| ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | সোমবার

শিল্পমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা

শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৯:
দীর্ঘদিন পর নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই করে নিয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা গণমানুষের নেতা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী সদস্য, চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। এর আগে ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান লে: কর্ণেল (অব) নূর উদ্দিন খান। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেলাব-মনোহরদীবাসীর প্রত্যাশা ছিল একজন মন্ত্রীর। সেই প্রত্যাশা পূরণ করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এখন নতুন মন্ত্রী পরিষদে জায়গা করে নেওয়া নতুন মন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের নিকট দুই উপজেলার তথা পুরো জেলাবাসী প্রত্যাশা অনেক। শিল্প সমৃদ্ধ জেলা হলেও মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা বেলাব-মনোহরদীসহ রায়পুরা উপজেলা কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এর আগে রায়পুরা থেকে রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু মন্ত্রী হয়ে অবহেলিত রায়পুরার আশাব্যঞ্জক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়া ১৯৭৯ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার প্রথমবারের মত মন্ত্রী হয়েছিলেন নরসিংদী সদরের এমপি আব্দুল মোমেন খান। এরশাদ শাসনামলে চতুর্থ জাতীয় সংসদে হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন রায়পুরার মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া। ১৯৮৯ সালে ৫ম সংসদেও উপ-মন্ত্রী হয়েছিলেন মাঈন উদ্দিন ভূইয়া।

এরপর ১৯৯১ সালে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদে জেলা থেকে দুইজন মন্ত্রী হয়েছিলেন। এরমধ্যে ছিলেন পলাশের ড. আব্দুল মঈন খান ও শিবপুরের আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদে পুণরায় মন্ত্রী হন আব্দুল মঈন খান ও শিবপুরের আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। দশম জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সদরের এমপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু। এসব মন্ত্রীদের সাধ্যমত চেষ্টায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছিল নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলায়।

নরসিংদীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের নির্বাচনী এলাকা বেলাব-মনোহরদী এখনো তুলনামূলকভাবে রয়েছে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত কৃষি নির্ভর বৃহৎ এ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন খুব বেশি হয়নি। হাতেগোনা দুই একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়া এ এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সন্তোষজনক থাকলেও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে এ জনপদের মানুষ। কৃষি প্রধান অথচ রাজনৈতিক ও শিক্ষা সচেতন এ বৃহৎ এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্ধ। এবারের মন্ত্রীসভায় অনেকটা অবহেলিত জনপদের সংসদ সদস্যদেরকেই মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে দেশের সকল এলাকায় উন্নয়নে সমতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলা তথা দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে বেলাব-মনোহরদীর উৎপাদিত শাকসবজির। এখানকার বেশিরভাগ সবজি রাজধানী ঢাকার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। নানা কারণে দিনের পর দিন শাকসবজি উৎপাদনে জড়িত কৃষকরা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারছিলেন না।

বছরের বেশিরভাগ সময় সবজি উৎপাদন করে ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হয় কৃষককে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে, কৃষিভিত্তিক শিল্প, কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে সবজিচাষীদের লোকসান গুনতে হতো না। সেই সাথে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা হলে লাগব হতো স্থানীয় বেকার সমস্যা।

মনোহরদী ও বেলাব উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা। শুধু প্রধান প্রধান সড়ক পাকা করলেই হবে না। দুই উপজেলা সদরকে আধুনিকায়ন করতে হবে। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের রাস্তাগুলোকেও যেন পাকাকরণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়।

সর্বোপরী এলাকার কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আর উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার সমস্যা সমাধানে এলাকায় অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হলো এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। পাশাপাশি জেলার শিল্পসমৃদ্ধ অন্যান্য উপজেলা তথা জেলার উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা শিল্পমন্ত্রীর কাছে এখন সময়ে দাবী।

জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক তারেক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, একটি এলাকার উন্নয়নে একজন মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দীর্ঘদিন পর আমরা নরসিংদীবাসী একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পেলাম। নতুন শিল্পমন্ত্রী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে নরসিংদীবাসীর তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাদের শিল্পসমৃদ্ধ এ জেলায় একজন মন্ত্রী দিয়েছেন। যিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসহ যোগ্যতা, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এ শিল্পের জেলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। তথা দেশের শিল্পখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *