| ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার

কারবালার ঘটনার আসল কারন : মুহাম্মদ আবু নাঈম

হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মানিত সাহাবী ছিলেন। তার ছেলের নাম ছিল ইয়াজিদ যা সবার জানা। হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর ইন্তেকালের পূর্বে একটি ঘটনা বাদে আমি আর কোন ঘটনাই বলবো না অর্থাৎ আমি এটাও বলতে চাই না যে তিনি ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর শাহাদাতের খবর শুনে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলেছিলেন না, আলহামদুলিল্লাহ বলেছিলেন।

আমি এটাও বলতে চাইলাম যে কোন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি তার পরবর্তী খলিফা হিসাবে ইয়াজিদের নামের প্রস্তাব করেছিলেন। কারণ তিনি একজন সম্মানিত সাহাবী, তার কি নিয়ত ছিল কি দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা তিনি জানেন এবং আল্লাহ জানেন আমি এতটুকু বলতে চাই, তারপরে তার ইন্তেকালের পরে তার ওসিয়ত অনুযায়ী হোক যে কারণেই হোক ইয়াজি স্বঘোষিত খলিফা হয়েছিলেন এবং তার স্বীকৃতি চেয়েছিলেন । কখন যে কয়জন তার এজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি দেননি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু। তিনি খেলাফতের পরবর্তে রাজতন্ত্র কায়েম হোক তা তিনি চাননি এবং ইসলামের যে রাজতন্ত্র সমর্থন যোগ্য তার কোন দলিল কোরআন হাদিসে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে কোন কার্যালাপের মধ্যে রাজতন্ত্রের কোন নমুনা পাননি।

তাছাড়াও তিনি অত্যন্ত দূরদর্শী ছিলেন যার কারণে তিনি পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলেন যে রাজতন্ত্র কায়েম হলে তার পরিণতি কি হতে পারে গাড়ির স্টিয়ারিং কেটে গেলে প্রথমে টের পায় ড্রাইভার পরে টের পায় সচেতন যাত্রীরা। আরব উত্তরা টের পায় গাড়ি যখন খাদে পড়ে হাত পা ভাঙ্গে তখন ঠিক তেমনি হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ছিলেন সমাজরুপ গাড়ির ড্রাইভার পর্যায়ের ব্যক্তি তাই তিনি যখন দেখেছিলেন সমাজ রুপ গাড়ির খেলাফত আমলের স্টিয়ারিং কেটে গেছে এখন ইসলামী গাড়ি এমন খাদে পড়তে যাচ্ছে যেয়ে গাড়ির যাত্রী অর্থাৎ সমাজের মুসলমান এমন এক খাদে পড়তে যাচ্ছে। যাতে মুসলমান আর কোনদিনও আল্লাহর পথে চলতে পারবে না, তাই তিনি ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি দেননি। এতে কিছু মুসলমান ইমাম হোসাইন কে বিদ্রোহী পর্যন্ত বলেছেন।

ইমাম হোসাইন যখন ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি দিলেন না তখন সাধারণ মুসলমানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে একটা গ্রুপ যারা কোনো না কোনো রাজকার্যের সাথে জড়িত ছিলেন তারা প্রায় সকলেই চাকরি রক্ষার জন্য ইয়াজিদকে খলিফা বলে মেনে নেয় ।

আর অনেকে ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর দিকে চেয়ে রইল যে,দেখি তিনি কি করেন। এতে সেই মুহূর্তে আরবে আমাদের বাংলাদেশের একাত্তরের ঘটনার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ।মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। অনেক লোক গৃহযুদ্ধে মরতে থাকে।

তখন বেশকিছু জ্ঞানীগুণী মর্যাদাসম্পন্ন প্রবীণ মুসলমান নেতারা হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে বলতে থাকেন যে আপনি ইয়াজিদকে খলিফা বলে মেনে নিলেই গৃহযুদ্ধ টা বন্ধ হয়ে যায় অতএব গৃহযুদ্ধ বন্ধ করা এবং অযথা বহু মুসলমানের প্রাণ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে মুসলিম সমাজকে বাঁচানোর লক্ষ্যে আপনি ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি দিন, এতেই নাম হোসাইন বুঝলেন আমি কেন যে ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি দিচ্ছি না এসব প্রবীণ মুসলমানগন বুঝতে পারছেন না তাই তিনি অত্যন্ত শান্ত মেজাজে সবাইকে বুঝালেন কেন তিনি রাজতন্ত্রের স্বীকৃতি দিতে পারছেন না তিনি বোঝালেন যে কেন রাজতন্ত্রের স্বীকৃতি দিতে পারছেন না। তিনি বুঝালেন আমার সামনে যে সব বিপদ দেখতে পাচ্ছি তা আমি বলি আপনারা শুনুন এবং বুঝুন। তিনি বললেনঃ যদি রাজতন্ত্র মেনে নেই তাহলে নিম্নের কাজগুলো অবশ্যই ঘটবে।

১ নং এরপর আর কোন কেয়ামত পর্যন্ত কোনদিনও যোগ্য লোক খলিফা হতে পারবে না রাজার বেটা রাজা হবে তা সে যত খারাপ লোকই হোক না কেন এমনকি হযরত নূহ আলাইহিস সালাতু সালামের ছেলে কেনানের মত লোক যদি হয় তবে সে হবে রাজা রাজার বেটা রাজা গদ্দিনিশিন খলিফা। যুগ্য লোক খলিফা হওয়ার পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

২ নং রাজতন্ত্র কায়েম হলে খেলাফত আমলের ন্যায় আর আর বাক স্বাধীনতা থাকবে না যেমন খলিফা হযরত ওমর একদিন ইমামতি করতে যাচ্ছিলেন আর সাথে সাথে পিছন থেকে একজন মুসলিম খলিফা হযরত ওমর কে বললেন নামাজের নিয়ত করার পূর্বে আমার প্রশ্নের সঠিক এবং সন্তোষজনক জবাব দিন নইলে আপনার পিছনে নামাজ পড়বো না, খলিফা হযরত ওমর ফিরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কি আপনার প্রশ্ন মুক্তাদী বললেন ইয়ামেন থেকে যে কাপড় পাওয়া গেছে তাতে কারও একটা পুরোপুরি জামা হলো না আর দেখছি সেই কাপড়ে তৈরি একটা লম্বা জামা আপনার গায়ে এটা কি করে হলো তার জবাব আগে দিলেন তারপর ইমামতি করুন। পরে জবাব পেলেন যা হযরত ওমর এর ছেড়ে আব্দুর রহমান এবং খলিফা সহ যে দুজনে তুই তোমরা কাপড় পেয়েছিলেন তাই দিয়ে একটা জামা তৈরি হয়েছে। ছেলে তার কাপড়ের টুকরা তার আব্বাকে জন্য দিয়েছে তার আব্বা কে ইমামতি করতে হয় কিন্তু কোনো ভালো জামা নেই তাই।

এরপর গ্রহণযোগ্য এবং সন্তোষজনক জবাব পাওয়ার পর মুক্তাদী বললেন এবার আপনি ইমামতি করুন। এই ঘটনার উল্লেখ করে ইমাম হোসাইন বললেন তখন রাজতন্ত্র কায়েম হলে খলীফার নিকট এইভাবে কেউ আর কোন কৈফিয়ৎ যাইতে পারবে না এবং বাক-স্বাধীনতা চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে যাবে।

৩ নং হযরত ছেলে যখন তালিকা জামা গায়ে দিয়ে মক্তবে পড়তে গিয়েছে তখন অন্য ছাত্ররা খলিফার ছেলের গায়ের জামার তালি গুনেছে দেখেছ ১৪ টা তালি দেওয়া জামা গায়ে দিয়ে হযরত ওমরের ছেলে পড়তে গিয়েছে ১৪ টাকার এর মধ্যে আবার একটা তালি ছিল পাতলা চামড়ার। অন্য ছাত্ররা যখন তার এই দেখে হাসাহাসি করছে আর বলছে খলিফার ছেলের গায়ে চৌদ্দটা তালি ওয়ালা জামা তখন ছেলে লজ্জা অনুভব করে বাড়ি গিয়ে মার কাছে তালি গোনার কথা বলেছে। মা পরে স্বামী কে বলেছেন যে মক্তবে ছেলেরা ছেলের জামার তালি গুনেছে। ছেলে আর করতে যাচ্ছে না বাইতুল মাল রক্ষক কে গিয়ে বললেন বাইতুলমাল থেকে কিছু দেরহাম ধার দাও। আগামী মাসে পাতা থেকে এই ধার পরিশোধ করে দেবো।

এবার বাইতুলমাল রক্ষক বল্লেন, আপনি কি এ নিশ্চয়তা দিতে পারেন যে আগামী মাসের ভাতা পাও না হওয়া পর্যন্ত আপনি বাঁচবেন না এবং আপনার ভাতা পাওনা হবে। হযরত ওমর বললেন না সে গ্যারান্টি আমি দিতে পারি না এরপর বাইতুলমাল রক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন এটা তো আল্লাহর সম্পদ এবং জনগণের আমানত এখান থেকে তার নিয়ে যদি পরিশোধ না করেই আপনি মরে যান তবে আপনার কি ভরসা আছে যে কেয়ামতের দিন আপনার দেশের প্রত্যেকটি নাগরীক যাদের আমানত থেকে আপনি ধার নিতে চাচ্ছেন এরা সবাই পরকালে আপনাকে মাফ করে দেবে?? হযরত ওমর ওমর ওসমান নেই তখন বাইতুলমাল রক্ষক বললেন তাহলে আপনি চিন্তা করুন আল্লাহর সম্পদ এবং জনগণের আমানত এর থেকে আপনি কি করে ধার নিতে পারেন আর জনগণের আমানত থেকে কি করেইবা ধার দেয়া যায় আর ধার দেয়ার অধিকারী বা কার আছে ?? তখন বাইতুলমাল রক্ষকের উপড় অত্যন্ত খুশি হলে এবং বললেন তুমি আমাকে অতি উত্তম নসিহত করেছ এর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ খিলাফত আমলে খলিফাগন যেমন রাজকোষের একটা নয়া পয়সা তে হাত দিতে সাহস পায়নি এখন তারা মন থেকে মেনে নিয়েছিলেন যে রাজকোষের মাল অর্থ এটার মালিক কোন ব্যক্তি বিশেষ নয় এর মালিক দেশের সমস্ত নাগরিক।

অর্থাৎ এটা আল্লাহর সম্পদ এবং জনগণের আমানত কাজেই কোন খলিফা অর্থে হাত দেননি রাজতন্ত্র যদি রাজতন্ত্র কায়েম হয়ে যায় তবে এ অর্থ কে আর কোন রাজাই আল্লাহর সম্পদ ও জনগণের আমানত মনে করবেনা, তারা ওটা কে নিজের সম্পদ মনে করে তা দিয়ে যা খুশি তা করবে। তিনি আরো মনে করিয়ে ছিলেন, যা হযরত আবু বক্কর সিদ্দিক এর আমলে একদিন তার সামনে কিছু ভালো খাবার এসেছিল। তিনি ভাবলেন অন্যকোন বাড়ি থেকে বোধ হয় এসেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কি ভাল খাবার কোথায় পেলি বাড়ির ভিতর থেকে জবাব এলো আপনি বাজারের জন্য যে টাকা দিয়ে থাকেন তার থেকে প্রত্যেক মাসে কিছু কিছু করে বাঁচিয়ে কয়েকমাসে সঞ্চিত পয়সায় যখন দেখলাম যে আজ একটুমিষ্টি মিঠাই এর ব্যবস্থা করা যাবে তখনই মিষ্টান্ন জাতীয় কিছু বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি শুনে ভয়ে কেঁপে উঠলেন যে, আমার তো পয়সা জামানের মতো ভাতা নেয়ার মতো কথা নয় । আম ভাতা নেব সেই পরিমাণ যা দিয়ে আমার দেশের সবচেয়ে গরীবের সংসার যেভাবে চলে সে ভাবে চলার মত অর্থ । তিনি হিসাব নিলেন প্রতিমাসে তোমি কয় দেরহাম জমাতে ??? হিসাব নিয়ে তখন বাইতুলমাল রক্ষক কে চিঠি লিখলেন যে আমার ভাতা বেশি নেয়া হয়ে যাচ্ছে আগামী মাস থেকে আমার ভাতা এত পরিমাণ কমিয়ে দেবে নইলে আল্লাহর কাছে আমার কৈফিয়ত দিতে হবে যে যে ধরনের খাদ্য তোমার দেশের অন্যান্য সাধারন নাগরিকদের যুটতে পারেনি তুমি তাদের আমীর হয়ে তাদের চেয়ে ভালো খাবারে কেন খেলে তখন আল্লাহর কাছে এ আমার কোনোই জবাব থাকবে না হযরতহযরত হোসাইন সবাইকে বুঝিয়ে বললেন যদি খেলাফত শেষ হয়ে যায় আর মুলকিয়াত এসে যায় বাংলাদেশ তন্ত্র কাইম হয় তাহলে কোন রাজা বাদশাহ আর এরূপ রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করতে ভয় পাবেনা বরং তারা রাষ্ট্রের অর্থ কি তাদের নিজের অর্থ মনে করবে

৪নং এরপর বুঝালেন রাজতন্ত্র কায়েম হয়ে আল্লাহর আইন কোন রাজাই বহাল রাখতে পারবেনা, কারণ আল্লাহর আইনি যখন রাজতন্ত্র নেই তখন তাকে রাজাসনে টিকে থাকতে হলে আল্লাহর আইন পরিবর্তন করে তারা আসনে টিকে থাকার মত আইন করতেই হবে এবং আল্লাহর আইন তারা বাতিল করেই ছাড়বে। তখন রাষ্ট্রের আইন হবে এক প্রকার আর আল্লাহর আইন থাকবে ভিন্ন প্রকার তখন মানুষ আল্লাহর আইনের পরিবর্তে রাজার আইন মেনে চলতে বাধ্য হবে।
আল্লাহর আইন মেনে চলার কোন পরিবেশে সমাজে থাকবে না। এ ব্যাপারে ছোট একটা উদাহরণ দিচ্ছি দেখুন ইংরেজরা ইমাম হোসাইন এর জীবন দানের ব্যাপারটা গোপন করে মুসলমানদের উপর কি আইন চালু করে গেছে তার সামান্য কিছু বলব তাতেই অনুমান করা যাবে যে আল্লাহর আইন মেনে চলার পরিবেশ সমাজ আছে কি নেই ।
আমি পর্যন্ত লিখে আসার পর আমার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল আমি সাধারনত কোথাও ঘুড়তে গেলে মানুষের ভুল ভাঙ্গার জন্য কিছু প্রশ্ন করি। একদিন একস্থানে মাহফিল ছিল ওয়াজ করতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম প্রিয় শ্রোতা ভাইসব আপনারা আমার একটা প্রশ্নের জবাব দিন তারপর আমি আমার আলোচনা শুরু করব যারা কোরআনের আইন মানেনা তাদের কথা বাদ দিয়ে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই যে আমাদের এ সমাজের কোনো মুসলমান যদি কোরআনের পথে চলতে চায় তবে তাকে কি কেউ বাধা দেয় ???এমন লোককে আমাদের সমাজে আছে বলে আপনারা মনে করেন যে কুরআনের হুকুম মতো জীবনযাপন করতে চাইবে আর কেউ তাকে বাধা দেবে না? তখন উপস্থিত সবাই বললো যে না এমন কোন লোক এই সমাজে নেই কেউ কোরআনের আইন মোতাবেক কেউ জীবন যাপন করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়ার মত কোন লোক এই সমাজে নেই।

তখন আমি বললাম যারা এই কথায় একমত যে কোরআনের আইন মোতাবেক কেউ জীবনযাপন করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়ার মত কোন লোক এই সমাজে নেই মেহেরবানী করে হাত উঁচু করে দেখান আমি একটু দেখতে চাই কি পরিমাণ লোক এই কথায় একমত পোষণ করেন। এরপর দেখলাম সাধারন লোক তো সবাই এমনকি ওই মসজিদের ইমাম সাহেব আজ উঁচু করে এই কথার সমর্থন জানালেন এরপর আমি বললাম যে প্রিয় দ্বীনি ভাইয়েরা হাত উঁচু করে এই কথার সমর্থন জানালেন। এরপর আমি বললাম যে প্রিয় দ্বীনি ভাইয়েরা আমরা যে মাঝে মাঝে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করি কোন দিক সম্পর্কে শিখব ইসলামের যা জানি না তা জানব এবং ইসলামের কোন দিক সম্পর্কে যদি আমাদের কোন ভুল ধারনা থাকে তবে তা কোরআন হাদিস ভিত্তিক আলোচনা শুনে সংশোধন করে নেব।

এইতো আমাদের উদ্দেশ্য???সম্মতি জানালেন যাহা এটাই আমাদের উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য ওয়াজ মাহফিল করি এবং ওয়াজ শুনি আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম ইসলামের যে কোন দিক সম্পর্কে আমাদের যদি কোন ভুল ধারণা থাকে আর যদি আমি বাস্তব যুক্তির দ্বারা সে ভুলটি ধরিয়ে দেই তাহলে ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করতে কোন আপত্তি নেই তো ?? তখন আমি এক এক করে কিছু কথা বললাম সেগুলো আপনাদেরও বলে শোনাই এরপর আমি প্রথমেই জিজ্ঞেস করলাম ইসলাম বলে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলতে আপনি যদি একখানা গাড়ি নিয়ে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলেন তাহলে ট্রাফিক পুলিশ কি আপনাকে বাধা দেবে না??? সবাই বললেন না বাধা দেবে পরে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি যদি একজন বিচারপতি হন আর আপনার কোর্টে যদি একটা চুরির মামলায় সাক্ষী প্রমাণ নিয়ে প্রমাণিত হয় যে সে সত্যিই চুরি করেছে তাহলে আপনি কি কোরআনের নির্দেশ মোতাবেক চোরের হাত কেটে দিতে পারবেন?

নাকি দেশের আইন আপনাকে হাত কাটতে বাধা দেবে??? সবাই পারলে না দেশের আইন বাধা দেবে এভাবে জিজ্ঞেস করলাম কোরান বলে ডাকাতের এক পাশের হাত বিপরীত পাশের পা কেটে দাও আপনি করতে পারবেন কি ডাকাতের শাস্তি এক পাশের হাত অপর পাশের পা কেটে দিতে ?? পারবেন কি কোরআনের হুকুম মোতাবেক জেনার শাস্তি দিতে ইসলামের বিধান মোতাবেক শাস্তি দিতে পারবেন কি সিনেমা হল থেকেই অশ্লীল পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে পারবেন কি কুরআনের বিধান মোতাবেক পর্দার আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে পারবেন কি বেআইনি ভাবে অস্ত্র রাখার জন্য যেখানে একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারা যায় সেখানে পারবেন কি ছাত্রদেরকে বিআইনে ভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিতে? পারবেন কি কোরআনের যাবতীয় আইন সমাজে প্রতিষ্ঠা করতেই???

নাকি এতে বাধা দেয়ার মতো লোক অবশ্যই আসবে?? তখন আমি বললাম একটু আগে যে আপনারা বললেন কোরআনের আদেশ মোতাবেক জীবনযাপন করতে কোন মুসলমানের পক্ষ থেকে কোনো বাধা আসবে না বরং কোন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কেউই কোরআনের আইন মেনে চলতে বাধা দেবে না এ মতের সমর্থনে এখানে অনেক আলেম ও সমর্থন জানিয়েছিলেন, এখন নতুন করে ভেবে চিন্তে পর্যন্ত কোরানের বিধান মোতাবেক চলতে কোন বাধা আছে কি নেই তখন সকলেই বলেনা আছে তখন আমি বললাম আপনাদের পূর্বের চিন্তা যে নির্ভুল ছিল না এটা প্রমাণ হলো কি সবাই জবাব দিলেনা আমরা পূর্বেই এভাবে চিন্তা করিনি তাই মনে করেছিলাম বোধহয় কোরআনের আইন মেনে চলতে কোনো বাধা নেই আমি সাধারণত মানুষের বিশ্বাস দূর করার জন্য প্রশ্ন করি এতে অনেক ব্যাপার সম্মুখিন হতে হয়। যেমন একদিন এক স্থানে মনোহরদী থেকে ৩/৪ মাইল দক্ষিণে জায়গাটার নাম বলতে চাচ্ছি না প্রায় দুই বছর আগের কথা ওয়াচ করছিলাম এরমধ্যে শ্রোতাদের মাঝখান থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন হুজুর আপনি কি পীর মানেন না আমি বললাম আমি মানি কিনা তা পরে বলব। আপনি মানেন কিনা এটা আগে শুনে নেই ।

আমি বললাম আমরা কি মানতে বাধ্য জান আমার নেই মানে থাকবে না তা তো আমাদের ঈমানের কালেমার মধ্যেই আছে ঈমানের কালেমার সাথে কিছু কথা যোগ করে আমি পড়ছি দেখুন আপনি ঈমানের কালেমার সাথে আমি যেটুকু যোগ করে করবো তা আপনি মানতে পারেন কিনা অতঃপর আমি পড়া শুরু করলাম আমান্তু বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া পীরীহি ওয়া মুরুব্বি হি ওয়াল ইয়াও মিল আখেরী ওয়াল কাদরি খয়েরি শার্ররিহা মিনাল্লাহি তায়ালা অল বাংলা সিবাদাল মাউত, আমি এই কালিমার সাথে ২ টি কথা যোগ করেছি কারণ যা আমি মানি শুধু বাংলায় না বলে আরবিতে সীমানাটা শিকার করা তো কোন দোষ নেই তাই শুধু যোগ করেছি যেমন ওয়া পীর রিহি ওয়া মুরুব্বি হি এবার আপনারা করুন আমার এই বর্ধিত আকারে কালেমা টা আপনারা কজনে মানেন না মানেন না তার একটা হাত উঁচু করে দেখান তখন কেউ আর হাত উঠায় না যে প্রশ্ন করেছিল তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কথা বলছেন না যে আমি শুধু মানা নয় একেবারে মানতে হবে হবে বলে ঈমানের কালেমার মধ্যে আছে তার সাথে পীর ও মুরুব্বি বলেই তো দুইটা কথা যোগ করে দিয়েছিলাম অর্থাৎ আমিন কালেমার মাধ্যমে মানতে রাজি ছিলাম আপনি নিজেই তো আমার নতুন কালেমা স্বীকার করলেন না এর অর্থ দাঁড়ায় যে আপনি নিজেই পীর মুরুব্বি মানেন না মানুষের ভুল এভাবেই ভাঙ্গা যায় তাছাড়া একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তিও দিচ্ছি দেখুন যে পানি রৌদ্রে আস্তে আস্তে গরম হয় তা কিন্তু হঠাৎ ঠান্ডা হয় না। তা যেমন আস্তে আস্তে গরম হয় কেমন ঠান্ডা হয় খুব ধীরে ধীরে
আর চুলায় পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে পানি শুকিয়ে ফেলুন এরপর চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন দেখবেন রোদে গরম হওয়া পানির চেয়েও অনেক পূর্বে আগুনে ফুটানো পানি ঠান্ডা হয়ে যাবে এর দ্বারা বুঝলেন যে ভুলটা ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে বহুদিন ধরে মাথায় ঢুকে আছে তাহলে দূর হবার মতো না হয়। এভাবে কারবালার ঘটনা নয় বহু বহু ব্যাপারে মুসলমানদের মগজে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা রয়েছে যা হঠাৎ করে দূর হওয়ার মতো নয় এ কথাই ভুলছিল সেই যুগের মুসলমানদের মধ্যে যে ইয়াজিদ খলিফা হলে তাতে ইসলামের কি আর ক্ষতি হবে কিন্তু ইমাম হোসাইন যখন চোখে আংগুল দিয়ে কেক করে দেখালেন তখন অনেকের ভুল ভাঙলো আর যাদের কিছু স্বার্থ ছিল ইয়াজিদ শাসনের মধ্যে তারা বুঝেও বুঝতে চাইল না। এরপর শুরু হলো ইমাম বংশের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন তখন কুফায়,আশ্রয় পাওয়ার আশ্বাসেই তিনি বলে কয়েই মদিনায় থেকে সপরিবারে এবং কিছু আপনজনে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাদের সাথে নিয়ে প্রকাশ্যে কোফার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন।

এ বেরিয়ে পড়া কোন পালিয়ে যাওয়া ছিল না, কাজেই এটা ইয়াজিদ বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যাওয়া ছিল না তাই তারা ঈমামের পথে কারবালা প্রান্তরে বাধা দিল ।আজকে খানের নাম কারবালা বিজ্ঞানের নাম পূর্বে কারবালা ছিল না এই নামটা হয়েছে তখন যখন ইয়াজিদি লোকেরা হুসাইনের এবং কারবালায় তাদের দিক থেকে ঘিরে ফেলা হয় তখন হযরত হোসাইন পরিবার ও সাথী সঙ্গীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন (কারি বুল বালা ) নিকটবর্তী এরপর ওই কারিবুল বালা এখনো লেখা হয় কারবালা হযরত হোসাইন কে মেরে ফেলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না তারা ভেবেছিল ফোরাতের পানি বন্ধ করে দিলে এবং বিভিন্ন কায়দায় ছোটখাটো মারধর বা সঙ্গীদের দু-একজন মেরে ফেললে চাপের মুখে শেষপর্যন্ত হোসাইন ইয়াজিদকে খলিফা বলে স্বীকার করতেও পারে।

এজন্য মুহাররম মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত ইয়াজিদের সৈন্য বাহিনী যত প্রকারের সম্ভব নির্যাতনের মাধ্যমে ইমাম হোসাইন এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকার আদায়ের জন্য। শেষ পর্যন্ত কোনো চাপের মুখেই তিনি নত স্বীকার করলেন না অতঃপর ৯ মহররম বিকেলবেলায় ইমাম হোসাইন কে চরমপত্র দিল যে আজকের দিন অর্থাৎ সামনের রাত যেটা ছিল ৯ মহররম দিবাগত রাত অর্থাৎ মুহাররমের দশ তারিখ রাত যে ১০ তারিখে আরবীতে বলা হয় আশুরা।ওই আশুরার রাত টুকু সর্বশেষ চিন্তা করার জন্য ইমামকে সময় দেয়া হলো এবং বলে দেয়া হলো আগামীকাল সকালে আমরা সর্বশেষ জবাব চাই যে আপনি ইয়াজিদকে খলীফা হিসেবে মানবেন কিনা ।যদি মানেন তাহলে আপনার এবং আপনার পরিবারের সবার জীবন নিরাপদ হবে। আ

র যদি না মানেন তাহলে আপনার ও আপনার পরিবারের সবার জীবনই বিপন্ন হবে। তাই বুঝেসুঝে আগামীকাল এর জবাব দেবেন তারা জানত যে ইমাম হুসাইন যদি ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি না দেয় তবে আরবের অনেকেই ইয়াজিদকে খলিফা বলে মানবে না। এবং এতে আরবে একটা স্থায়ী অশান্তি গৃহযুদ্ধ নেমে আসবে যা প্রতিরোধ করা সহজ হবে না তাই ইমাম হোসাইন এর কাছ থেকে ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতি ইয়াজিদের লোকদের প্রধান উদ্দেশ্য। শেষ পর্যন্ত ইমাম বিপক্ষের চরমপত্র কে তাবুতে ফিরে গেলেন এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসলেন তিনি বললেন শোনো এবং চিন্তা করে জবাব দাও আমাদের কাজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ইয়াজিদের খেলাফতের স্বীকৃতিও দিব কিনা তিনি সবাইকে বুঝিয়ে বললেন ইয়াজিদকে খলিফা বলে স্বীকার করে নিলেন রাজতন্ত্রের মত এমন একটা সর্বনাশা বিদাআত ইসলামী ঢুকে যাবে যার কারণে মুসলমান আর কোনদিন আল্লাহর আইন মেনে চলার পরিবেশ পাবেনা রাজার আইন আর আল্লাহর আইন কখনো এক সমান হতে পারে না ।

ফলে যেখানেই না চাইন হবে ইসলামের বিপরীত সেখানেই মানুষ না যাই মেনে চলবে আল্লাহর আইন মেনে চলতে পারবে না এবং কয়েকজন করে মানুষের মুসলমানদের মনে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে যাবে শুধু নামাজ রোজা করলে আর ইসলামের কিছু আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুন মেনে চললে ইসলাম পালন করা হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রীয় আইন ও যে কোরআন হাদিস মোতাবেক হতে হবে মুসলমানদের মন থেকে ক্রমান্বয়ে মুছে যাবে যার নজির আমি একটু পূর্বেই বলেছি এক ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত কিছু আলেমের মগজে ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে আমরা কোরআনিয়া ইন ঠিক মেনে চলতে পারি এবার বুঝলেন এভাবে মুসলমানরা জাতি মুসলমান থাকলেও ইসলামি বিধান মোতাবেক জীবন যাপন করতে পারবে না। তাই এসব চিন্তা ভাবনা করে স্থির মাথায় চিন্তা করে বল আমাদের এই মুহুর্তের মধ্যে রাজতন্ত্রের মত ইসলাম বিধ্বংসী বড় ধরনের একটা বিদাআত দুটি জীবন বাঁচাও নাকি ইসলামের বেদাত মুক্ত রেখে ইসলামের সঠিক অবস্থান রেখে জীবন দান করব এরপর সবাই স্থির মস্তিস্কে চিন্তা ভাবনা করেই সিদ্ধান্ত নিলেন যে ইসলামকে ইসলামের স্থানে রেখে অর্থাৎ ইসলামকে রাজতন্ত্রের মত একটা বড় ধরনের ইসলাম বিধ্বংসী বেদাত থেকে মুক্ত রেখে আমরা জীবন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।
মুহাম্মদ আবু নাঈম | নরসিংদী প্রতিদিন –
ও ধর্মীয় আলোচক চ্যানেল নাইন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ :

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *