| ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | রবিবার

নরসিংদীতে ৭৩ টি অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাট, অধিকাংশই রাস্তা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠের উপর

শরীফ ইকবাল রাসেল | নরসিংদী প্রতিদিন-
শনিবার, ১০ই আগস্ট, ২০১৯:
মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ম্যধ্যে একটি হচ্ছে ঈদুল আযহা। এই ঈদকে উপলক্ষ করে মুসলিমরীতি অনুযায়ী পশু কোরবানী করা হয়ে থাকে। আর এই দিনটি আসলেই প্রত্যান্ত অঞ্চলে অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাট বসানো হয়। এই পশুর হাট বসানোর কিছু নিয়ম থাকলেও অনেকেই মানছেনা এই নিয়ম। এই কোরবানীকে কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, খেলার মাঠ ও পাকা সড়কের পাশে পশুর হাট বসাতে নিষেধ থাকলেও মানছেন না সংশ্লিষ্টরা। আর বিষয়টি দেখেও না দেখার মতো থাকেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। ফলে স্কুলমাঠ ও খেলার মাঠে হাট বসানো হলে একদিকে ছোট বড় গর্ত তৈরী হয়ে পরবর্তীকে হাটা চলার সমস্যা সৃস্টি হয়। এছাড়া ময়লা আবর্জনার ফলে মাঠ দিয়ে চলাফেরায় ব্যাঘাত ঘটে।

এছাড়া রাস্তায় পশুর হাট বসালে যানবাহন চলাছলে বিঘœ সৃস্টি হলে জনদুর্ভোগে পরতে হচ্ছে যানবাহন দিয়ে যাতায়াতকারীদের। এই ঈদকে কেন্দ্র করে এবছর নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় মোট ৭৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। এসব পশুর হাটের মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় ১১টি, পলাশ উপজেলায় ৮টি, শিবপুর উপজেলায় ১৪টি, মনোহরদীতে ৯টি, বেলাবতে ৬টি ও রায়পুরা উপজেলায় ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে।

নরসিংদীর উল্লেখযোগ্য বাজারের মধ্যে একটি মনোহরদী বাসস্ট্যন্ড বাজার। এই বাজারে গিয়ে দেখা গেছে নামমাত্র বাজার হলেও বাজারে নেই পর্যাপ্ত পরিমানে পশুর হাট বসানোর মতো স্থান। ফলে পাকা রাস্তার দুপাশেই প্রথমে পশু দাড়িয়ে রাখা হয়েছে। আর ক্রেতারা পশু দেখার জন্য রাস্তার উপড় দাড়িয়ে পশু পছন্দ করছে। ফলে ঢাকা ও নরসিংদী থেকে ছেড়ে আসা বাস, মাইক্রোবাস ও ট্রাক যাতায়াত করতে না পেরে যানজটে পরিনত হয়েছে। আর দুর্ভোগে পরেছে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন। রাস্তায় পশুর হাট বসানোর বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে আসছে। এখনতো আর নতুন করে হাট বসছেনা। আর প্রতি বছর কয়েকদিন একটু কস্টতো হতেই পারে। আর বাজারের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেস্টা চালানো হয় বলে জানান তারা।
নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর বাজারের নাম দিয়ে করিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসানো হয়েছে পশুর হাট। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত সৃস্টি হচ্ছে। এছাড়া পঞ্চবটি বাজারের নাম দিয়ে রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসানো হয়েছে এই পশুর হাট। ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্র দু/একটি ক্লাস করেই ছুটি দিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগরে নওয়াব আলী গাজী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে অস্থায়ী পশুর হাট। এখানে স্কুল ছুটি দিয়ে স্কুলের বারান্দার খুটিতে পশু বেধে রেখে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে বাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বাজারটি নতুন করা হয়েছে তেমন জমে উঠেনি এখনো, তাই অনুমোদনের প্রয়োজন হয়না। যখন অনেক পশু আসবে তখন অনুমোদন নেওয়া হবে।
শিবপুর উপজেলার শহীদ আসাদ কলেজ মাঠে কয়েকবছর ধরে বসানো হচ্ছে এই পশুর হাট। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের ম্যাধমে কঠিন হুশিয়ারী থাকলেও মাঠ প্রশাসন মানছেন না এই প্রজ্ঞাপন।

এছাড়া পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ডাংগা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কয়েক বছর ধরে বসানো হচ্ছে এই পশুর হাট। এই হাট বসানোর ফলে মাঠে খুটি দিতে গিয়ে ছোট বড় গর্তে পড়ে গত বছর একাধিক শিক্ষার্থী পায়ে ব্যথা পায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলেও প্রশাসন একটু জেগে উঠলেও বন্ধ হয়নি স্কুল মাঠের হাট। এবারও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনকে অবজ্ঞা করে বসানো হয়েছে পশুর হাট। এছাড়া সাধুর বাজারের নাম বলে পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বসানো হয়েছে পশুর হাট। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটলে কয়েক ঘন্টা করে স্কুল ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলী জানান, যারা হাট বসায় স্কুলের কর্তৃপক্ষও তারাই, আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করার বা অনুমনি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনা। তাই আমি কাকে কি বলব। তাদের ইচ্ছেমতো যা খুশি তা করে যাচ্ছে।

এছাড়া একই এলাকার সানের বাড়ি এলাকায় কোন বাজার না থাকলেও কোরবানীর ঈদকে ঘিরে একটি শ্রেনী কয়েক বছর ধরে এখানে হাট বসাচ্ছে। এখানে পশু দাড়ানোর পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় জেলা সড়কের উপর পশু দাড় করানো হচ্ছে। ফলে একদিনে নস্ট হচ্ছে সড়ক অপরদিকে যানজটের দুর্ভোগে পড়ছে লোকজন।
নরসিংদী জেলার মধ্যে একটি খ্যাতিমান ফুটবল দল হচ্ছে জিআরসি। আর এই ফুটবল দলের একটি নিজস্ব মাঠ রয়েছে যেটি কিনা চরনগরদী বাজারে অবস্থিত। এই মাঠটি বছরের সব সময় ব্যবহারের ফলে ঢাকা সহ দেশের খ্যাতনামা ফুটবল দলের খেলোয়ার তৈরী হচ্ছে এই মাঠ থেকে। আর এই মাঠটি কোরবানীর অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে নস্ট করা হচ্ছে। এখানে খেলায়ারগণ প্রতিবাদ করেও এলাকার স্বার্থান্বেসী মহলের কাছে পরাহত। তাই প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করতে সাহস পাচ্ছেনা। এই পশুর বাজার শেষে কমপক্ষে তিনমাস এই মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকে।

এছাড়া এ মাঠের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ঢাকা থেকে চরসিন্দুর মনোহরদী যাওয়া একটি জেলা সড়ক। মাঠ ভরে পশু রাস্তার উপর দাড় করানো হলে তীব্র যানজটের সৃস্টি হয়। ফলে মালবাহী ট্রাক, আর যাত্রীবাহী যানবাহন ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এসকল বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে জানান, আমরাতো আর জানিনা কোনগুলো স্কুল মাঠে আর কোন গুলো রাস্তার পাশে। বাজারের নামের প্রস্তাবগুলো ইউএনওদের মাধ্যমে প্রস্তাব আসে আর তা দেখেই আমরা অনুমোদন দিয়ে থাকি। আর অনুমোদনের সময় দেখি কোন খেলার মাঠ উল্লেখ আছে কিনা। খেলার মাঠ বা রাস্তার পাশে থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়না।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা যারা কাগজপত্র তৈরী করেন তারাই স্কুল মাঠ ও রাস্তার পাশে বাজার কথা গুলোর বিষয়ে কিছু অর্থের বিনিময়ে গোপন রাখেন। যারফলে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তকর্তাগণ প্রতিটি বাজার সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়না। তাই এই বিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *