| ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২১শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

পলাশে সালিশে হামলা চালানো যুবলীগ নেতা দেলুবাহিনী এলাকা ছাড়া

স্টাফ রিপোর্টার। নরসিংদী প্রতিদিন-
রোববার ২৪ মার্চ ২০১৯:
নরসিংদীর পলাশের ডাংগায় সালিশ দরবারে হামলা চালানো সেই যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ তার বাহিনী এখন এলাকা ছাড়া। শনিবার (২৩ মার্চ) পলাশের ডাংগায় কেন্দুয়াব নামক স্থানে একটি পারিবারিক সালিশে হামলা চালায় ডাংগা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। শুধু তাই নয়, দেলু বাহিনীর হামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ৫ ব্যক্তি আহত হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। অবস্থা বেগতিক দেখে দেলু বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুড়ে এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে পালিয়ে যায়। এসময় দেলুর কাছে থাকা পিস্তলের গুলিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদল, স্থানীয় যুবক কাজল মিয়া, শাহ আলম, নাজিম উদ্দিন ও ইব্রাহিমসহ ৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে কাজল ঢাকা এবং রহিম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম নরসিংদী সদর হাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা: আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের কানে পৌছলে তিনি বিষয়টি সঠিক তদন্ত করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নির্দেশনার পর থেকে হামলাকারী দেলুসহ তার বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে এলাকায় শান্তির সুবাতাস বইছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আলমগীর জানান, কেন্দুয়াব এলাকার মামুন ও বাতেন মিয়ার মধ্যে জায়গা জমি নিয়ে একটি বিরোধ ছিল। যা সম্প্রতি সালিশ দরবারে ফয়সালাও হয়েছে। এরই চুড়ান্ত ফয়সালার লক্ষ্যে কেন্দুয়াব মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম বাদলের সভাপতিত্বে একটি সালিশ বসে। এই খবর জানতে পেয়ে স্থানীয় ডাংগা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু ৩০/৪০টি মোটরসাইকেল নিয়ে সভায় হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সালিশের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদলকে মারধর শুরু করে। এসময় সালিশের অন্যলোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা ধাওয়া করলে দেলোয়ার গুলি শুরু করে। এসময় জনগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পরে। এহামলায় গুলিতে কাজল মিয়া, শাহ আলম ও নাজিম উদ্দিন, ইব্রাহিমসহ ৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সালিশের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদল জানান, যুবলীগ সভাপতি দেলু অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সালিশে এসেই আমার ওপর হামলা চালায়। গুলি চালাতে থাকে। আমাদেরকে মারপিটের পর দুটি বাড়ি ও ভাংচুর করে।
পলাশ থানার অপিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর এরাকায় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে দেলু ও তার বাহিনীর সদস্যরা এখন এলাকা ছাড়া। তাদের আর এলাকায় দেখা যাচ্ছেনা। তারা এলাকায় আসা মাত্রই পুলিশ তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Print Friendly, PDF & Email

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published.