| ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | বুধবার

রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও ড্রিম হলিডে পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড়

সুইমিং পুলেও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা।

লক্ষন বর্মন। নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার ১৪ আগস্ট ২০১৯:
ঈদকে ঘিরে নরসিংদীর একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের চিত্তবিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্কে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পার্কজুড়ে বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পার্কটিতে। ঈদের দিন তেমন দর্শক উপস্থিতি না থাকলেও পরদিন (বুধবার) থেকে রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও দর্শনার্থীদের ভীড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পার্কটি। ঈদকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, স্বপ্নের পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি স্থাপনাসহ নতুন রাইডস সংযোজনের পাশাপাশি পার্কটিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। প্রতিদিন সকাল ০৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকছে পার্কটি। প্রবেশে লাগছে জনপ্রতি তিনশত টাকা। তবে ছোটদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। এছাড়া দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে পার্কটিকে এডিস মশা মুক্ত ঘোষণা করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পার্ক কর্তৃপক্ষ ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচদোনার চৈতাবতে ৪০ এশর জমিতে গড়ে উঠা দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের এই পার্কটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় শুরু হয়েছে। রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের (বুধবার) দুপুরের পর থেকে আসতে শুরু করেন দেশের বিভিন্ন জেলার বিনোদনপ্রেমীরা। শিশু ও নারীসহ সকল বয়সী মানুষ বিভিন্ন রাইডস চড়ে মেতে উঠেছেন আনন্দ উৎসবে। এবারের ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই স্বপরিবারে বেড়াতে এসেছেন এখানে।

এবছর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মাসেতু, কর্ণফুলী টানেলসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের আদলে পার্কটিতে তৈরি স্থাপনা ছিলো দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ। রয়েছে নান্দনিক কটেজগুলোতে স্বপরিবারে অবস্থান করে ঈদ আনন্দ উপভোগের সুযোগ। বুলেট ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, রোলার কোষ্টার, সুইং চেয়ার, ¯িপডবোটসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন রাইডস উপভোগের পাশাপাশি সুইমিং পুলেও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা। বাচ্চাদের অতিপ্রিয় নটিক্যাসেল, জাম্পিং হর্স, লাফার কিংসহ আইস পাহাড়, অত্যাধুনিক ভিআর, নাইন-ডি, ক্যাবল কার, ওয়াটার পার্ক ও অনেক মজাদার সব রাইডসে আনন্দ উপভোগ করছে শিশুরা। ঈদের দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা খুব কম হলেও ঈদের পরদিন দুপুর থেকেই পার্কজুড়ে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। দিন গড়িয়ে বিকাল বেলা এই ভীড় অনেকটা জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে। ঈদকে ঘিরে বাড়তি আনন্দ পেতে রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও সপরিবার নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসেছে।

ফেনী থেকে আসা কাজল মিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতেই ড্রিমহলিডে পার্কে আসা। এই পার্কের সবগুলো রাইডস খুব ভাল তাছাড়া বিভিন্ন রাইডস উপভোগের পাশাপাশি ওয়াটার পাক আছে বাড়তি আনন্দ দিতে। এখানকার দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ আর বৃষ্টি দুই নিয়ে একটা দিন কাটাতে পেরে ভাল লেগেছে।

ঢাকা থেকে আসা মামুন সওদাগর বলেন, ঈদের ছুটিতে সময় কাটাতে আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এখানে আসা। এই রিশঝিম বৃষ্টির মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিনভর খুবই মজা হলো। বাচ্চারা বিভিন্ন রাইডস চড়ে আনন্দ উপভোগ করেছে। আগ্রামী ঈদে আবারও আসব পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে।

গাজীপুর থেকে আসা ছোট সোনামনি ঈশিকা জাহান বলেন, আমি আমার মা-বাবার সাথে এসেছি। এই পার্কেও বিভিন্ন রাইডস উঠেছি। যেমন নটিক্যাসেল, জাম্পিং হর্স, বাম্পার কার, সোয়ান বোট, ডেমু ট্রেন, ¯িপডবোট। সবচেয়ে মজাদার আনন্দ উপভোগ করেছি ওয়াটার পার্কে। প্রতি ঈদে মা-বাবার সাথে এখানে আসব।

ড্রিম হলিডে পার্ক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, দর্শনার্থীদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিবছরই পার্কটিতে নতুন আকর্ষণ রাখার চেষ্টা করে থাকি। এবারও পার্কটিকে আরও আধুনিকায়ন করাসহ পদ্মাসেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ ব্যতিক্রমী নতুন সংযোজন রয়েছে। আশা করি দর্শকরা তাদের চাহিদা মতই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন। দর্শনার্থীদের চাহিদার কথা ভেবে ড্রিম হলিডে পার্কটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের রাইড স্থাপন করেছি শুধু মাত্র দর্শনার্থীদের চাহিদা মিটাতে। এছাড়া দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা পার্কটিকে এডিস মশা মুক্ত ঘোষণা করেছি।

নরসিংদীর একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের চিত্তবিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্ক

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *