| ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী | সোমবার

হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ‘হিরো’ মসজিদের খাদেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নরসিংদী প্রতিদিন-
শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯:
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টার্চে লিনউড মসজিদে খ্রিস্টান বন্দুকধারীদের হামলায়র সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে হিরু হলেন খাদেম। গুলিবর্ষণের সময় যখন মুসল্লিরা লুটিয়ে পড়ছিলেন, তখন অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে তিন ব্যক্তি হামলাকারীকে ঠেকাতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন বন্দুকধারীর হাত থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নিতে সক্ষম হন ওই খাদেম। ফলে সেখানে হতাহত কম হয়, বেঁচে যায় অনেক প্রাণ।

কিন্তু আল নূর মসজিদে বন্দুকধারীকে ঠেকানো যায়নি। হঠাৎ হামলা হওয়ায় মুসল্লিরা কিছু বুঝে উঠার আগেই গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়েন। সামনের দিকে দৌড়োদৌড়ি করে মসজিদের অন্যান্য প্রবেশপথ ও জানালা দিয়ে কোনমতে বেরিয়ে যান অনেকে। যার কারণে সেখানে প্রতিরোধ গড়ার মতো মানসিক শক্তি বা সাহস কারোই ছিল না।

হামলায় বেঁচে যাওয়া দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড অনলাইন। লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর অস্ত্র কেড়ে নেয়া যুবককে ‘হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

লিনউড মসজিদে হামলার সময় সেখানে ছিলেন সৈয়দ মাজহারউদ্দিন। তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন ঘটনা। বেঁচে যাওয়া মাজহারউদ্দিন বর্ণনা করেন তার বন্ধু কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দুকধারীকে নিবৃত্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

মাজহারউদ্দিনের ভাষায়, চারপাশে মানুষ ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি গুলি থেকে নিজেকে আড়াল করতে চেষ্টা করলাম। আমি যখন আড়াল নিই তখন বন্দুকধারী প্রধান গেটের দরজা দিয়ে ভেতরে আসে। মসজিদে তখন ৬০-৭০ জন লোক ছিল। মসজিদের মূল দরজার পাশে বৃদ্ধ লোকেরা বসে প্রার্থনা করছিলেন। বন্দুকধারী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

মাজহারউদ্দীন বলেন, বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালাচ্ছিল। এ সময় মসজিদ থেকে একজন লোক বন্দুকধারীকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। তিনি একজন তরুণ। যুবকটি মসজিদের খাদেম। তিনি সুযোগ বুঝে বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু সময় ধস্তাধস্তির পর তিনি অস্ত্রটি কেড়ে নিতে সক্ষম হন।

ওই যুবককে নায়ক আখ্যায়িত করে মাজহারউদ্দিন বলেন, যুবকটি বন্দুক কেড়ে নিলেও ওই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে ঠিকমতো ট্রিগার খুঁজে পায়নি। এর মাঝে বন্দুকধারী সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে যুবকটি তার পিছু দৌড়ে যায়। কিন্তু লোকটি একটি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়, যেটিতে তার সঙ্গীরা অপেক্ষা করছিল।

এদিকে ডিনস এভিয়ায় আল নূর মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় একজন বেঁচে থাকা খালেদ আল-নোবানি ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে আল নূর মসজিদের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দেন। আল-নোবানি ও আরেকজন যুবক চেষ্টা করেছিলেন বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয়ার। তিনি বলেন, আল নূর মসজিদের ভেতরে সন্ত্রাসী যুবক, বৃদ্ধ, নারী সবাইকে গুলি করছিল। আমি একটি দরজা দিয়ে চলে যাই, গেটটি ভেঙে প্রথমে বাচ্চাদের সরাতে শুরু করি। আমার বন্ধুরা সাহায্য করে।

তিনি বলেন, একজন লাফ দিয়ে বন্দুকধারীর অস্ত্রটি ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু বন্দুকধারী তার দিকে সরাসরি গুলি চালায়। আল নোবানি জানান, তিনিও ওই লোককে অনুসরণ করে বন্দুক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বুঝতে পারেন, তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করতে পারবেন না।

আল-নোবানি বলেন, ‘বন্দুকধারী মসজিদের ভেতর গুলি চালানোর সময় বাজে কথা বলে আর গান গেয়েছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের পৌঁছুতে দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন নোবানি। তিনি বলেন, পুলিশ পৌঁছতে ২০ মিনিট সময় নেয়। আমরা শহরের মাঝখানেই আছি। কোনো ট্রাফিক ছিল না। সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো যেত।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *