নিজস্ব প্রতিবেদক,নরসিংদী প্রতিদিন,সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮: ব্যাংকার কর্মকর্তাকে হয়রানি ও তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) মনির হোসেনকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে।
ক্লোজ করার পর সোমবার সকালে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা শফিকুর রহমানকে হয়রানি ও তার সঙ্গে অসদাচরণ করা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হকের নির্দেশে পিএসআই মনির হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক বলছেন, বদলি হওয়া কিংবা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেয়া, এটা চাকরির নিয়মিত অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় পিএসআই মনির হোসেনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে আড়াইহাজার উপজেলা সদরের পিংকি মার্কেটের সামনে শফিকুর রহমান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে হয়রানি ও তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে পিএসআই মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টি শার্ট পরিহিত এক যুবক (পিএসআই মনির হোসেন) এক মোটরসাইকেল আরোহীকে নামিয়ে তার কাছে মোটরসাইকেলের চাবি চাচ্ছেন। কারণ জিজ্ঞাসা করতেই মোটরসাইকেল আরোহীর দিকে তেড়ে যান টি-শার্ট পরা ওই যুবক। এরপর চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা পুলিশের লোক, থানায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাব।’
শেষ পর্যন্ত শফিকুর রহমানকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলসহ থানায় নিয়ে যান পিএসআই মনির। পরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর ওসির হস্তক্ষেপে শফিকুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে শফিকুর রহমান জানান, তার বাড়ি উপজেলার লক্ষিবরদী গ্রামে। তিনি সোনারগাঁও উপজেলায় এক আত্মীয়ের কুলখানি শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পিংকি মার্কেটের সামনে আড়াইহাজার থানার শিক্ষানবিশ এসআই মনির হোসেন তাকে থামিয়ে থানায় নিয়ে যেতে চান। সে সময় তিনি মোটরসাইকেলের সব কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও কোনো কথাই শোনেননি মনির। তাকে জোড় করেই থানায় নিয়ে যান।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার সমকাল অনলাইনে ‘আড়াইহাজারে শিক্ষানবিশ এসআই’র কাণ্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হলো।
..
প্রকাশিত ডেস্ক/ সফুরউদ্দিন প্রভাত/সমকাল/আড়াইহাজার/নারায়ণগঞ্জ।