার ইসলাম (৭৪৬১), মো. আবদুর রউফ (৭৪৬৩), মোহাম্মদ আবু ফারুক (৭৪৬৬),

মো. শহিদুল্লাহ (৭৩২৩), পিযুষ কান্তি নাথ (৭৪৭০), ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৭৪৪১), দীল মোহাম্মদ (৭৫৩০), ব্রজ গোপাল ভৌমিক (৭৫৩১), মো. তাহিয়াত হোসেন (৭৫৩২), মো. বদরুল হাসান বাবুল (৭৫২১), সুরথ কুমার সরকার (৭৫৩৭), বেগম শাহিন ইসলাম এনডিসি (৭৫৪২), মো. আব্দুল মান্নান (৭৫৪৫), মাহমুদুল ইসলাম (৭৪০৩), মো. বজলুর রহমান (৭৩৯১),

মো. আইনুল কবীর (৭৫৫৮), মো. মহসিনুল আলম (৭৩৯৫), এসএম নুরুল ইসলাম (৭৪২৫), মো. বদরুল আনাম ভূঁইয়া (৭৫৯৮), সৈয়দ তওহিদুর রহমান (৭৩৪৮), মো. আবু বকর সিদ্দিক (৭৪৩১), মো. সিরাজুল ইসলাম (৭৫২৫)।

সূত্র: যুগান্তর

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *