1. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  2. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  3. shahinit.mail@gmail.com : narsingdi : নরসিংদী প্রতিদিন
  4. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  5. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৬ অপরাহ্ন

অনিয়ন্ত্রিত সুতার বাজার: মাধবদীতে তাঁত মালিকদের নাভিশ্বাস

মো: আল-আমিন সরকার | জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন
  • প্রকাশের তারিখ | মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে দফায় দফায় সুতার দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম বস্ত্রশিল্প সমৃদ্ধ শহর মাধবদীর ছোটবড় প্রায় ৬ হাজার তাঁতশিল্প মালিক। একদিকে মেশিনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধিসহ কাপড় উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল সুতার বাজারের অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে করোনার কারনে দেশের বাজারে কাপড়ের তেমন চাহিদা না থাকায় কারখানায় জমা হচ্ছে কাপড়ের স্তুপ। সবমিলিয়ে তাঁত শিল্প মালিকদের যেন নাভিশ্বাস উঠেছে। ইতোমধ্যেই মাধবদীর অনেক তাঁতশিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোও বন্ধের পথে বলে জানান তাঁতশিল্প সংশ্লিষ্টরা । এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাজারো তাঁতশিল্প কারখানাসহ সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষ।

তাঁত শিল্প মালিকদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পাউন্ড প্রতি সুতার দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা। এই হিসেবে একবস্তা সুতা কিনতে এখন বেশি গুণতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এতে গজ প্রতি কাপড়ের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ টাকা বেড়ে গেলেও বাজারে মিলছে না কাপড়ের কাঙ্ক্ষিত দাম।

মাধবদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি বাজারে এসএন, হামজা, জাাকিয়া, এসএ, এমএ এইচ, মুক্তা, সাবেদ আলী, কুমিল্লা, লিটল স্টার প্রভৃতি ব্র্যান্ডের সুতা রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডের পাউন্ড প্রতি সুতার বর্তমান দাম ৬০ কাউন্ট ২০৭ টাকা, ৪৫ কাউন্ট টিসি ৫৩ টাকা, ৫০ কাউন্ট (বাইনের সুতা) ৯০ টাকা, ৫০ কাউন্ট (তানা সুতা) ২০৫ টাকা, ৪০ কাউন্ট (কটন সুতা) ১৮০ টাকা, ৩০ কাউন্ট ৭০ টাকা, ২০ কাউন্ট ১২৫ টাকা। গত একমাস আগেও এগুলোর দাম পাউন্ড প্রতি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কম ছিলো । গত ৬ থেকে ৭ মাসে অধিকাংশ সুতার মূল্য প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে বলে তাঁত মালিকরা জানান। তারা আরো জানান, মাধবদীর সুতার বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই এখানকার কয়েকটি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাতে। এগুলোর মধ্যে আনন্দ ইয়ার্ণ ট্রেডিং, মডার্ন ইয়ার্ণ ট্রেডিং, এনায়েত ট্রেডার্স, একতা ট্রেডার্স, হক ট্রেডার্স, সজিব ট্রেডার্স ও বনানী ট্রেডার্স অন্যতম।

সুতার বাজারের এই অবস্থার জন্য শিল্প মালিকরা সরকারের নজরদারির অভাবকে অনেকাংশে দায়ী করে জানান, দেশের শীর্ষভাগ কাপড়ের যোগানদাতা এই বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের বাজারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন নজরদারী না থাকা এবং পণ্যের গায়ে কোন নির্ধারিত মূল্য না থাকায় কতিপয় অসাধু ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যখনতখন বাজারে সুতার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

মাধবদীর মনোহরপুরের এএস টেক্সটাইল মিলের মালিক গাজী সফিকুল ইসলাম জানান, সুতার বাজারের অস্থিরতায় আমাদের অনেকেই শুধুমাত্র রাতের শিফট চালাচ্ছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে এটুকুও বন্ধ করে দিতে হবে। এমতাবস্থায় টেক্সটাইল শিল্পকে বাঁচাতে প্রশাসন কর্তৃক বাজার মনিটরিংসহ সুতার প্যাকেটে মূল্য লেখার প্রচলন করার দাবি জানান তিনি।

আলগী মনোহরপুরের আর.এন টেক্সটাইল মিলের মালিক মশিউর রহমান ফারুক জানান, বাজারের গুটিকয়েক অসাধু সুতা ব্যবসায়ীর কাছে মাধবদীর হাজার হাজার তাঁতশিল্প মালিক আজ জিম্মি। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এই শিল্পের সাথে জড়িত লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনায় গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থের লাগাম টেনে ধরা উচিৎ।

দোলন সাহা নামে আরেক শিল্প মালিক জানান, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা বিদেশ থেকে বন্ডের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় সুতা আনার সুযোগসহ নানারকম সুবিধা পাচ্ছে। এসব পোশাক শিল্প মালিকদের অনেকেরই আবার স্পিনিং মিল রয়েছে। এছাড়া সরকারের উচ্চ মহলেও রয়েছে তাদের বিশেষ সখ্যতা। ফলে নিজেরা শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করলেও তৈরি পোশাকের কাঁচা মালের যোগানদাতা তাঁতশিল্প মালিকদের সুতা আমদানীতে সরকারী কোনরকম সুবিধা পেতে তারাই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলশ্রুতিতে তাঁতশিল্প মালিকদের সুতা আমদানিতে সাড়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক গুণতে হয়। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁতশিল্প মালিকদের দেশ থেকে সুতা কিনতে হয়। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় ওসব সুবিধাভোগী স্পিনিং মিল মালিকেরা। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার মূল্য কেজি প্রতি কখনো ২০ সেন্ট বাড়লে আমাদের দেশের স্পিনিং মিল মালিকরা বাড়িয়ে দিচ্ছেন পাউন্ড প্রতিই ২০ টাকা। এতে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই অবস্থায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় টেক্সটাইল মালিকদের সুতা আমদানীর সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

এদিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুতার দাম বাড়ানোর অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন সজীব ট্রেডার্সের মালিক উৎপল সাহা। তিনি জানান, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দাম প্রকৃত অর্থেই বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে সুতার দাম বাড়ছে। তিনি আরো জানান, প্রতিযোগিতার বাজারে প্রত্যেক ব্যবসায়ীই চান সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদেরকে ধরে রাখতে, সেখানে সিন্ডিকেট করার প্রশ্নই আসেনা। মাধবদীতে সপ্তাহে প্রায় আড়াই হাজার টন সুতার চাহিদা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দিনদিন চাহিদা আরো বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় সুতার উৎপাদন নেই। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি দিকে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত নতুন তুলা স্পিনিং মিলগুলোতে আসা শুরু করলে বাজার অনেকটাই স্থিতিশীলতায় চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন মানবজমিনকে জানান, দেশের বাজারে প্রচলিত সুতা তৈরির চেয়ে বিদেশে রপ্তানিমুখী সুতায় লাভ অনেক বেশি হওয়ায় স্পিনিং মিল মালিকরা দিনদিন রপ্তানিমুখী সুতা তৈরীর দিকেই বেশি ঝুঁকছে। তাই, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুতার উৎপাদন না থাকায় সংকট বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কতিপয় পয়সাওয়ালাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুতা কিনে মজুদ করে রাখার কারণেও বাজারে সংকট দেখা দিচ্ছে বলে তার অভিমত। পরিশেষে, একজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজেও দ্রুত এই সংকটের সমাধান কামনা করেন।

– মো: আল-আমিন সরকার | জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | নরসিংদী প্রতিদিন



এই পাতার আরও সংবাদ:-





DMCA.com Protection Status
টিম-নরসিংদী প্রতিদিন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শাহিন আইটি এর একটি প্রতিষ্ঠান-নরসিংদী প্রতিদিন-
Theme Customized BY WooHostBD