1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

গর্জালেও ততটা বর্ষেনি ‘বুলবুল’

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক । নরসিংদী প্রতিদিন- রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৯:
বহুল আলোচিত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিল প্রশাসনের। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ১৮ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তৈরি ছিল মেডিকেল টিম, তুলনামূলক অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোস্টগার্ড ছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছিল নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত ততটা বর্ষায়নি এই ঘূর্ণিঝড়, যতটা গর্জে উঠে শুরুতে অবস্থান জানান দিয়েছিল। ফলে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ‘ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি’ থেকে বেঁচে গেল বাংলাদেশ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অধিক সময় বৃষ্টি ঝরানোর কারণেই দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।

কেন্দ্র থেকে যতটা উপকূলের দিকে আসছিল ততটাই গতি কম ছিল বাতাসের। তাতে করে যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ততটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অংশে আঘাত হানতে শুরু করেছে। তখন বাতাসের গতি ছিল ১২০ কিলোমিটারের মতো।

বাতাসের তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে দুবলার চরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। তবে কারও মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপকূলে আঘাত হেনেছে বুলবুল। সেখানে গাছ উপড়ে পড়া বা সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানির খবর আসেনি।

১৮ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে : অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা ১৮ লাখ মানুষকে গতকাল শনিবার দিনের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় সরকার। গতকাল সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি জেলায় ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৫ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে গত ৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়। ৭ নভেম্বর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ১ থেকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছিল। এটি ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থেকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেওয়া হয়। গতকাল সকালে সেটাকে ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড়টির সর্বশেষ অবস্থা দেখেছি মোংলা বন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসছে। এর অভ্যন্তরীণ ঝড়ের গতিবেগ ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। এটা ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে আসছে। সেই হিসাবে আমরা ধারণা করেছি রাত ৮টার থেকে মধ্যরাতের মধ্যে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত করবে।

ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি উত্তর দিকে এগোচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এভাবে এগোলে এটি পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানবে। এখন জোয়ারের সময় তাই ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সারা দিন এক ঘণ্টা পর পর তিনি টেলিফোনে কথা বলেছেন। আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা কী পদক্ষেপ নিয়েছি সেগুলো শুনেছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আমরা যেন এসওডি (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি) অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার ১৮ ঘণ্টা আগে সব উপকূলীয় জনগণকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে পারি’ বলেন এনামুর রহমান। সে জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সবার কাছে নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, শুক্রবার থেকেই লোকজন স্থানান্তর শুরু হয়েছে।

সকাল পর্যন্ত ৩ লাখ লোককে স্থানান্তর করা হয়েছে। যে অঞ্চলগুলো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করছি, আমাদের টার্গেট ১৮ লাখ লোককে সরাতে হবে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড সবাই মিলে সমুদ্র থেকে নৌযান ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার মধ্যে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি সব নিরাপদে সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারব। আমাদের প্রবণতা হলো আঘাত হানার সময়ের আগ মুহূর্তে পর্যন্ত সবাই বাড়িতে থাকতে চায়। সে জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি একটু বল প্রয়োগ করে হলেও তাদের নিয়ে আসার জন্য।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রেগুলো খুব কাছাকাছি, এক কিলোমিটারের মধ্যে সবাই। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা- এই ৯টি জেলার মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, এছাড়া চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর জেলার লোকজনকেও আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার প্যাকেট করে প্রতি জেলায় শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এক একটি প্যাকেটে যে খাবার আছে একটি পরিবার সাতদিন পর্যন্ত খেতে পারবে। এছাড়া ২০০ টন করে চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে প্রায় এক হাজার ৫৪৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে। প্রচুর পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন তারা প্রস্তুত রেখেছে। এনামুর রহমান বলেন, প্রতি মুহূর্তে মাঠ থেকে আমাদের কাছে খবর আসছে কতজন লোক আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে, কতটি আশ্রয় কেন্দ্রে তৈরি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আমরা সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব। উপকূলীয় এলাকার জানমালের নিরাপত্তা শতভাগ দিতে পারব। ‘আমরা মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনি যেন বাংলাদেশের জনগণের ওপর সহায় হন।

যেভাবে করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ : আটলান্টিক মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো নাম রাখার প্রথা চালু হয়। আগে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৭৪ মাইল ছাড়িয়ে গেলে হারিকেন, সাইক্লোন বা টাইফুন হিসেবে ভাগ করা হতো। যেসব ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৯ মাইলের বেশি হতো তাদের বিশেষ নামকরণ করা হতো। বর্তমানে এ তিনটির একটি হলে কোনো ঝড়কে নামকরণ করা হয়।

আগে ঝড়গুলোকে বিভিন্ন নম্বর দিয়ে শনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেসব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হওয়ায় মানুষ এবং নৌযানগুলোকে সতর্ক করা কিংবা পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হতো। মুক্তিযুদ্ধের আগে পূর্ব পাকিস্তানে জোরালোভাবে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের কোনো নাম ছিল না। আবার স্মরণকালের ভয়াবহ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়েরও কোনো নাম ছিল না। ১৯৯৯ সালের ওড়িশার পারাদ্বীপে আছড়ে পড়া শক্তিশালী ঝড়কে সবাই চেনে পারাদ্বীপ সাইক্লোন নামে।

বঙ্গোপসাগর আর আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৪ সালে। ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওমান, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড-এ আট দেশ মিলে ৬৪টি নামের তালিকা তৈরি করে। নাম পাওয়া প্রথম ঘূর্ণিঝড় ‘অনিল’-এর নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। যেটি আছড়ে পড়েছিল গুজরাটে। তারপর এ তালিকা থেকেই পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে।

তবে সে তালিকা এবার শেষের পথে। কিয়ার (মিয়ানমার), মহা (ওমান), বুলবুল (পাকিস্তান)-এরপর আর মাত্র দুটি নাম- পবন (শ্রীলঙ্কা) এবং অম্ফন (থাইল্যান্ড) বাকি আছে। বিশ্ব আবহাওয়ার সংস্থার প্যানেলে আট দেশের সঙ্গে বর্তমানে আরও পাঁচ দেশ-ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন এবং কাতার যুক্ত হয়েছে। তবে জানা যায়, ১৩টি দেশ মিলে একটা তালিকা বানিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই বছর সময় লেগে যাবে বলে জানিয়েছিলেন নয়াদিল্লি আবহাওয়া অধিদফতরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ বিভাগের প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।

ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হলেও আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়কে হারিকেন বলা হয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন। প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের ক্ষেত্রে নাম রাখার প্রথা অনেক আগে এসেছে। ১৯৫৩ সালে শুরু হয় হারিকেনের নাম দেওয়া। প্রথমদিকে মেয়েদের নাম বেশি দেওয়া হতো। পরে ছেলেদের নাম প্রাধান্য পায়।

দক্ষিণ চীন সাগরের সৃষ্ট টাইফুনের নাম ঠিক করে ওই অঞ্চলের দেশগুলো। আমেরিকা ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো মিলে ঠিক করে আটলান্টিকের হারিকেনের নাম। টাইফুন বা হারিকেন সাইক্লোনের চেয়ে বেশি সৃষ্টি হয়। তাই একই নাম বারবার আসে। আবার ক্যাটরিনা বা হাইয়ানের মতো ধ্বংসাত্মক হলে সেই নাম আর কখনো রাখা হয় না।

আঞ্চলিক আটটি দেশ একেকবারে আটটি করে ঝড়ের নাম প্রস্তাব করেছে। প্রথম দফায় মোট ৬৪টি নাম নির্ধারণ করা হয়। আট দেশ মিলে ৬৪টি নামের তালিকা বানালেও ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পর নাম ব্যবহারের দায়িত্ব ভারতের ওপর। যা এখনো চলছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয় সেটি যেন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সামাজিকভাবে কোনোরকম বিতর্ক বা ক্ষোভ তৈরি না করে।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক করা হয় সতর্কবার্তা সহজে পৌঁছে দেওয়া, মিডিয়া রিপোর্ট এবং পরবর্তী গবেষণায় সুবিধার জন্য। তাই নাম যেন ছোট হয় এবং চট করে বোঝা যায়, কোনো সংস্কৃতিকে যেন আঘাত না করে। এসব কারণে নামের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হতে হয়।

সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনী মোতায়েন : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ-পরবর্তী সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব পদাতিক ডিভিশনসমূহ। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটে আঘাত করতে পারে। এ সময় কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার বা তার বেশি থাকতে পারে। সন্ধ্যায় উপকূল অতিক্রম করা শুরু করলে, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে এটা উপকূল অতিক্রম করে যাবে। এরপর এটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা অঞ্চল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে এবং ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শাহ আমানত বিমানবন্দর ১৪ ঘণ্টা বন্ধ ঘোষণা : ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার আশঙ্কায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গতকাল শনিবার বিকাল ৪টা থেকে ১৪ ঘণ্টা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ রোববার (১০ নভেম্বর) ভোর ছয়টা পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) শনিবার বিকাল ৪টা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আজ রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। এরপর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৭টি ফ্লাইটের শিডিউল ছিল। এর মধ্যে দুইটি ছাড়া সব ঠিক সময়ে চলে গেছে। বিকাল ৪টার পর থাকা ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

এছাড়াও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিম (এনডিআরটি), ন্যাশনাল ডিজাস্টার ওয়াটসন রেসপন্স টিম (এনডিডব্লিউআরটি), ইউনিট ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের (ইউডিআরটি) সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

১৩ জেলায় তাৎক্ষণিক রেসপন্সের জন্য নগদ ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সদর দফতরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে একটি মেডিকেল টিম এবং সাইক্লোন-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতে দুটি অ্যাসেসমেন্ট টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শনিবার সকালে সোসাইটির কনফারেন্স কক্ষে ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক এক জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উপ-মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের জন্য খোলা হয়েছে বিডিআরসিএস ‘কন্ট্রোল রুম’। সব ধরনের তথ্যের জন্য ফোন করতে পারেন +০০৮৮-০২-৯৩৫৫৯৯৫ (সরাসরি), পিএবিএক্স-৯৩৩০১৮৮, ৯৩৩০১৮৯, ৯৩৫০৩৯৯-২৮২ এই নম্বরে।

অপরদিকে, চটগ্রাম, বাগেরহাট, খুলনাসহ উপকূলীয় ১৩টি জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপি পরিচালিত উপকূলীয় জেলাগুলোর সব আশ্রয়কেন্দ্রকে প্রস্তুত করা হয়েছে। সোসাইটির ডিজাস্টার রেসপন্স বিভাগ জানায়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য জেলায় মজুদ রাখা হয়েছে হাইজন কিটস্, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, তারপলিন শিট, জেরি-ক্যান ও কম্বল। সোসাইটির উপ-মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।

উপকূলবর্তী জেলা ইউনিটসহ অন্যান্য ইউনিটকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। সোসাইটির কর্মকর্তাসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকাসহ আবহাওয়া বার্তার দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা ৭নং সিগন্যাল ঘোষণার পর থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু : বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দফতর/সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রস্তুতি তদারকি এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গতকাল শনিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় সরকার বিভাগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কক্ষ নং-৬১৬, ভবন-৭ বাংলাদেশ সচিবালয়, ফোন নং- ৯৫৭৫৫৭৬) খোলা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।



এই পাতার আরও সংবাদ:-





DMCA.com Protection Status
টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-নরসিংদী প্রতিদিন-
Theme Customized BY WooHostBD