| ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | শনিবার

ট্রাফিক পুলিশ নেই তবুও থেমে যায় গাড়ী

এম.শরীফ হোসেন, দুবাই থেকে | নরসিংদী প্রতিদিন-
শুক্রবার,০৫ এপ্রিল ২০১৯: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সড়কগুলোতে চলতে গেলে গাড়ী চালকদের সুন্দর ও সূশৃঙ্খল ড্রাইভিং চোঁখে পড়ে। এতে অখাগ হতে হয় ট্রাফিক পুলিশ নেই তবুও থেমে যায় গাড়ী।

প্রতিদিনই বাংলাদেশের মিডিয়া গুলোতে চোঁখ বুলালেই নজড়ে পড়ে দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে।

এ রকম সংবাদে প্রায়ই সড়ক মহাসড়কে গাড়ী ভাঙ্গচূড় সহ নিরাপদ সড়কের দাবীতে চলে সড়কের উপর মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন। সড়ক দূর্ঘটনা হতে নিজেদের রক্ষা করার পাশাপাশি দোষীদের বিচার দাবী করে এসব আন্দোলনে কোথাও সাধারণ জনতা কোথাওবা স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি সড়ক দূর্ঘটনার পরবর্তী ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এসবই সামনে এসে হাজির হয়।

এতো কিছুর পরও দেশের সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়নি। তার মূলে দেশের সড়ক দূর্ঘটনা রোধকল্পে প্রণয়ন করা আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবকেই দায়ী করেছে বিশ্লেষকগণ।

অথচ বহির্বিশ্বে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে,সেসব দেশে প্রতিটি সেক্টরে যেমন নিজস্ব আইন রয়েছে তেমনি তার সঠিক প্রয়োগও রয়েছে। ফলে দুর্নীতি ও দূর্ঘটনা ছাড়াই সবকিছু ঠিকঠাক মতই সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিজ নিজ সেক্টরগুলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সড়কগুলোতে চলতে গেলে গাড়ী চালকদের সুন্দর ও সূশৃঙ্খল ড্রাইভিং চোঁখে পড়ে।
এখানে কোন ট্রাফিক পুলিশের রাস্তায় সিগন্যাল এর পাশে দাড়িয়ে হাত উঁচুনিচু করে বাঁশিতে ফুঁকের মাধ্যমে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ডিউটি করতে দেখা যায়না।
ফলে পথচারী বা জনগনকেও চলার সময় বাঁশির ফুঁকে কানকে ঝাঁজালো করতে হচ্ছেনা।

চালকগণ ড্রাইভিং আইনানুযায়ী সড়কে গাড়ী ড্রাইভ করছে।ওভারটেক,নন ওভারটেক, জেব্রা ক্রসিং, গাড়ির গতি সবকিছুর আইন মেনেই গাড়ি চালাচ্ছে।

রাস্তায় দেখা যায়,জেব্রা ক্রসিং এর সামনে লোক পারাপারের অপেক্ষায় আছে সেখানে ড্রাইভার গাড়িকে থামিয়ে পথচারীকে সড়ক পারাপারের ইশারা দিচ্ছে।
অথচ এখানে দাঁড়িয়ে নেই কোন ট্রাফিক পুলিশ, নেই কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মী।শুধু রয়েছে রাস্তার দু’পাশে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট ও সিসি ক্যামেরা।রয়েছে আইনের সঠিক প্রয়োগ।

এখানের আইনানুযায়ী কোন গাড়ী দূর্ঘটনা ঘটালে ড্রাইভার স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশকে খবর দিবে।পুলিশ ৩ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে সবকিছু যাচাই বাছাই করে গাড়ী রাস্তার পাশে করার অনুমতি দিবে।

যদি কোন চালক এর ব্যাতিক্রম করে তবে তার লাইসেন্স বাতিল সহ মোটা অংকের জরিমানা ধার্য্য করা হবে।এমনি সেই সাথে অপরাধীকে জেলে রাখার বিধানও রয়েছে।
সাধারণ দূর্ঘটনায় (মানুষ নিহত হয়নি) অপরাধ অনুযায়ী লাইসেন্স হতে পয়েন্ট কাঁটা সহ ৩০০/৫০০ দেরহাম জরিমানা করা হয়।যা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
এখানে বলা প্রয়োজন যে,একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে গেলে ড্রাইভারকে এখানকার স্থানীয় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল হতে শিক্ষা নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।চালকের নিজ দেশের কোন লাইসেন্স গ্রহণ যোগ্যতা পায়না এখানে।সে স্কুল পরিচলনা করেন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা।উত্তীর্ণ চালককে যে লাইসেন্সটি প্রদান করা হয় তার মধ্যে ১২ /১৫ টি পয়েন্ট থাকে। প্রতিটি দূর্ঘটনার পরে অপরাধ হিসেবে পয়েন্ট কাঁটা সহ জরিমানা করা হয়।পয়েন্ট কাঁটা শেষ হলে তাকে পূনরায় ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি হতে। অন্যথায় সে আর গাড়ি চালাতে পারবেনা।

আর একটি লাইসেন্স সংগ্রহে শিক্ষানবিশ খরচ হয় বাংলাদেশের প্রায় আড়াই লাখ টাকা হতে ৩ লাখ টাকা।
এদিকে, ড্রাইভিং আইনে এমন কড়াকড়ি আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ফলে চালকরাও সাবধানে আইন মেনে গাড়ী চালায় এখানে।ফলে দূর্ঘটনা খুব বেশী চোঁখেও পড়েনা।
ঠিক এমনি করে বাংলাদেশেও যদি ড্রাইভিং আইনে সংশোধন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ করা হয় তবে বাংলাদেশেও সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল হবেনা।
হবেনা কোন সড়ক দূর্ঘটনা পরবর্তী গাড়ি ভাঙ্গচূরের মত অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *