| ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | রবিবার

মুজিবকন্যার মন্ত্রী সমাচার ও রাজনৈতিক সংগ্রামের নানাদিক

নিউজ ডেস্ক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বৃহস্পতিবার,২৪ জানুয়ারি ২০১৯: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রত্নগর্ভা মাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। ছোট মেয়ের নাম শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছার পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একচেটিয়া বিজয়ের মধ্য দেয় টানা তৃতীয়বার তথা চতুর্থবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির কন্যা এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা।

প্রারম্ভিক জীবন
টুঙ্গীপাড়ায় বাল্যশিক্ষা শেষ করে ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে উঠেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। এসময় তারা দুই বোন পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন।

১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন হাসিনা। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছেন। তিনি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক মহিলা কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাজনীতি

আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। তখন তিনি নয়া দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর ৬ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসানের পর তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তাঁর দল ১৯৮৬ সালে এই সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীকালে তিনি এবং তাঁর দল এরশাদ বিরোধী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন ও ১৯৯০ সালে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়। ১৯৯৬ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন যা বর্তমানে অনেক দেশে ব্যবহার হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তাঁর আন্দোলনে জয়ী হওয়ায় পরবর্তীতে তাঁর দল জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন কিছু নতুন সমস্যা নিয়ে।

আন্দোলন
১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং সংবিধানের ৫১ এবং ৫৬ ধারা মোতাবেক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক ফর্মুলা ঘোষণা করেন। ১৯৯১ সালের স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা।

১৯৯৬ সালে তার দল আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে বামপন্থি দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাধ্য করে। ওই বছর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (নাজিউর রহমান মঞ্জু) ও ইসলামী ঐক্যজোট এর নির্বাচনী জোটের কাছে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। শেখ হাসিনা দলের এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন তারই মনোনীত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সাঈদকে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দেশের পঞ্চম সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারে পরিবর্তন করতে সংসদে সকল দলের নেতৃত্ব দেন। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা ১৯৯৪-১৯৯৬ সালে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে আমাদের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজিত হয়েছিল। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। নির্বাচনের পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা কৃষক এবং দুঃস্থ, ভূমিহীন এবং দারিদ্র্য-পীড়িত কৃষকদের কল্যাণে অনেক নব এবং বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুস্থ এবং বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক লোকের জন্য শান্তিনিবাস স্থাপন, গৃহহীন মানুষদেরকে আশ্রয় দানের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্নের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যারা ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শান্তির সপক্ষে একটি শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলেছিলেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। বিজয়ী দলের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি ৬ জানুয়ারি ২০০৯-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ২৬০টি আসন লাভ করে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পায় মাত্র ৩২টি আসন।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সপ্তম, অষ্টম এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ড.ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতা ধরে রাখা এবং রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমনের নামে মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক এ ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষিত হওয়া প্রভৃতি কারণে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিলের উদ্যোগ নেয়।

পরবর্তীতে নবম সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরইমধ্যে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মত শপথ নেন শেখ হাসিনা।

এসময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে। যদিও এসময়কালে বেশ কয়েকবার বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন, সহিংসতা ও বিরোধীদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
২০১৭ সালের জুলাইয়ে বিএনপি ঘোষণা করে যে, তারা একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবে তবে তা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে হতে হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নিশ্চিত করেন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে তবে দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর সেটি পুনরায় অনিশ্চিত হয়ে পরে। তবে পরবর্তীতে তারা পুনরায় নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বেশ কয়েকবার মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু ২০১৮ সালের নভেম্বরে তারা নিশ্চিত করে তারা মহাজোটের সঙ্গেই থাকবেন।

গণফোরামের সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি রাজনৈতিক ঐক্য গঠিত হয়। ক’দিন পরেই যোগ দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ ৫টি চারটি ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মইনুল হোসেন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রাক্কালে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ এতে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তাদের যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগদান করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মোট ১ হাজার ৭৩৩ ও সতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১২৮ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৬১ জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ১৬টি দলের প্রার্থীদের কয়েকজন নৌকা প্রতীকে ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ দল ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে। তবে মহাজোটে থাকলেও এরশাদের জাতীয় পার্টি নিজেদের লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে বিকল্পধারার, তরিকত ফেডারেশন ১টি করে আসনে, জাসদ ৩টি আসনে ও ওয়ার্কার্স পার্টি ৫টি আসনে। অন্যদিকে বিএনপি ছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে, গণফোরাম ৭টি আসনে, জেএসডি ৪টি আসনে, খেলাফত মজলিস ২টি আসনে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও এলডিপি ৪টি করে আসনে, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম ৩টি আসনে এবং বিজেপি ও কল্যাণ পার্টি ১টি করে আসনে নির্বাচন করে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে নির্বাচনের দিন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম, বিজেপি আন্দালিব রহমান ভোট বর্জন করেন।

৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হননি। আর গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্ল্যাপুর) আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা যাওয়ায় আগেই এই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বেশির ভাগ আসনেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি পায় ২৫৭টি আসন। আসনপ্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানের রয়েছে জাতীয় পার্টি। লাঙল প্রতীকে দলটি পায় ২২টি আসন। এর পরের স্থানে আছে বিএনপি। বিভিন্ন সময়ে মোট চার মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি পায় মাত্র ৫টি আসন।

এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি (বাসদ) ৩টি আসন, গণফোরাম ২টি (এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ মনসুর এবং গণফোরাম নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান নির্বাচিত হয়েছেন), বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।

হামলা শিকার
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় এক জনসভায় বক্তৃতাদানকালে গ্রেনেড হামলায় এই নেত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ওই হামলায় তার ঘনিষ্ঠজন এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ১৯ জন মৃত্যুবরণ করেন ও শতাধিক আহত হন। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এই হামলাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করা হয়। এই গ্রেনেড হামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে করার জন্য ‘জজ মিয়া’ নাটক সহ বেশকিছু প্রহসন সৃষ্টি করেছিল তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোট প্রশাসন।

পরবর্তীতে দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতা নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (বর্তমানে বাংলাদেশে বিলুপ্ত) নেতা মুফতি হান্নানসহ বেশকিছু তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম।

২০১৮ সালের অক্টোবরে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এর আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

গ্রেফতার ও কারাবাস
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হন ২০০৭ সালে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় যৌথ বাহিনী শেখ হাসিনাকে তাঁর বাসভবন ‘সুধা সদন’ থেকে গ্রেফতার করে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অন্তরীণ রাখা হয়।

গ্রেফতারের পূর্বে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জিল্লুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। একটি হল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য হত্যা মামলা এবং অন্যটি হল প্রায় তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা। এর মাঝে একটির বাদী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি তুলে নেন। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছিল শেখ হাসিনাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে। জেল থেকে মুক্তিলাভের পরে তিনি চিকিৎসার্থে কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন। এরপর দেশে ফিরে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।

১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর শাসনামলে তাঁর দূরদর্শী বৈদেশিক নীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সফল অংশগ্রহণ বিদেশে আমাদের দেশের ইমেজ উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে শান্তির দূত শেখ হাসিনা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিস্ফোরোন্মুখ পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশের ইমেজ উজ্জ্বল হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করে।

সম্মাননা ও পুরস্কার
সামাজিক কর্মকাণ্ড, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য শেখ হাসিনা সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রিসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আবের্টে বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্ডি লিবারেল আর্টসে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসিফো ডিগ্রি প্রদান করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক দেশীকোত্তমা (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রি প্রদান করেন।

শান্তি এবং গণতন্ত্রের জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করেন।

গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশ্ব বিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।

কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় ২০০১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

পিপলস ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া ২০০৫ সালে শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, রাশিয়া শেখ হাসিনাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ায় এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্রান্সের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালের ২৫ মে শেখ হাসিনাকে ডিপ্লোমা এবং পদক প্রদান করে।

বাংলাদেশে বহুসংস্কৃতির গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.টি ডিগ্রি প্রদান করে।

রাজনৈতিক সাহস এবং প্রজ্ঞার দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫ বছরের জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তি বয়ে আনতে অসাধারণ ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর হোফো-বনি শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়।

দূরদর্শিতা, সাহস এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক ক্ষেত্রে অর্জনের স্বীকৃতিস্বরুপ শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যানডলফ উইম্যানস কলেজ শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাপূর্ণ পার্ল এস বাক অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৯ প্রদান করে।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা-এফএও শেখ হাসিনাকে ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদক প্রদান করে। সর্ব ভারতীয় শান্তি পরিষদ ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে “মাদার তেরেসা পদক” প্রদান করে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অহিংস ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশে অবদান রাখায় নরওয়ের অসলোর মহাত্মা এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে এম কে গান্ধী অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৮ প্রদান করে।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এর রোটারি ফাউন্ডেশন কর্তৃক শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো ঘোষণা করা হয়। তাঁকে ১৯৯৬-৯৭ এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে মেডেল অব ডিসটিঙ্কশন প্রদান করা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব লায়ন্স ক্লাবস কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে হেড অব স্টেট মেডেল প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনাকে ২০০৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসোসিও (এশিয়ান-ওসেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন) আইটি অ্যাওয়ার্ড- ২০১০ প্রদান করে। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো এর নিকট থেকে শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্লোবাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

নারী এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নব ধারণার জন্য ইউএন ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া এবং বার্বুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং সাউথ সাউথ নিউজ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলা একাডেমী ফেলোশিপ প্রদান করে।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি তাঁকে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৪ সালে ইউনেস্কো ‘শান্তিবৃক্ষ’ পুরস্কার পান।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য তিনি সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বের জন্য ২০১৫ সালে ইউএন পরিবেশ পুরস্কার (চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ) লাভ করেন। একই বছরের ১৬ নভেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব দ্য ইউনিভার্সিটি’ ডিগ্রি পান।

২০১৮ সালে ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি প্রদান করা হয় তাঁকে।

২০১০ সালের ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএন ক্ষমতাধর ৮ এশীয় নারীর তালিকা প্রকাশ করেছিল। উক্ত তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঠিক পিছনে ছিলেন এবং ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিলেন। ২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৯তম স্থানে আছেন। ২০১৪ সালে এই তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ৪৭তম।

বিশ্ব পর্যায়ে ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে ছিলেন। তার পূর্বে এবং পশ্চাতে ছিলেন যথাক্রমে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেন জনসন সার্লেফ এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জোহানা সিগার্ডারডটির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের ১২ জনের নাম নির্বাচিত করে।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- “ওরা টোকাই কেন?”, “বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম”, “দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা”, “আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম”, “আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি”, “সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র” প্রভৃতি।

তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ্ পালন করেছেন। তিনি ‘‘জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’’- এর সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

শেখ হাসিনার স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা ৭ জন।

একাদশ জাতীয় সংদসের মন্ত্রিসভায় সংসদপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখেন। নিচে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম ও ভূমিকার সংক্ষিপ্ত বিররণ তুলে ধরা হলো:

প্রধানমন্ত্রী: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভা সম্মিলিতভাবে মহান জাতীয় সংসদে তাঁদের নীতি-নির্ধারণ ও কর্মপন্থা উপস্থাপন করেন। এ বিষয়গুলো তাদের রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যপ্রণালীর সাথেও জড়িত। বাংলাদেশের বর্তমান ও ১৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অদ্যাবধি ক্ষমতাসীন রয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি একাধারে বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ: বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদের এর নমনীয় কার্যাবলী পরিচালনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকার মন্ত্রণালয়/বিভাগের মধ্যে পার্থক্যকে বিশৃঙ্খলা ও আন্তঃসম্পর্কীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে সচিবের স্থায়ী /আডহক কমিটিসমূহের মাধ্যমে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে সিদ্ধান্তে সহায়তা করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবালয়ে শীর্ষ নীতি-ব্যবস্থাপনা বিভাগ যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করে। এ বিভাগ মন্ত্রিসভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিশেষভাবে যেসব বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয়/বিভাগের সহযোগিতা ও যৌথ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় কার্যকর করে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান। তিনি শীর্ষপদের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মনোনীত হন। পদমানক্রমে তাঁর পদমর্যাদা সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনী প্রধানদের উপরে। তিনি আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা বিষয়ক কয়েকটি সচিব পর্যায়ের কমিটিরও প্রধান। তিনি প্রশাসন উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। বস্ত্তত মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রিসভার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম এ সংস্থাটি জনপ্রশাসনের সেবা প্রদান সম্পর্কিত বিষয়াদির ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করার প্রধান প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। এই মন্ত্রণালয়টি একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। সাধারনত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সশস্ত্র বাহিনী, আন্তঃবাহিনী দপ্তর এবং প্রতিরক্ষা সহায়ক অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন। এ মন্ত্রণালয় জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল-এর নির্বাহী কমিটির স্থায়ী সদস্য।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ: বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সমান্তরাল বিভাগ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আদেশ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়, যেটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং মহিলা ও শিশুদের প্রাতিষ্ঠানীকরন ও উন্নয়নমূলক কার্যাবলী রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।

খবর: মিথুন রায়- ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
[তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট]

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *