| ২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী | বুধবার

নদী দখলমুক্ত করতে সেনাবাহিনী চায় ‘নোঙর’

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বৃহস্পতিবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৯:
নদী দখল হওয়া মানে মাতৃভূমি দখল হয়ে যাওয়া। সুতরাং নদীমাতৃক দেশের সকল নদ-নদী খাল দখলমুক্ত করতে দ্রুত সেনাবাহিনী নিয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি নদী দখলদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে নদী নিরাপত্তা সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানায।

মানববন্ধ‌নে নোঙরের সভাপতি সুমন শামস বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকারে ঘিরে আছে চারটি নদ-নদী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ। এই নৌপথ ঘিরেই ঢাকা শহরে বিস্তার লাভ করেছে। ১৯৭০ সালে এই দেশের নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ৭০ বছরের সেই নদী পথের দৈর্ঘ বর্তমানে ৩ হাজার কিলোমিটার। ক্রমেই সরু হয়ে যাচ্ছে ঢাকার তার পাশের সব নদ-নদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘চারটি নদীর মধ্যে তুরাগের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে তুলে এটি এমন ভাবে দখল করা হয়েছে, যার ফলে পরিণত হয়েছে সরু খালে। ফলে স্যাটেলাইট ইমেজে তুরাগকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থা চালু থাকলে এক সময় হারিয়ে যাবে তুরাগ।’

নোঙর অনুসন্ধান করে দেখেছে, নদ-নদীগুলো দখল করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর ও বসিলায় নদী দখল করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি। এলাকা দুটিতে এর হার যতাক্রমে ৫০ ও ৫৬ শতাংশ। এছাড়া আব্দুল্লাপুর, গাবতলী, ডেমরা, কাচপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় নদী দখল করে ৩৮-৪৮ শতাংশ স্থানে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। গাছপালা ও কৃষি জমি হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে নন্দীপাড়ার ৭৩ শতাংশ জমি। আর পরিত্যক্ত জমি হিসাবে বেশি অংশ রয়েছে বসিলায় প্রায় ৩০ শতাংশ।

‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, হাতিরঝিলের মতো অপরাধের অভয়ারণ্য দখলমুক্ত করে নান্দনিক একটি দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান গড়ে তুলতে যেভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেয়া হয়েছিল, ঠিক সেরকম করেই দখল হয়ে যাওয়া সকল নদী উদ্ধার করতে দ্রুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেয়া দরকার।’

মানববন্ধনে নোঙরের সভাপতি ছাড়াও বিভিন্ন পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *