1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসের রেকর্ড- এক অ্যালবাম থেকে ২টি গান চুরি

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

এম আই মিঠু, অতিথি লেখক

৫ বছর আগে এনটিভির এক লাইভ প্রোগ্রাম চলাকালীন গায়ক শহীদের কাছে আমি ফোন দিয়েছিলাম। সেদিন আমি দূরবীন ব্যান্ড এর টিমলিডার এবং পৃষ্ঠপোষক শহীদ ভাইকে জানিয়েছিলাম ,আপনার ব্যান্ড মেম্বার মিউজিক ডিরেক্টর রাফি একটা চোর।

এনটিভির, সেই লাইভে প্রশ্ন করেছিলাম – শহিদ ভাই আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যের লেখা ও সুর করা গান কেউ কেউ অর্থের দাপটে গেয়ে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চাইছে, এ নিয়ে আপনার মতামত কি…?

উত্তরে তিনি ‘খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন’ বলে তৎক্ষণাৎ জানালেন, আমি এর প্রতিবাদ ও শাস্তি দাবী করছি। আসলে এমন নোংরামি মেনে নেয়া ঠিক নয়।

তখন বলেছিলাম শহিদ ভাই আমি আপনার ভীষণ ভক্ত ছিলাম । কিন্ত ভক্তি উঠে গেছে, যখন দেখলাম আমার ১ অ্যালবামের টাইটেল গানসহ ২ টি গান চুরি করে আপনিসহ অন্য ২ জন শিল্পীকে দিয়ে গাইয়ে সেই প্রজেক্টটি সিডি চয়েস থেকে প্রকাশ করালেন। আমি এ বিষয়টি সমাধানের জন্য বার বার জানিয়েছি আপনাকে। অথচ এড়িয়ে গেছেন আপনি।

২০১২ ইং সালে প্রকাশিত আমার প্রথম সোলো ‘স্বপ্ন আকাশ’ অ্যালবামের শিরোনাম গানসহ ২টি গান চুরির জবাব এড়িয়ে গিয়েছিলেন সরাসরি এনটিভির একটি মিউজিক প্রোগ্রামে। ফোন এ শ্রোতার প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পর সেদিনের লাইভ প্রোগ্রামের সময়ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল।

কম্পোজার রাফি ও তার মাকে দেয়া লোভনীয় প্রস্তাব এবং রাফি ও তার মায়ের চিকিৎসার সহযোগীতায় একটি নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই হয়ত রেকর্ড- এক অ্যালবাম থেকে ২টি গান চুরি হওয়া।

আমার প্রশ্ন জাগতেই পারে রাফিকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছিল হয়ত এবং এই রাফিকেই পরবর্তীতে দুরবিন ব্যান্ড এর কম্পোজার বানানো হয়েছিল কেন?

চোর বা ছিনতাইকারীকে সমর্থন বা যিনি আশ্রয় দেন, সেও সমান অপরাধী।

রাফির সাথে আমার কাজ শুরুর প্রসঙ্গে আসি। ২০০৯ ইং সালের শেষের দিকে হাওয়ার গাড়িখ্যাত গীতিকার ও সুরকার বন্ধু বাঙালি রোকনকে সাথে নিয়ে নবীন সংগীত পরিচালক রাফির শ্যামলীর আমলীরটেক এর (নানার বাসায়) গিয়ে তার মায়ের সাথে দুটি গানের বিষয়ে আলোচনা হয়। দুটি গানের কাজ চলাকালীন রাফির মা অসুস্থ হন। তাই ওর মা আমাকে প্রস্তাব দিলেন, আমি পুরো অ্যালবাম করলে সে কিছু টাকা পাবে। চিকিৎসার জন্য সহায় হবে। তখন আমি বললাম, পুরো অ্যালবাম কিভাবে করি। শীতল ভালোবাসা শিরোনামের একটা গানের কাজ সংগীত করেছে তানভীর রাসেল। আর দুটো গান করছেন সুমন কল্যাণ দাদা ।গাইড ভয়েসও দিয়ে ফেলেছি। ষ্টুডিও পিওর সাউন্ডে দিনরাত ভাবি বসে কি করা যায় রাফির মায়ের সাহায্যে।

সিদ্ধান্ত নিলাম আমার দুটি গানের মিউজিক করাবো রাফিকে দিয়ে। একটি হলো আমার কথা ও সুরে। অপরটি হলো’ চলো ছুটে ছুটে যা ই’আলবামের টাইটেল গান (স্বপ্ন আকাশ)। শিরোনাম গানটির গীতিকার ছোট ভাই তোহিদুল ইসলাম তোহিদ-(বিপিএম) বর্তমান কাউন্টার টেররোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার) হিসেবে দায়িত্বরত।

শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরির সিঁড়িতে বসে গানটির সুর করেছিলাম, রাফির মা (রিপা আন্টি) খালি গলায় গানটা শুনে বললেন, তাহলে এই গানটাও দাও। আমি ভাবলাম, অসুস্থ মানুষ আন্টি। যদি তার উপকার হয় চিন্তা করে আমার ৬টি গান এর কাজ দিলাম রাফিকে। পরে আমি মগবাজার পিওর সাউন্ড ষ্টুডিওতে সুমন দাদা কে বুঝিয়ে বলি।

রাফির বাসায় ওই গানের ভয়েস দেই কিছু দিন পরে। গানটা ভালো হওয়ার পরে সে আমাকে বললো, ভাইয়া এইটা ডুয়েট করলে ক্লিক করতে পারে। তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে কাকে নেবো..? উঠে আসে পড়শী-কনাসহ কয়েক জনের নাম। পড়শীর মা ও ভাইয়ের সাথে কথা বলে মিল না হওয়ায় আমি আমার গানের সিঙ্গেল ভার্সন টাই রেখে দিলাম।

এর পর রাফি পার্ট টাইম কাজ শুরু করেন মনির ভাইয়ের ফাইম মিউজিক এ। সেখানেই আমার গানটির ফাইনাল ভয়েস দিয়ে বললাম, গানটা মিক্স মাস্টার কর। আমার মালয়েশিয়ায় শো আছে। এটা বলছি ২০১২ সালের কথা। রাফিকে আমি বললাম, আগস্ট মাসে ফিরে এসে আমার গান রিলিজ দেবো। ঐ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেয়াদব, লোভী,অর্থ পিপাসু, মা নামের কলঙ্কিনী তার ছেলের ক্রিয়েটিভিটিকে পুঁজি করে অন্যের মেধাকে চুরি করে এই অন্যায়ে জড়িয়ে পরেন রিপা আন্টি(রাফির মা)।

এরপর গত বছর ২০১৭ সালে জানতে পারলাম আমার চুরি যাওয়া গানটি নাকি ভিডিও বানিয়েছেন শহিদ। ভিডিওটি দেখে জানুয়ারিতে জি সিরিজের কর্নধার খালেদ ভাইকে আবারো বললাম, কিছু একটা করতে। বিগত দিনের মতই আবারো সরাসরি তিনি শহিদকে কিছু না বলে দায়িত্ব দিলেন গীতিকার ও তৎকালিন নিউজ জি২৪ডটকম এর সম্পাদক অনুরূপ আইচ ভাইকে। কয়েকদিনেও সমাধান না হওয়ায় জি সিরিজের অফিসে অনুরূপ ভাইয়ের সাথে কথা বলতেই তুমুল ঝগড়ায় জড়িয়ে পরলাম উভয়ে। অনুরূপ ভাই গায়ক শহীদের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া করলেন আমার সাথে। কিছুক্ষন পর খালেদ ভাই আমাকে শান্ত করে অনুরুপ ভাইয়ের সাথে ঝগড়ার সমাধান করে দেন। কিন্তু শহিদ আর আমার বিষয়টা মুখথুবড়ে পরেই রইলো। পরে জানতে পারলাম, এটাও একটা চাল ছিল অডিও কোম্পানীর।

শুধু মাত্র আমিবড় কোনো সেলিব্রেটি না হওয়ায় জন্য, এমন কি নিউজ লেখার পরেও সেই নিউজ প্রকাশ করেনি নিউজজি২৪ডটকম। অথচ অডিও কোম্পানি জি সিরিজ চাইলেই এটির সমাধান অনেক আগেই হয়ে যেত।

এই সমস্যার সুন্দর সমাধানের জন্যে আমি ফোন দিলাম রাফি, ওর মা ও শহীদ ভাইকে। শহীদ আমাকে জানালো, হ্যা…ঘটনা সত্যি। আমি টাকা দিয়ে গানটা কিনে নিয়েছি রাফির কাছ থেকে। আমি বললাম, শহীদ ভাই… আপনি সচেতন মানুষ জানি। কেন আপনি অন্যের ছিনতাই-চুরি যাওয়া জিনিস কিনবেন? আর আমার গানের কম্পোজ তো রাফিই নিজেই করেছে।

আমি শহীদকে প্রস্তাব দিলাম, আমার টাকা লাগবে না। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে ওই গানে আমার নামটা ব্যবহার করে স্বীকৃতি দিন। নইলে ব্যাপারটা ঠিক হচ্ছে না।

আর তা না হলে আসেন, দুজনেই এই গানে ভয়েস দিই। যদি আমার থেকে আপনি ভালো গাইতে পারেন তবে আমার এই গানের দাবি ছেড়ে দেবো আপনার কাছে। আমি এই অফার দেয়ার পর তিনি কল কেটে দিলেন। পরে বুঝলাম আমার থেকে উদার মানুষিকতা শহীদের নেই।

আমারো কষ্ট লাগছে এই কথাগুলো লিখতে। তবে যে বাবা মায়ের সন্তান চুরি যায়, সে-ই বুঝে কষ্টটা কি ? আমার লেখা ও সুর করা গান তো আমারই সন্তান। ওই সময় মিউজিক ডিরেক্টর রাফির ষ্টুডিও ছিলো না। আমি তাকে স্টুডিও বানারোর টাকা দিয়েছি। তার পড়ার ভালো পোশাক ছিলোনা । আমি দিয়েছি। খাবারের ও তার মায়ের ঔষধের টাকা দিয়েছি। আর শেষে এই রাফিই আমার গান চুরি করে বেচে দিল শহীদের কাছে। এর বিচার পেলাম না শহীদের কাছেও।

গায়ক এম আই মিঠু
এরপর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি অফ বাংলাদেশ (এমআইবি) এর তৎকালিন সভাপতি আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন জনাব নাজমুল হক ভূঁইয়া খালেদ ভাইকে জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করলাম এমআইবিতে। পরে খালেদ ভাই এ বিষয়ে দায়িত্ব দিলেন শহীদ এর কাছের লোক চ্যানেল ২৪ সাংবাদিক হিরণকে।কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

তার পর আমার ঘনিষ্ট বড় গীতিকার, সুরকার অ্যাডভোকেট মিসিল বঙ্গবাসী দ্বারা দুইবার উকিল নোটিশ পাঠানোর পর কোনো সাড়া মিলল না শহীদ কিংবা রাফির। কয়েকদিন অপেক্ষায় ছিলাম । তাদের লালমাটিয়ার দূরবিন স্টুডিওতে গিয়েছি আমি। দেখা পেলাম না তাদের কারো।

গায়ক শহীদ ভাইকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করতাম এক সময়। লোক মারফৎ জেনেছি, তিনি ভালো মানুষ। কিন্তু আমি সেই হিসেব মেলাতে পারিনি আজো। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, পঁচা শামুকে পা কাটে। যে রাফির জন্যে শহিদ ভাই আমার সাথে চরম অন্যায় করতেও দ্বিধা করেননি, সেই রাফিই আজ নেই তার পাশে কিংবা তার ব্যান্ড দূরবীনে।

বি: দ্র :এই রাফি তার একক অ্যালবাম গাংচিল ও ফাইম থেকে সত্য গোপন করে ১টি অ্যালবাম দুই নামে রিলিজ করেন।পঞ্চম ভাইয়ের গান ও কপি করে ধরা পরে সালিশের মাধ্যমে ক্ষমা পান..যার প্রমাণ কুমার বিশ্বজিৎ দা।



এই পাতার আরও সংবাদ:-





টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-
Theme Customized BY WooHostBD