1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে নরসিংদীর চরাঞ্চল বাঁশগাড়িতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে টেটাযুদ্ধ নিহত ১, আহত ২৫

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

লক্ষন বর্মন, রায়পুরা, নরসিংদী  : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেটাযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শারফিন মিয়া (২০) নামের ১জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫জন। গতকাল দুপুরে জেলার রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ এলাকায় থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিহত শারফিন ব্রা‏হ্মনবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর থানার সলিমগঞ্জ গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাশঁগাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যাবৎ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সাহেদ এর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গেল ইউপি নির্বাচনে বাশগাড়ী আওয়ামীলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ পরাজিত হয়ওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে দন্ধ চরমে উঠে। ইউপি নির্বাচনে জয় পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। সংঘর্ষে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থকদের তোপের মুখে এলাকা ছাড়া হয়ে যায় সাহেদ সমর্থকরা। এই নিয়ে সাহেদ সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। দীর্ঘ দিন গ্রাম ছাড়া থাকার পর সম্প্রতি সাহেদ সমর্থকরা গ্রামে ফেরার উদ্যেগ নেয়। এই খবরে সিরাজুল হক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে,তারা শক্তি সঞ্চয় করে শক্ত অবস্থান নেয়। এরই জের ধরে গত এক সপ্তাহ ধরে দুইপক্ষে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ দুইপক্ষের ৪টি গ্রামের পাঁচ থেকে সাত হাজার লোকজন লোকজন টেটা-বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে এক ইউপি সদস্যসহ ৮ জনকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা হাসপাতাল ও পরে নরসিংদী সদর ও জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারফিন নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ৪ জনকে ঢাকা প্রেরন করা হয়। সংঘর্ষে সময় প্রতিপক্ষরা বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। অগ্নিসংযোগ করা হয় কমপক্ষে ১৫টি বাড়িঘর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফাকা পুলিশ গুলি বর্ষন, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রায়পুরা থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে দাঙ্গা পুলিশ সহ অতিরিক্ত মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুরো গ্রাম জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরবতী পরিস্থিতি আননে সংঘর্ষ শুরু পর পরই এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত ইউপি সদস্য আমির হোসেন মেম্বার বলেন,হঠাৎ ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক এর লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়। ভয়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছি। তারা আমাদের ভিটে-মাটি সবকিছুই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত জাহিদুল ইসলাম বলেন,সংঘর্ষের টেঁটার পাশাপাশি বৃষ্টির মতো গুলি ছড়া হয়েছে। পালাবার সময় আমার পায়ে একটি গুলি বিদ্ধ হয়।
্এ ব্যাপারে কথা বলতে হাফিজুর রহমান সাহেদ এর মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপর পক্ষেরে নেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সিরাজুল হক বলেন, সাহেদ আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতেছে। অনেক লোকজন আহত হয়েছে। আমরা জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা ওসি (তদন্ত) মো ঃ মাজাহারুল ইসলাম বলেন,আধিপত্ব ও নির্বাচনী সংহিংসতার জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ১জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফাকা গুলি,টিয়ার সেল ,রাবার বুলেট ব্যাবহার করা হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি কার হয়েছে। কিন্তু ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।



এই পাতার আরও সংবাদ:-





টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-নরসিংদী প্রতিদিন-
Theme Customized BY WooHostBD