1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

ফাঁসি শেষে দুই ধর্ষকের দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন-
  • প্রকাশের তারিখ | মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের পর খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়া দু’জন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায় লক্ষীপুর গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু (৫০) ও একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুল (৫০)।

সোমবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে এই জোড়া ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর অন্য সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিবারের ৭ সদস্য কারাগার থেকে আজিজ ও কালুর মরদেহ নিয়ে আসেন। তাদের দুজনের জন্য আলাদা দুটি এ্যাম্বুলেন্স ছিলো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, ফাঁসি কার্যকরের জন্য কয়েকদিন আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি নেই। শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শেষ বারের মতো তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের দুজনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দুই পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছি। এছাড়া তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী গরুর কলিজা ও ইলিশ মাছ, রোববার গ্রিল ও নান রুটি, সোমবার মুরগির মাংস, দই ও মিষ্টি খাওয়ানো হয়। ফাঁসি কার্যকর করার জন্য কারাগারের নিরাপত্তায় সন্ধ্যার পর থেকেই গোটা এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের নজরদারি বাড়ানো হয়।

কারাসূত্রে জানা গেছে, দুই খুনির ফাঁসি কার্যকরে রাতে একে একে কারাগারে প্রবেশ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার, সিভিল সার্জন দিলিপ শেখ আবু শাহীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান। রাতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ওই দুই আসামিকে গোসল করানোর পর তাদের তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। রাতেই স্বজনদের সঙ্গে শেষ স্বাক্ষাতের পর তাদের খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাদের রায় পড়ে শোনানো হয়। পরে তাদের জমটুপি পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হয়।

রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে মিন্টু ওরফে কালু এবং এর পাঁচ মিনিট পর আজিজ ওরফে আজিজুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকরে অংশ নেয় পাঁচ জল্লাদ মশিয়ার রহমান, কেতু কামার, লিটু হোসেন, আজিজুর রহমান ও কাদের। ফাঁসি কার্যকরের পর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসক টিম তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ফরেনসিক টিম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় কালু ও আজিজ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে থাকেন। লাশ রাতেই বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার বাতাস। ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে লাশ দাফন করা হয়।

আলমডাঙ্গা থানার জোড়গাছা গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রায়লক্ষ্মীপুর মাঠে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় ওই দুই নারীর। এ ঘটনায় খুনের পরদিন নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নার্গিস বেগম আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুজনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দুজন হলেন— একই গ্রামের সুজন ও মহি। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান আসামি মহি।

২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এর পর আসামিপক্ষের লোকজন হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আসামির রায় বহাল রাখেন এবং অপর আসামি সুজনকে খালাস দেন। ওই বছরের ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সুজন। এদিকে মিন্টু ও আজিজ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা আবেদন করলেও সেটি নাকচ করা হয়।



এই পাতার আরও সংবাদ:-





DMCA.com Protection Status
টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-নরসিংদী প্রতিদিন-
Theme Customized BY WooHostBD