| ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী | সোমবার

পাওনা টাকা চাওয়ায় ইউপি সদস্যের সশস্ত্র হামলায় আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে জালাল উদ্দিন নামে এক ইউপি সদস্যের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন হানিফ নামে এক পাওনাদার। হামলাকারীদের চাপাতির কোপে গুরুত্বর আহত হয়ে তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার মাথায় ও মুখে ৪৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আহত হানিফ মিয়া ওই ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে।
এ হামলায় আহত হয়েছেন হানিফের পরিবারের আরো তিন সদস্য। ভাংচুর করা হয়েছে হানিফের ঘরে থাকা লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্রও। শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের ইউপি (৪ নং ওয়ার্ড) সদস্য। এছাড়া তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

আহত হানিফ মিয়ার বড় ভাই নবিউল্লাহ জানান, ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন পাশাপাশি ইটভাটার ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে তিনি এলাকার বিভিন্ন জমির মালিকদের কাছ থেকে ভাটার জন্য মাটি কিনে থাকেন। ৬ মাস পূর্বে তার ছোট ভাই হানিফ তার ভাটায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার মাটি বিক্রি করেন। জালাল মেম্বার মাটি বিক্রির ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ২ লাখ টাকা আর পরিশোধ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা চাইলেও তিনি টাকা না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখাতেন।

গত শনিবার বাড়ির পাশ দিয়ে জালাল মেম্বার রিকশা দিয়ে যাওয়ার পথে হানিফ পাওনা টাকা চাইলে মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুু’জনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে হানিফ বাড়িতে চলে আসলে জালাল মেম্বার ফোন করে তার ২৫/৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করে।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর চালায়। ভাংচুরে বাঁধা দিতে গেলে কয়েকজন আমার বৃদ্ধ মা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও আমাকে লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। এছাড়া হামলাকারীরা হানিফকেও এলোপাতাড়ি পিটাতে থাকে। এসময় মেম্বার দাড়িয়ে থেকে হানিফকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে। এক পর্যায়ে হানিফ দৌড়ে ঘর থেকে বের হলে তারা আবারো তাকে ধাওয়া করে বাড়ির পাশের একটি রাস্তায় ফেলে তার মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। আমাদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

আহত হানিফের মেঝো ভাইয়ের স্ত্রী রেহেনা বেগম বলেন, হামলার সময় জালাল মেম্বারের পায়ে ধরে মারধোর বন্ধ করতে অনুরোধ করলে তিনি আমাকে হামলাকারীদের দিয়ে ধর্ষণের হুমকী দেয় এবং আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এতো বড় ঘটনা ঘটিয়ে তিনি এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন যে আমরা নাকি মেম্বারের শরীরে আঘাত করেছি। ঘটনার পর থেকে তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন যেন এ বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ না দেই।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হানিফ মাটি বিক্রির কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। তাকে সময়মত পরিশোধ করবো বলেও জানিয়েছিলাম। ঘটনার দিন হানিফ প্রথমে আমার উপর আঘাত করে। পরে বিষয়টি আমার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী হানিফের বাড়িতে হামলা করে। হামলার সময় নিজের উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি একজন প্যানেল চেয়ারম্যান আমার শরীরে সে আঘাত করেছে তাকে তো তখনই মেরে ফেলতাম।

এসব বিষয়ে ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, শুনেছি পাওনাদার হানিফ প্রথমে মেম্বারের শরীরে আঘাত করেছে। তবে মেম্বারের নেতৃত্বে পরের যেই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, বাড়িঘরে হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ইউপি সদস্যের উপর হামলার বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। বাড়িঘরে হামলা ও আহতের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে নেয়া হবে এবং উভয় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *