| ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | মঙ্গলবার

মৃত্যুর চই-চই ডাকে উড়ে গেল পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম হাঁস

পৃতিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ হাঁস ট্রেভর

রকমারি ডেস্ক । নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার,৩০ জানুয়ারি ২০১৯:
প্রায় পুরো জীবনটাই একলা কাটিয়ে দিল পৃতিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ হাঁস ট্রেভর। সঙ্গীহীন, বন্ধুহীন, প্রেমহীন, প্রতীক্ষাহীন এ জীবন কাটিয়ে জীবনকে ছুটি দিল সে।

২০১৮ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের ছোট্ট নিউ দ্বীপের বাসিন্দা ট্রেভর। এ দ্বীপে সে কোথা থেকে এসেছে কেউ বলতে পারেনা। কেউ ধারণা করে নিউজিল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড থেকে এসেছে সে, কেউ আবার মনে করেন পাশের টোঙা দ্বীপের বাসিন্দা ছিল ট্রেভর। পাড়া বেড়াতে পৌঁছে গিয়েছে নিউ দ্বীপে।

ট্রেভর নিউ দ্বীপে রীতিমতো সেলিব্রিটি ছিল। কারণ, একমাত্র ট্রেভর ছাড়া এই দ্বীপে কখনও কোনো হাঁস দেখেননি দ্বীপবাসী। দ্বীপে সে বেশ অভিজাতও ছিল। ভুট্টা দানা, ওটস খেতো সে। দ্বীপের মানুষজন তাকে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু বেচারা ট্রেভর! স্বজাতির কারও মুখ দেখতে না পেয়ে দিন কেটে যেত মনখারাপেই। ধীরে ধীরে অবশ্য একটা মুরগির সঙ্গে একটু বন্ধুত্ব হয়। ওয়েকা নামে ওই মুরগি ট্রেভরের সঙ্গে খেলা করত। দ্বীপের বাসিন্দারা প্রতিদিন তাকে খাওয়াতে আসতেন। এমনকি তার বাসস্থান খানাটিও পরিষ্কার করে দিতেন। ট্রেভর যাতে ভালো থাকে, তার আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন দ্বীপবাসী।

কিন্তু মুরগি ও মানুষের বন্ধুত্ব তাকে বাঁচাতে পারলো না। কয়েকটা কুকুর ট্রেভরকে একলা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায়। ট্রেভর একা প্রতিরোধ করতে পারেনি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। ট্রেভরের মৃত্যুর খবর শুনে নিউ দ্বীপে শোকের ছায়া নেমে আসে। দ্বীপবাসী তার আত্মার শান্তি কামনায় নীরবতা পালন করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিস ফিন্ডলে বলছেন, ‘আমি প্রতিদিন ওর জন্য এক বস্তা করে ওটস নিয়ে যেতাম। কাজ থেকে ফেরার পথে খাওয়াতাম। এবার থেকে সেই রুটিনে ছেদ পড়ল। মিস করব।’

একলা ঘুরে ঘুরে বন্ধুকে খুঁজেই চলেছে ওয়েকা নামের সেই মুরগিটি। কিন্তু নীল জলরাশি, প্রবালের দ্বীপের পাশে সবুজে ভরা, নির্জন নিউ দ্বীপের মায়া কাটিয়ে, এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গিয়েছে ট্রেভর।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *