1. nahidprodhan143@gmail.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  2. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  3. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  4. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  5. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  6. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
  7. subeditor@narsingdipratidin.com : Narsingdi Pratidin : Narsingdi Pratidin
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

জায়গা ও গাছ ছাড়াই ক্ষতিপূরণ নিল চেয়ারম্যান!

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

শুধু পরের ধনই নয়, সরকারি ধনেও পোদ্দারির অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাকে নিজের পৈত্রিক দেখিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে অধিগ্রহণকৃত অন্য জায়গার মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ১৯ এপ্রিল বায়েক ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগী ওই লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত অংশে ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালে কসবা উপজেলার বালিয়াহুড়া মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণকৃত ৩নং খতিয়ানের ২নং দাগের প্রায় দুই একর জায়গার মালিকানা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই জায়গাটি বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন তার বাবা ফজলু মিয়ার মালিকানা দাবি করে এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৪২২ টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি ওই ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এ ছাড়াও ফজলু মিয়ার নামে ৯৩ নং দাগের জায়গায় গাছপালা ছিলনা। কিন্তু অধিগ্রহণকৃত জায়গায় আকাশি জাতের ১৫৭০টি ছোট গাছ (১৫৭০ ঘনফুট), মাঝারি ধরনের ২৮০টি (২৮০ ঘনফুট) ও বড় আকৃতির ৫০টি গাছ (১২৫০ ঘনফুট) এবং ১০০টি কাঁঠাল গাছ (২৫০০ ঘনফুট) ছিল উল্লেখ করে প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিল্লাল সিন্ডিকেট করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া অধিগ্রহণকৃত অন্য জায়গার মালিকদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থও আত্মসাৎ করেছেন তিনি। রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে জমির মালিকদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কম টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বায়েক ইউনিয়নের কইখলা গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী নূরে আলম ভূইয়া সাকিব বলেন, ‘যে জায়গাটি অধিগ্রহণের টাকা নিয়েছেন বিল্লাল, সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা। এছাড়া আমার জায়গা থেকে অবৈধভাবে মাটি তুলে নিয়ে রেলওয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছেন বিল্লাল’।

মো. সোহেল আলম নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে থাকা তাঁর জায়গা অধিগ্রহণ করে রেলওয়ে। ক্ষতিপূরণ বাবাদ তাঁর সাড়ে ৫ লাখ টাকা আসে। কিন্তু তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল জানান, তাঁকে ৩ লাখ টাকা না দিলে ক্ষতিপূরণের চেকটি বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে বিল্লালকে আড়াই লাখ টাকা দেন তিনি। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বিল্লালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও জানান সোহেল।

বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী আজমল বলেন, ‘বিল্লাল চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাটি তাঁর বাবার নামে খারিজ করে। এরপর রেলওয়ে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অপর জায়গাটিতে গাছের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও ক্ষতিপূরণ বাবদ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বিল্লাল’।

বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আল মামুন ভূইয়া বলেন, ‘অধিগ্রহণকৃত জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করে বিল্লাল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। আমি নিজেও এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি’।

তবে অভিযুক্ত বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এই সম্পদগুলো আমার দাদার আমলের। আমার বাবার নামে আরওআর রেকর্ড রয়েছে। ৮৫ শতাংশ জায়গা স্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়া হয়েছিল। ১৯৮৮-৮৯ সালের বান্দোবস্ত অনুপাতে ওনার নামেই রেকর্ড হয়েছে। এই রেকর্ডভুক্ত জায়গা থেকেই রেলওয়ে অধিগ্রহণ করেছে। তিনটি সংস্থা জায়গা দেখে বিল দিয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ বা গাছের ক্ষতিপূরণের কোনো টাকা আমি পাইনি। আমার বাবা পেয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রেলেওয়ের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রত্যেকে নিজ নিজ বিল তুলেছেন। আমাকে রাজনৈতিভাবে হেয় করার জন্য এই অভিযোগ তোলা হয়েছে’।

জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অঞ্জন দাস বলেন, ‘রেলওয়ের ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের সময় আমি দায়িত্বে ছিলামনা। তাছাড়া জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়াও বিষয়টি আমার জানা নেই’।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে আমাদের ১২৪৫ একর জায়গা আছে। কসবার বালিয়াহুড়া মৌজাতেও জায়গা আছে। অধিগ্রহণকৃত জমির দাগ নম্বরসহ অন্যান্য তথ্যগুলো আমরা চিঠি দিয়ে রেলওয়েকে জানিয়ে দিব। যারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার বিপরীতে অধিগ্রহণের টাকা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধ।

এই পাতার আরও সংবাদ:-




টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-
Theme Customized BY WooHostBD