শুক্রবার | ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং |

কেন কমছে ভোটের হার, প্রার্থীদের দায় দেখছেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন –
রবিবার,১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০:
সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বিশ্লেষক পর্যায়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তলানিতে নেমে আসার বিষয়টিকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ভোটে ভোটারদের অনাগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

তিনি মনে করেন, প্রার্থীরা ঠিকভাবে ভোটারদের কাছে না যাওয়ায় ভোটের হার কমেছে। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের দায় দেখছেন সিইসি।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টশন শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নূরুল ‍হুদা বলেন, ‘আমেরিকা করে এরকম, সুইজারল্যান্ড এরকম করে, জার্মানির এরকম হয়, আমাদের এরকম হয় না কেন? কয়েক দিন আগে একদল পলিটিশিয়াল এসেছিলেন। তারা এরকম বললেন। আমি তাদেরকে নিচু গলায় বললাম, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে। আমাদের দেশে তো মলম পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ব্যাগ টানা পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়, পকেট মারা নিয়ে কাজ করতে হয়, তারা কেউ হয়তো ভোটার। কেউ হয়তো কমিশনার হয়ে যায়। গুলিস্তান মহল্লায় হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পরে দেখা গেল যে সে একজন নেতা, পাতি নেতা, তারপরে উপনেতা, পূর্ণ নেতা, তারপরে কমিশনার। এগুলোও তো আমাদেরকে দেখতে হয়। এই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হয়।’

জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সিইসির তদবিরও মাঝে মাঝে শোনা হয় না উল্লেখ করে নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করার পেছনে চারটি কমিটি কাজ করছে। কমিটিগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। কমিটি এমন শক্তিশালী যে, আমার কথাও শোনে না। আমি দুই-একটা তদবির-ঠতবির করলে মাথা এদিক-ওদিক নাড়ায়। কমিটি এমন শক্তিশালী।’

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে না গিয়ে রাস্তায় গিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘এবার বিরাট বিরাট মিছিল। মনে করেছিলাম, নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট হবে। অলিগলি সব সয়লাভ হয়ে গেছে পোস্টারে। সুতরাং নির্বাচনে ভোট বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল উল্টো। আমার ধারণা, যারা ভোট দিবেন তাদেরক কাছে না গিয়ে প্রার্থিরা রাস্তায় গিয়েছেন। যারা ভোট দিবেন, তাদেরকে বিরত রেখেছেন। তাই ভোট হয়তো কম পেড়েছে।’

এক সময় দেশে দেড় কোটি জাল ভোটার ছিল বলে জানান সিইসি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.) ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।

follow and like us:
0

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা