| ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | সোমবার

মাধবদীতে বন্ধুদের চোখের সামনে মেঘনায় ডুবে যায় মিহাদ, একদিন পর লাশ উদ্ধার

খন্দকার শাহিন | নরসিংদী প্রতিদিন- রবিবার, ০৪ আগস্ট ২০১৯:
নরসিংদীর মাধবদীতে বন্ধুদের সাথে মেঘনায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় সিকদার মাহমুদ মিয়াদ (২২) নামে এক কলেজ ছাত্র। শুক্রবার গোসল করার সময় চোখের সামনে ডুবে যায় সে। অনেক খোঁজাখুজির পর শনিবার রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়|

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানিয়েছেন, নিহত মিয়াদ শিবপুর উপজেলার আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাধবদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের বথুয়াদী গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে সে নিখোঁজ হয়। মিয়াদ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাধবদী শাখার কার্য সহকারী সিকদার মাহমুদ মিলন এর ছেলে। তাদের গ্রামে বাড়ী বরিশাল বিভাগের উজিরপুর থানার জয়শ্রী গ্রামে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদলসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।

তার সাথের বন্ধু মোতালিব রহমার শিশির নরসিংদী প্রতিদিনকে জানায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে মিয়াদ সহ, মাধবদী কলেজে শিক্ষার্থী শাকিল, ফাহিম ও নরসিংদী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী সজল, রাব্বি ও আরিফ (২২) মিলে তারা সাত বন্ধু একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মেঘনা নদীতে ঘুরতে যায়। নৌকায় তারা বিকেলের খাবার খেয়ে সন্ধ্যায় গোসল করতে নামে। এদের মধ্যে মিয়াদ পানিতে নামার সময় নৌকার কাঠ ভেঙ্গে পায়ে আঘাত পায়। পরে সবাই গোসলে ব্যস্ত থাকার এক পর্যায়ে মিয়াদ থামিয়ে রাখা নৌকা থেকে লাফ দিয়ে গোসল করতে নামে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাসতে ভাসতে দুরে চলে দেখা যায় মিয়াদ, আমরা সামনে যেতে যেতেই সে চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়টি তার স্বজনদের মুঠোফোনে জানানো হলে তাদের খবরের ভিত্তিতে রাতেই মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মিহাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তাদের বন্ধুদের তথ্য অনুযায়ি শুক্রবার রাত থেকে স্থানীয়দের নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করা হয়, এর পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চার সদস্যের একদল ডুবুরি ঘটনাস্থলে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালায়। অবশেষে দিনের আলো নিভে আসায় উদ্ধার কাজ স্থগিত করে ডুবুরিদল মেঘনা নদী থেকে উঠে আসে। পরে শনিবার রাতে তার লাশ বথুয়াদী এলাকাস্থ মেঘনা নদীতেই ভেসে উঠলে স্থানীয় জেলেরা দেখতে পায়, পরে পুলিশ এসে তার মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মিয়াদের মৃত্যুতে তার পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা, মা ও একমাত্র বোন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *