| ২৪শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ১০ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রজব, ১৪৪০ হিজরী | রবিবার

শিবপুরে নৌকায় উঠলেন মান্নান ভূইয়া পরিষদ নেতা আরিফ মৃধা

শরীফ ইকবাল রাসেল | নরসিংদী প্রতিদিন-
রবিবার,২৩ ডিসেম্বর ২০১৮:
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার নৌকায় উঠলেন বিএনপির সাবেক মহা সচিব প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূইয়া পরিষদের নেতা আরিফ মৃধা। সম্প্রতি নৌকার সমর্থনে নরসিংদীর নির্বাচনী এলাকা শিবপুরের বেশ কয়েকটি জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন এই নেতা।

গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার কর্মী সমর্থক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। বিএনপির সাবেক মহা সচিব আব্দুল মান্নান ভূইয়া মন্ত্রী থাকা কালীন তিনি বিএনপির সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেন। আর সেই সুবাধে তিনি চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে সহজেই জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে মান্নান ভূইয়াকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করলেও তার সাথে ছিলেন তৎকালীন শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিছ রিকাবদার ও আরিফ উল ইসলাম মৃধা।

সেই থেকে তারা বিএনপির সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। আর তাই এলাকায় মান্নান ভূইয়ার অনুসারী হিসেবে আখ্যায়িত হন তারা দুজন। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর গত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্নান ভূইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন। আর বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয় লাভ করেন জহিরুল হক ভূইয়া মোহন।

মান্নান ভূইয়া মৃত্যুর পরও তারা মান্নান ভূইয়া অনুসারী হিসেবেই রয়ে যান। আর প্রতিষ্ঠা করেন মান্নান ভূইয়া স্মৃতি সংসদ। এতে আবুল হারিছ রিকাবদার আহবায়ক ও আরিফ উল ইসলাম মৃধা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মান্নান ভূইয়ার মৃত্যু বার্ষিষী ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম আর চোখে পরিনি এই সংগঠনের।

সবশেষে সংসদের আহবায়ক আবুল হারিছ রিকাবদার বিএনপিতে ফিরে গেলেও রয়ে যান সদস্য সচিব আরিফ উল ইসলাম মৃধা। মান্নান ভূইয়া বিএনপির মহাসচিব হিসেবে থাকাবস্থায় শিবপুরের ব্যাপক উন্নয়ন ও বেকারদের চাকরীদানের ফলে জনগনের মাঝে জনবান্ধব নেতা হিসেবে সুনাম তৈরী হয়। সেই সূত্রে আরিফ মৃধা মান্নান ভূইয়ার সমথর্কদের নিয়ে বিড়াট একটি সমর্থকগোষ্ঠি তৈরী করেন আরিফ মৃধা।

গত ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করার ফলে এই আরিফ উল ইসলাম মৃধা প্রথমত ঘাপটি মেরে বসে থাকে। শেষ পর্যন্ত নৌকার বিপরীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীপ্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র থেকে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে সমর্থন করে তার পক্ষে কাজ করেন। শেষে নৌকাকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সক্ষম হন। এরপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরিফ উল ইসলাম মৃধা প্রতিদ্বন্ধিতা করলে সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা তাকে পূর্ণ সমর্থন দেন এবং মাঠে ময়দানে কাজ করে তাকে নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর কিছুদিন ভালো কাটলেও মাঝামাঝি সময়ে এসে এমপি সিরাজ মোল্লার বিরাজ ভাজনে পরিনত হন আরিফ মৃধা।

অপরদিকে নৌকার প্রার্থী মোহনের বিরাগভাজনতো আগেই হয়ে আছেন। এভাবে সংসদ সদস্য সিরাজ মোল্লা ও জহিরুল হক মোহনের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়অমী লীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তার বিরোদ্ধে অবস্থান তৈরী করেন। এই যখন অবস্থা, তখন আরিফ মৃধা কিছুদিন ঘাপটি মেরে বসে থাকেন।

এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভ করেন শিল্পপতি মনজুর এলাহী। বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কর্মী সমর্থকরা আশা করেছিলেন তিনি বিএনপির হয়ে কাজ করবেন। অবশ্য মিডিয়াকে এক সাক্ষাতে তিনি বলেছিলেন মান্নান ভূইয়ার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করলে হয়তো বিএনপির হয়ে কাজ করবেন।

শেষ পর্যন্ত দেখা যায় তিনি বিএনপি নয়, তাকে সমর্থনকারী সিরাজ মোল্লাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নৌকায় উঠলেন মান্নান ভূইয়ার অনুসারী এই নেতা। আর সম্প্রতি তিনি নৌকার সমর্থনে বিভিন্ন উঠান বৈঠক আর জনসভায় নৌকায় ভোট চেয়ে বক্তব্যও রাখছেন।

তার এই নৌকায় উঠার কারনে মান্নান ভূইয়ার অনুসারীদের অনেকেই হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আশা করছিলাম তিনি আমাদের নিয়ে বিএনপি অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করবেন। কিন্তু তিনি আমাদের বিপরীত প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে নামায় আমরা অনেকেই হতাশ আর ক্ষোভ প্রকাশ করি। আর আরিফ মৃধার এই কান্ডে অনেকেই তার সমর্থক থেকে ছুটে যাবে বলে জানান তারা।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *