| ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

নরসিংদীতে ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় চাঁদা দিতে হয় পাঁচবার

প্রকাশিত ডেস্ক,নরসংদী প্রতিদিন,সোমবার,১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী সব বাসকে ভৈরব থেকে পুরিন্দা পর্যন্ত নরসিংদীর অংশে ১৩ কিলোমিটারেই চাঁদা দিতে হয় পাঁচবার। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী এসব চাঁদা আদায় করে থাকেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসচালক। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলেই মারধরের শিকার হতে হয় বলে জানান চালকরা। এ ছাড়া শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের নিয়ম থাকলেও নরসিংদীতে ওঠানো হচ্ছে ৩০ থেকে ১০০ টাকা।

স্থানীয় লোকজন ও বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর অংশ প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড, সাহেপ্রতাব বাসস্ট্যান্ড, পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ড ও মাধবদী বাসস্ট্যান্ডে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় তাঁদের। কোনো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদা আদায়কারীরা তাঁদের গালাগাল ও মারধর করে। চাঁদা আদায়কারী স্থানগুলোর মধ্যে ইটাখোলা, সাহেপ্রতাব ও পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের কার্যালয় থাকলেও ভেলানগর ও মাধবদীতে কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাঁদের লোকজনের মাধ্যমে এসব চাঁদা আদায় করে থাকেন। তাঁরা চাঁদা আদায়ের কোনো রসিদও দেন না।

গত মঙ্গলবার দুপুরে মহাসড়কের ভৈরব থেকে পুরিন্দা পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ডে প্রত্যেকটি বাস থেকে ৫০ টাকা, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে ৮০ টাকা, সাহেপ্রতাব বাসস্ট্যান্ডে ৩০ টাকা, পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে ৩০ টাকা এবং মাধবদী বাসস্ট্যান্ডে ৮০-১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ইটাখোলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন বলেন, এসব চাঁদা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। তাঁদের আপদে-বিপদে শ্রমিক ইউনিয়ন পাশে দাঁড়ায়। আর ৫০ টাকা করে নয়, আমাদের ইউনিয়নের ১০ টাকা করে চাঁদা ওঠানোর কথা। আমি খোঁজ নিচ্ছি। ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিটি বাস থেকে ৮০ টাকা করে চাঁদা ওঠাচ্ছেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক তরুণ। কিসের টাকা ওঠাচ্ছেন জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, এটা শ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদা। আমি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করি। আমি স্থানীয় ইয়াকুব মোল্লা, নওশাদ মোল্লা ও নয়ন মোল্লার তত্ত্বাবধানে কাজ করি।

এ ব্যাপারে ইয়াকুব মোল্লা বলেন, আমরা ঢাকা মিতালী বাস মালিক সমিতির লোক। আমার লোকজন ২০ টাকা করে ওঠায় বাসের ওয়ে বিল চেকারের খোরাকি হিসেবে। আর নয়ন মোল্লা ও বাছেদের লোকজন ওঠায় ৮০-১০০ টাকা। তারা অন্য মালিক সমিতির লোক। এ ছাড়া পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা ওঠাতে দেখা যায় বজলু মিয়া নামের এক সুপারভাইজারকে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলেই চলে যান। অন্যদিকে মাধবদী বাসস্ট্যান্ডে টাকা ওঠাচ্ছেন গিট্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনিও কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয়রা জানায়, গিট্টু মিয়া ও সামসুল ইসলাম স্থানীয় এনায়েত হোসেন আপেল মিয়া নামের এক প্রভাবশালীর হয়ে চাঁদা ওঠানোর কাজ করেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) নরসিংদী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সওজ কাউকে মহাসড়ক থেকে চাঁদা ওঠানোর অনুমোদন দেয়নি। চাঁদা ওঠানোর বিষয়টি আমার জানাও নেই।

খবর: দৈনিক কালেরকণ্ঠ,মনিরুজ্জামান, নরসিংদী, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *