1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের এর মহানায়ক শহিদ আসাদের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | শনিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের এর মহানায়ক শহিদ আসাদের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

লক্ষন বর্মন। নরসিংদী প্রতিদিন-
শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯:
২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালের ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তবে তিনি সর্বসমক্ষে শহীদ আসাদ নামেই অধিক পরিচিত। তার এই আত্মত্যাগ স্বৈরশাসনবিরোধী চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের। কিন্তু ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের এর মহানায়ক শহিদ আসাদের স্বপ্ন ৫০তম দিবসেও বাস্তবায়িত হয়নি।
ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের মহানায়ক শহিদ আসাদকে বলা হলেও পঞ্চাশ বছরেও তার কোন জাতীয় ভাবে দিবস পালন করা হয়না। এমন অবস্থায় সরকারের সুদৃষ্টি কামানা করছে শহীদের পরিবার। সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ নিলে শহিদের শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তার সম্পর্কে জানান দিতে হবে। পাঠপুস্তকে শহিদ আসাদ জীবনী নিয়ে আসলে আসাদ বেঁচে থাকবে মানুষের মাঝে। তা না হলে শহিদ আসাদ বাংলার মাটি থেকে চিরতরে মুছে যাবে। এই নির্ভীক নিবেদিত প্রাণ শহীদের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বর্তমান সংকট মোকাবেলার শপথ নিয়ে শোষনহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি করেন আসাদের সহযুদ্ধারা।
প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা ধানুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নরসিংদী জেলা ও শিবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও বিএপির নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহিদের সমাধিতে পুষ্প অর্পন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে শহীদ আসাদ স্বাধীনতা পদক পান।

ইতিহাস থেকে জানাযায়, আসাদ ছিলেন তৎকালীন কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং মওলানা ভাসানীর অনুসারী। মেধাবী এই ছাত্র নেতার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প দিনের মধ্যেই ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং তৎকালীন ঢাকা হল শাখার সভাপতির মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিযুক্ত হন। ভাসানীর অনুসারী আসাদ ১৯৬৭ সালে এম.এ. পাশ করার পর ভাসানীর নির্দেশেই গ্রামে চলে এসে কৃষক সমিতি গঠন করেন। এক বৎসরের মধ্যে তিনি শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা ও নরসিংদী অঞ্চলে কৃষক সমিতি গড়ে তোলেন। ১৯৬৮ এর ২৯ ডিসেম্বর ভাসানী পূর্ব বাংলায় হাট বাজারে হরতাল আহবান করলে শিবপুর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে তিনি হরতালের দায়িত্ব পালন করেন। সেদিন হাতিরদিয়ায় পালিত হরতাল চলাকালে পুলিশের বাধা ও গুলির মুখে তিনজন কৃষক কর্মী নিহত হন। আহত হন আসাদ। আহত আসাদ সাইকেল যোগে ঢাকায় আসেন এবং পত্রিকা অফিসে হাতিরদিয়ার ঘটনার বিবরণ দেন। পরের দিন সকল পত্রিকা ও আকাশবাণী থেকে হাতিরদিয়ার ঘটনা ফলাও করে প্রচারিত হয়। হাতিরদিয়া ঘটনা পূর্ব বাংলার আনাচে কানাচে আন্দোলনের বহ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়ে। সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ প্রণীত ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। আন্দোলনের প্রচন্ডতায় বেসামাল হয়ে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার ছাত্র জনতার উপর পুলিশী নির্যাতন শুরু করে। ২০ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ পুলিশী জুলুমের প্রতিবাদে ছাত্র ধর্মঘট, মিছিল ও সভা আহ্বান করে। এই দিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী জমায়েত হয় এবং বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলের একাংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তা ধরে চাঁনখার পুলের দিকে অগ্রসর হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এমন এক পরিস্থিতিতে বেলা প্রায় দু’টোর সময় মূল ঘটনা স্থলের অনতিদূরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব দিকের প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাতে বাহাউদ্দিন নামক পুলিশ অফিসারের পিস্তলের গুলিতে আসাদেও বক্ষ বিদীর্ণ হয়। সাথে সাথে গুলিবিদ্ধ আসাদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। পরদিন ২১ জানুয়ারি সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয় এবং পল্টন ময়দানে এক বিশাল গায়েবানা জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লক্ষাধিক লোক নগ্নপদে মৌন মিছিল বের করে রাজপথ প্রদিক্ষন করে। জানাজা নামাজ আদায়ের পূর্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আসাদের মৃত্যু উপলক্ষ্যে ২২,২৩ ও ২৪ জানুয়ারি শোক কাল ঘোষনা করে।

শহিদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে আসাদ কর্ণার


প্রতিদিন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন ও কালো ব্যাজ ধারণ, ২৩ তারিখ মশাল মিছিল ও ২৪ তারিখে পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ হরতাল পালিত হয়। কর্মসূচীর শেষ দিনটি একটি স্বত:স্ফুর্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়। ফলে মাত্র দুই মাসের মধ্যে মহাশক্তিধর আইয়ুব খানের এক দশকের একনায়কতন্ত্রেও অবসান ঘটে। আইয়ুব শাহীর পতনের প্রতীক হিসাবে ছাত্রজনতা স্বত:স্ফুর্তভাবে আইয়ুবের নাম ফলক নামিয়ে সেখানে আসাদের নাম সংযোজন করে। এভাবে আইয়ুব গেইট আসাদ গেইট, আইয়ুব এভিনিউতে আসাদ এভিনিউতে নামান্তরিত হয়।

শহিদ আসাদের ছোট ভাই ডাঃ এ. এম. নূরুজ্জামান বলেন, আসাদ ভাই যাদের নিয়ে ভাবত, যাদের ভাগ্য পরিবর্তন চেয়েছিলেন তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নাই। ক্ষমতাবানদের শোষন দুর্নীতি কমেনি, তাই কমেনি ধনী-গরিবের সম্পদের বৈসম্য। শহীদ আসাদের মন্ত্র শোষণমুক্ত গণতন্ত্র এদেশে যখন প্রতিষ্ঠিত হবে তখন আসাদের আত্মদান সার্থক হবে। আসাদ ভাই একটি আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। আর তা হল শোষনহীন সমাজ ব্যবস্থা- যেখানে ধনী-গরীবের মাঝে আকাশ পাতাল ব্যবধান থাকবেনা। আমাদের দেশ কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের দেশ। এ দেশের ৮০ ভাগ মানুষই দরিদ্র। আসাদ ভাই চেয়েছিল এদেও অর্থনৈতিক মুক্তি। আর তা পেতে হলে তাদের জাগতে হবে, জাগাতে হবে, নিজের অধিকার সমন্ধে সচেতন হতে হবে। তিনি কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন করতে কাজ করে গেছে। শহীদ আসাদ স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রনায়ক। স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ শহীদের মাঝে আসাদ অনন্য। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হয়, আসাত ভাইয়ের মৃত্যুও ৫০ বৎসর অতিক্রান্ত হলেও আসাদের যে স্বপ্ন ছিল তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

শহিদ আসাদের সহযোদ্ধা আবুল হারিজ রিকাবদার বলেন, আজ আসাদ নেই, কিন্তু স্বাধীন দেশের জাতীয় জীবনে এক চরম সংকটময় সময়ে ৫০তম আসাদ দিবস আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই এ দিনটির তাৎপর্য তেমন গভীর উপলব্ধিতে আসেনা। এ জন্যই শহীদ আসাদকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এখন খবুই জরুরী হয়ে পড়েছে। সমাজের এখন আদর্শহীনতা ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের যে ব্যপ্তি ঘটেছে, তা থেকে উত্তরনের জন্য আসাদকে জানতে হবে এবং আসাদের প্রেরনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। তা হলেই আমাদের দেশের তরুন সমাজকে দেশের জন্য, সমাজের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা যাবে। আসাদ আমাদের অহংকার আমাদের চেতনার পরতে পরতে সংগ্রামের দৃপ্ত অঙ্গীকার রূপে সদাভাস্বর। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের মশাল জ্বালানোর প্রথম স্ফুলিঙ্গ শহীদ আসাদ। ১৯৭১ সালের নয় মাস ব্যাপী মরনপন এক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তবে এ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম হঠাৎ করে শুরু হয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগণের ক্ষোভ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে শানিত হয়ে ধীরে ধীরে পুঞ্জিভূত হচ্ছিলো।

শহিদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ চত্বর


বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আর ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পথ ধরেন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ অনেকেরই প্রেরণার উৎস ছিলো। গৌরব আর অহংকার যেমন একদিকে হৃদয় ভরে উঠে, ঠিক একই ভাবে বেদনায়ও হৃদয় আক্রান্ত হয়। গৌরব আর অহংকার হয় আসাদের সাথে আন্দোলন ও সংগ্রামের সহযোদ্ধা হওয়ার জন্য, অন্যদিকে প্রিয় সহযোদ্ধা, সাথীকে চিরদিনের জন্য হারানোর ফলে হৃদয়ে জাগে বেদনার অনুরণন। শহীদ আসাদ সব সংগ্রাম ও আন্দোলনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে আবহমান কাল।

শহিদ আসাদের বড় ভাই সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঊনসত্তরকে সরকার নানাভাবে অবহেলা করেছে। এর যথার্থ মর্যাদা দেয়া হয়নি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনে যতটা গুরুত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল আজ পর্যন্ত তার সামান্য অংশও পায় নাই। ঢাকা, তথা সারা দেশের বুকে ঊনসত্তরকে স্মরণ করে দেবার মত একটি ক্ষুদ্র চিহ্ন নেই। ৫২- এর ভাষা আন্দোলনকে আমরা স্মরণ করি ঐতিহাসিক শহীদ মিনারের মাধ্যমে, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের আত্মদানের কথা আমরা স্মরণ করি মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে, ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিপুল শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করব আমরা কোন নৈবদ্যে? অথচ এমনটা হওয়ারতো কথা ছিলনা। স্বাধীনতাত্তোর কালে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাপা-জামাত জোট মিলে যে কটি সরকার ক্ষমতায় বসেছে তারা ঊনসত্তরকে কোনই গুরুত্ব দেয়নি।
ঊনসত্তর একটি স্বতঃষ্ফুর্ত গণবিপ্লব, জনগণের হাতে বিরাট শক্তিশালী এক অস্ত্র, যা দিয়ে দেশের বুকের উপর চেপে থাকা দুশাসন, অপশাসন বা স্বৈরাশাসন কর্তাদেরকে ক্ষমতার গদি ছাড়তে বাধ্য হবে। তাই আসাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাইনা কোন সরকার।

# নরসিংদী প্রতিদিন-



এই পাতার আরও সংবাদ:-





DMCA.com Protection Status
টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-নরসিংদী প্রতিদিন-
Theme Customized BY WooHostBD