| ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | বৃহস্পতিবার

রায়পুরার প্রবাসীর স্ত্রী হ্যাপি হত্যা মামলায় পল্লি চিকিৎসক আকরামের আদালতে স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার। নরসিংদী প্রতিদিন-
রবিবার ২৩ জুন ২০১৯:
নরসিংদীর রায়পুরা থানার নীলক্ষ্যা এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী হ্যাপি আক্তার একাধিক পুরুষের সাথে পরকিয়া ও বিকৃত যৌনতার কারনে খুন হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে নরসিংদী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ সাদীর খাস কামরায় আকরামের জবানবন্দিতে পল্লি চিকিৎসক আকরাম খুনের দায় স্বীকার করেন।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক তারক চন্দ্র শীল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খুনি আকরাম রায়পুরা থানার হাইরমারা সাউথ পাড়া এলাকার ডা: মোঃ শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তাকে গত শনিবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জবানবন্দিতে আকরাম জানায়, নীলক্ষ্যা এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী দুলাল মিয়ার স্ত্রী হ্যাপির সাথে বিবাহের পূর্বেই শুটকি কান্দি এলাকার এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর হ্যাপির স্বামী বিদেশ চলে গেলে তাদের মধ্যে অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক তৈরী হয়। শারিরীক সম্পর্কেও ফলে বেশ কয়েকবার গর্ভবতী হয়ে পড়ে হ্যাপি। গর্ভপাত করার জন্য হ্যাপি আক্তার হাইরমারার পল্লি চিকিৎসক আকরামের কাছে যেতেন। সেই থেকে আকরামের সাথে তার ঘনিষ্ঠ ও শারিরীক সম্পর্ক তৈরী হয়। এক পর্যায়ে পল্লি চিকিৎসক আকরাম ও কথিত প্রেমিক দুইজন তাদের বিষয়টি জানতে পারে। প্রথম দিকে এ নিয়ে আকরামের সাথে তার বৈরীতা হলেও পরে তারা এক হয়ে যায়। অবৈধ এই সম্পর্ককে পুজি করে হ্যাপীর সাথে আকরাম ও ওই প্রেমিক বিকৃত যৌনতার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক ঘটনার দিন ২৪ মে রাতে আকরাম ও ওই প্রেমিক একসাথে হ্যাপি ঘরে যায়। দুই জনকে একসাথে দেখে চমকে উঠে হ্যাপি। চমকে উঠলেও নিরুপায় হেপির উচ্চ্যবাচ্চ্য করার সুযোগ থাকেনা। প্রথমে আকরাম শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এক পর্যায়ে ওই প্রেমিক আকরামকে ঘরের বাহিরে দাড়াতে বলে। ক্ষানিক পর হ্যাপীর আর্তচিৎকার শুনে ঘরের ঢুকে দেখে হ্যাপী অজ্ঞান হয়ে গেছে। সাথে সাথে আকরাম ও ওই প্রেমিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তারক চন্দ্র শীল জানান, হ্যাপীর ইচ্ছার বাহিরে বিকৃত শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিল দুজন। সেদিন ইচ্ছার বাহিরে জোর করে শারিরীক সম্পর্ক করতে চেয়ে ছিল কথিত প্রেমিক। এক পর্যায়ে হাতাহাতি কারনে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে ভিকটিমের মৃত্যু হতে পারে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়টি জানা যাবে। জবানবন্দি শেষে আকরামকে জেলা হাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য গত মে মাসের ২৫ তারিখ রায়পুরার নিলক্ষায় নিজ বসত ঘর থেকে হ্যাপি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হ্যাপি আক্তারের শশুর বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

#

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *