1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

পাঁচ বছরে সাড়ে তিন হাজার নৌ-দুর্ঘটনা

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

দেশে নৌ-দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। সবশেষ গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় তিতাস নদের লইছকা বিলে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটে। অতীতেও এমন অনেক দুর্ঘটনার নজির রয়েছে দেশের নৌ-পথগুলোতে। এসব ঘটনায় মামলা হয়, গ্রেফতারও করা হয় দায়ীদের। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু অধিকাংশ নৌ দুর্ঘটনাই সীমাবদ্ধ থাকে তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বললেই চলে। কখনো কখনো দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কিংবা সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি দিয়েই দায় এড়ানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশের বাস্তবায়ন হয় না।

৫ বছরে সাড়ে তিন হাজার নৌ-দুর্ঘটনায় ৩১১৭ জনের মৃত্যু : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে জানা গেছে, দেশের পুকুর, ডোবা, খাল-বিল, হাওর ও নদীপথে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে ৩ হাজার ৪৮৬টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন।

ঢাকায় ৫ বছরে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি :
এই হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায় নৌ-দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। শুধু এ বিভাগেই গত ৫ বছরে ছোট বড় নৌ-দুর্ঘটনায় এক হাজার ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

২০২০ সালে সারা দেশে ঘটা ১,২০৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ডুবুরি কল পায় ফায়ার সার্ভিস। এসব দুর্ঘটনায় ৯৫৩ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৭২৪ জন এবং মহিলা ২২৯ জন। আহত হন ২৫৬ জন পুরুষ এবং ৬৮ জন মহিলা। এই বছর শুধু ঢাকা বিভাগে মারা যান ৩১৫ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১২৬ জন, রাজশাহীতে ৮৯ জন, খুলনায় ২৮ জন, বরিশালে ৪২ জন, সিলেটে ৪১ জন, রংপুরে ১০০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২১২ জন মারা যান।

২০১৯ সালে মোট ৮২০টি নৌ-দুর্ঘটনার হিসাব রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কাছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৮৫ জন মারা যান, উদ্ধার করা হয় ৬৬৮ জনকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ৯২ জন, রাজশাহীতে ৫৬ জন, খুলনায় ৫৭ জন, বরিশালে ৩২ জন, সিলেটে ৫৫ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৭ জন মারা যান।

২০১৮ সালে মোট ৫০৮টি নৌ-দুর্ঘটনার তথ্য জানায় ফায়ার সার্ভিস। এসব দুর্ঘটনায় ৪২৬ জন মারা যান, উদ্ধার করা হয় ৪৫৫ জনকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২১ জন, চট্টগ্রামে ৮৭ জন, রাজশাহীতে ৩৮ জন, খুলনায় ৩৮ জন, বরিশালে ১৭ জন, সিলেটে ৩৯ জন, রংপুরে ৪৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০ জন মারা যান।

২০১৭ সালে ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে মোট ৫৩০টি নৌ-দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। এসব দুর্ঘটনায় ৬৪৩ জন মারা যান, উদ্ধার করা হয় ৫৭১ জনকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬২ জন, চট্টগ্রামে ৬৭ জন, রাজশাহীতে ৩৫ জন, খুলনায় ৩৪ জন, বরিশালে ৩৬ জন, সিলেটে ৪৮ জন, রংপুরে ৮০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮১ জন মারা যান।

আর ২০১৬ সালে মোট ৪২৫টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪১০ জন মারা যান, উদ্ধার করা হয় ৩২১ জনকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭৫ জন, চট্টগ্রামে ৬২ জন, রাজশাহীতে ৩৮ জন, খুলনায় ২৮ জন, বরিশালে ৬০ জন, সিলেটে ৮ জন এবং রংপুরে ৩৯ জন মারা যান।

মর্মান্তিক যত নৌ-দুর্ঘটনা :
গত ৩ মে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে নোঙর করা একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোট ডুবে ২৬ জন যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ৩০ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে যাচ্ছিল।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কয়লাঘাট এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজ ‘এসকেএল-৩’ এর বেপরোয়া ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল সাবিত আল হাসান’ ডুবে গেলে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ২০২০ সালের ২৯ জুন রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি ময়ূর-২ এর আঘাতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ ডুবে গেলে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি মোস্তফা’র দুর্ঘটনায় ৭০ জন যাত্রী নিহত হন।

এর আগে ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট মাওয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল পিনাক-৬’ ডুবে যায়। আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে টানা সাত দিন অভিযান চালিয়েও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। ৬০ জন যাত্রীর খোঁজ মেলেনি।

এ ছাড়া ২০০৫ সালে একটি ফেরিডুবে ১১৮ জন যাত্রী নিহত হন। একই বছর এমএল মিতালী ও এমএল মজলিশ নামে দুইটি ছোট লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ডুবে গিয়ে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

চাঁদপুরে ২০০২ সালে এমভি সালাউদ্দিন ডুবে মারা যান ৩৬৩ যাত্রী। ২০০৩ সালে ডুবে যায় এমভি নাসরিন। মারা যান ৬৪১ জন।

২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি জলকপোত এবং এমভি রাজহংসী নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রাজহংসী লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়, সে সময় ওই লঞ্চের ১৬২ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালে অ্যাটলাস স্টার নামে একটি লঞ্চ ডুবে ২০০ জন যাত্রী মারা গিয়েছিলেন।

মৃত্যু বেশি লঞ্চ দুর্ঘটনায় :
নৌ-পরিবহন অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে ৬০৮টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২২৪টি ছিল যাত্রীবাহী নৌযান। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩ হাজার ৬৩৩ জনের। আর উল্লিখিত সময়ে শুধু লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭৮১ জনের।

কারণ হিসেবে যা বলছে নৌ-পরিবহন অধিদফতর:
‘ডোমেস্টিক ফেরি সেফটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক উপস্থাপনায় ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করে নৌ-পরিবহন অধিদফতর। এতে উল্লেখ করা হয়, দেশে ৪৩ শতাংশ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে অন্য নৌযানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে। লঞ্চ দুর্ঘটনার দ্বিতীয় প্রধান কারণ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন। মোট দুর্ঘটনার ২৫ শতাংশ ঘটেছে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২৩ শতাংশ, আগুন ও বিস্ফোরণের কারণে ৬ শতাংশ এবং বাকি ৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে লঞ্চের তলা ফেটে গিয়ে। এসবের বাইরে মানবসৃষ্ট ভুল, নৌরুট ও বন্দরের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতার অভাবের কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

নৌ-পরিবহন অধিদফতরের উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, দেশের নৌ-রুটগুলোয় চলাচল করা নৌযানের ফিটনেস সনদ না থাকা, নৌ-চ্যানেলের প্রয়োজনীয় নাব্যতা ও প্রশস্ততা না থাকা, চালকের অদক্ষতা ও অনেক চালকের লাইসেন্স না থাকা, চালকদের নৌযান সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকা, বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল এবং অন্য নৌযানকে ‘ওভারটেক’ করার প্রবণতায় ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।

তদন্ত এবং প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ মামলাগুলো :
আলোচিত বিভিন্ন নৌ দুর্ঘটনার মামলাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব মামলায় সাক্ষীরা ঠিকমতো সাক্ষ্য দিতে আসেন না। আর তাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয় না কোনো মামলা।

এ ছাড়া অধিকাংশ নৌ দুর্ঘটনাই সীমাবদ্ধ থাকে তদন্ত এবং প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বললেই চলে। কখনো কখনো দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কিংবা সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি দিয়েই দায় এড়ানো হয়। পরে এই লঘু শাস্তিমূলক পদক্ষেপও উঠিয়ে নেওয়া হয়।

সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই:
তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়াতে যেসব সুপারিশ করা হয়, সেগুলোরও বাস্তবায়ন হয় না। আবার মামলাগুলোতে অভিযুক্ত প্রভাবশালী নৌযান মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নৌ-আদালতেও যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, গত ৩০ বছরে সংঘটিত নৌ দুর্ঘটনায় চারশ থেকে পাঁচশ তদন্ত কমিটি হয়েছে। অনেকে রিপোর্ট দিয়েছেন, অনেকেই দেননি। তবে জমা দেওয়া রিপোর্টে সব সময় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সেগুলো যদি সঠিক সময়ে ঠিকমতো বাস্তবায়ন হতো, তাহলেও দুর্ঘটনার মাত্রা অনেক কমিয়ে আনা যেত।
খবর: খোলা কাগজ



এই পাতার আরও সংবাদ:-





টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-
Theme Customized BY WooHostBD