| ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | বৃহস্পতিবার

চট্টলা এক্সপ্রেসের অর্ধশত যাত্রীর সর্বস্ব লুট করে নিলো ডাকাত দল, আহত ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯:
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ফেনী স্টেশন ছাড়ার পর একটি বগির ছাদে থাকা যাত্রীদের মারধর ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় নিরাপদে নেমে পালিয়ে যায়।

এ অবস্থায় ট্রেনটি সীতাকুণ্ড সদর স্টেশনে এসে থামলে থানা পুলিশ আহত ১২ যাত্রীকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (ইন্টিলিজেন্স) সুমন বণিক জানান, বুধবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী চট্টলা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ভয়াবহ ভিড় ছিল। ফলে ট্রেনের প্রতিটি বগি ও ছাদে প্রচুর যাত্রী উঠে। ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে থামার পর আনুমানিক ২০-২৫-২৬ বছর বয়সী একদল যুবক একটি বগির ছাদে উঠে পড়ে। ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পর ওই যুবকরা সকলে লুকিয়ে রাখা ধারাল অস্ত্র বের করে সেখানে থাকা অর্ধ শতাধিক যাত্রীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতে থাকে। যেসব যাত্রী তাদেরকে বাধা দিতে চেষ্টা করেন তাদেরকে মারধর ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা সব কিছু কেড়ে নেয়।

এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রেনটি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্টেশনে এসে থামলে ডাকাতরা সবাই নেমে পালিয়ে যায়। এরপর অন্য যাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচিতে ঘটনা জানাজানি হয়।

শেষে রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি সীতাকুণ্ড সদর স্টেশনে এসে থামে। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন, ওসি (ইন্টিলিজেন্স) সুমন বণিকসহ ফোর্স সেখানে গিয়ে ট্রেনে থাকা আহত ১২ যাত্রীকে নামিয়ে আনেন। তাদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর থাকা তিন যাত্রীর মধ্যে দুইজনকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও অপর একজনকে চমেকে স্থানান্তর করা হয়।

সীতাকুণ্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রী নোয়াখালীর বাসিন্দা নাহিদ (২১) ও কুমিল্লার বাসিন্দা চট্টগ্রামের কলেজ ছাত্র মো. আসিফ (১৭) জানান, চট্টগ্রাম মুখী চট্টলা এক্সপ্রেসে প্রচুর যাত্রীর ভিড় থাকায় তারা ছাদে করে চট্টগ্রাম আসছিলেন। ছাদেও অর্ধ শতাধিক যাত্রী ছিল। ফেনী আসার পর সেখানে আরো ১৫-১৬ জনের যাত্রী বেশি ডাকাত উঠে। ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ার পর সেসব যাত্রীরা অস্ত্রশস্ত্র বের করে মোবাইল, টাকাসহ সব কিছু লুটে নেয়। তারা বাধা দেওয়ায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। তারা দুইজনই প্রশ্ন রেখে বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেস বড়তাকিয়ায় থামার কথা না। কিন্তু চালক সেখানে ট্রেন থামিয়ে এসব ডাকাতদের নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করেছেন! এ ঘটনা তদন্তের দাবি জানান তারা।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো: দেলওয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীতে। এরপর ডাকাতরা নেমে গেছে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায়। আমরা সীতাকুণ্ডে আসার পর খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেসব থানায় জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *