| ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

ঘুরে আসুন ঢাকার আশেপাশে-আড়াইহাজার মেঘনার চর

পর্যটন ডেস্ক | নরসিংদী প্রতিদিন-
শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৯:

যারা ঢাকায় থাকি। সময় পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে চাই। কিন্তু একদিনের মধ্যে ঢাকার আশেপাশে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, তা আমরা অনেকেই জানি না। তাই ঘুরতে যেতেও পারি না। আসুন জেনে নেই ঢাকার আশেপাশে ঘুরতে যাওয়ার কিছু জায়গার নাম।
আড়াইহাজার মেঘনার চর:

ঢাকার কাছে আড়াইহাজার চর এলাকা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খুব অল্প সময়ে। বিস্তীর্ণ এলাকায় এরকম মনোরম পরিবেশ আর কোথাও নেই শহরের আশেপাশে।

সারাদিনের জন্য ঘুরতে আসতে পারেন এখানে। নদীর তীরে ট্রলারে সন্ধ্যার সময়টা কাটাতে পারেন। ঢাকার কাছে মেঘনা নদীর মাঝখানে এই বিশাল বালির চর। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশিই কাশবন। এখানেবালি অনেক শক্ত তাই কোন চোরাবালির ভয় নেই। ভাটার সময় এখানে ঘুরতে যাওয়া বেশি সুবিধার। এ সময় ১০-১৫ ফিট বালির চর থাকে। দেখতে পারবেন কাশবন, খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ।

যেভাবে যাবেন:

প্রথমে গুলিস্তান থেকে দোয়েল বাসে স্বদেশ পরিবহন এ মদনপুর যাবেন। ভাড়া নিবে ৪৫ টাকা। সেখানে নেমে আড়াইহাজার এর জন্য সিএনজি নেবেন। ভাড়া নিবে ৫০ টাকা। মদনপুর নামার পর আশেপাশে অনেক দোকানপাট বা হোটেলে খেয়ে নিতে পারেন। যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া এবং ট্রলারের খরচ মিলিয়ে মোটামোটি ৩/৪ জনের জন্য ৭০০-১০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

ছুটি রিসোর্ট:

গাজীপুর জেলায় যেকয়টি রিসোর্ট রয়েছে ছুটি রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য একটি। ঢাকার আশে পাশের রিসোর্ট গুলির মধ্যে অন্যতম এ রিসোর্ট। এই রিসোর্টটি প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এটি রিসোর্ট এবং পিকনিক কর্নার দুটি অংশে বিভক্ত। রিসোর্টের গা ঘেঁষে গভীর জঙ্গল। ভেতরে দুটো বড় মাঠ, অসংখ্য গাছ, ঝোপঝাড়। এর চারপাশ ঘিরে আছে একটি বিশাল দিঘি। তাতে লাল পদ্ম ফুটে আছে। দিঘীতে ভ্রমণের জন্য আছে নোকার ব্যবস্থা।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকার গুলিস্তান, মহাখালী থেকে বিআরটিসি কিংবা অন্য যেকোনো বাসে গাজীপুর শহর। সেখান থেকে রিকশায় তিন কিলোমিটার আমতলী বাজার। আমতলী বাজারের পাশেই ছুটি রিসোর্ট ও পিকনিক কর্নার।

গোলাপ গ্রাম:

ছোট ছোট দ্বীপ সবুজে ঢাকা। চারপাশে নীলাভ জলের ঢেউ। পানকৌড়ির ডুব সাঁতার, বকের একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরার দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে নৈসর্গিক এক ভুবনে। নদীর চারপাশে সবুজে ঢাকা গ্রামগুলো দেখতে মনে হবে ছবির মতো। যেতে পারেন নদীর ওপারে গ্রামে। বড় বটবৃক্ষের নিচে ছোট ছোট দোকান, নদীর মাছ বিক্রি করা, মিষ্টির দোকান, গ্রাম্য খাবারের হোটেল, পাশেই শাক-সবজির মাচা। তার পাশেই বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। কিভাবে গোলাপের চাষ করা হয় তা নিজ চোখে দেখতে পাবেন। গোলাপের চারা তৈরি, গোলাপ খেত পরিচর্যা, গোলাপ তোলা দেখতে দেখতে আপনার মন হারিয়ে যাবে ফুলের রাজ্যে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে যেতে হলে মিরপুর মাজার রোড হয়ে বেড়িবাঁধ সড়কে যাবেন। এ ক্ষেত্রে মিরপুর-১ থেকে বাস, টেম্পো, অটোরিকশা বা রিকশায় চড়তে হবে। বেড়িবাঁধ তুরাগের তীর তথা শিন্নিরটেক ঘাট থেকে ট্রলারে উঠতে হবে। এই জলযান আপনাকে সাদুল্যাপুর ঘাটে নিয়ে যাবে। তবে শুকনো মৌসুমে নদী পার হয়ে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হবে।

নক্ষত্রবাড়ী:

গাজীপুরে অবস্থিত বেসরকারি রিসোর্টগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত নক্ষত্রবাড়ী। নক্ষত্রবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি জনপ্রিয় নাম। প্রকৃতিপ্রেমীদের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঢাকার খুব কাছে একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করে অভিনেতা তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত দম্পতি ১৪ বিঘা জমির ওপর নক্ষত্রবাড়ী নির্মাণ করেন। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নক্ষত্রবাড়ীর। ফোন: ০১১৯২১৫০৫৬৩, ০১৯১৯৩১৮০০৯।

বেলাই বিল:

গাজীপুরের বেলাইবিল মনোরম একটি জায়গা। চেলাই নদীর সাথেই বেলাই বিল।এখানে ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা দুটোই পাওয়া যায়। যেটাতে ভালো লাগে উঠে পড়ুন। সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিতে পারেন এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিলে নিজেরাই চালিয়ে ঘুরতে পারেন।

বিকেলে এই বিলের চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়, সঙ্গে শাপলার ছড়াছড়ি। শুধু চারিদিক তাকিয়ে থাকবেন। আবার কিছুক্ষণ পরপরই বাতাসের ঝাপটা লাগবে গায়ে। বেশি সময় নিয়ে গেলে অবশ্যই খাবার নিয়ে যাবেন।

যেভাবে যাবেন:

গাজীপুর সদর পর্যন্ত যাওয়ার পর, সেখান নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার যাবেন। ভাড়া নিবে ১০ টাকা করে। রিকশাতেও যেতে পারেন। কানাইয়া বাজারে নেমেই সামনে ব্রিজ আছে, ব্রিজ পার হলেই বিশাল এক বিল দেখতে পাবেন। সেটাই বেলাই বিল।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *