| ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী | শনিবার

“মেলায় যাওয়া হলো না,চলে গেলেন না ফেরার দেশে”

নরসিংদীর বেলাবতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ”

নরসিংদী প্রতিদিন ডেস্ক: ঢাকা-সিলেট মহসড়কের মৃত্যূর ফাঁদে ফাল্গুনের মেলায় যাওয়া হলো না ১২ যাত্রী’র চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজ (১২ ফেব্রুয়ারী) রবিবার সকাল ৭টায় নরসিংদীতে বেলাব উপজেলার দড়িকান্দী নামক স্থানে বাস ও মাইক্রোবাসের মুুখোমুখী সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ১৩ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরো ৫ জন গুরত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধিন হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন- হাসান (৩৫), তার স্ত্রী হালিমা (২৬), ছেলে ইশান (১২) ও শ্যালিকা জুম্মা (১৬), মানিক পরিবারের মানিক (৫০), তার স্ত্রী মাফিয়া (৪০), ছেলে অন্তর (৭) ও পুত্রবধূ শারমিন ফাতেমা (২০), অন্য পরিবারের ভাই-বোন নাজমুল (৩৬) ও সাধনা (৪০) এবং ড্রাইভার সহকারী হিরা মিয়া (৪২)। নিহত একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে কুতুব উদ্দিনের স্ত্রী ফিরুজা (৩০) ও ফাতেমা বেগম (৩০) ও অজ্ঞাতনামা ড্রাইভারকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ মো.মিজানুর রহমান জানান, নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের হাওড় এলাকার ছাতিরচর গ্রামের বাসিন্দা হাসান ও মানিক পরিবার নিয়ে ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে বসবাস করতেন। প্রতি বছর তারা ছাতিরচরের ফালগুনের একটি গ্রাম্য মেলায় যোগ দিতে আসতেন। এবারো রোববার তারা মেলায় যোগ দিতে ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ছাতিরচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। মাইক্রোবাসটি বেলাব উপজেলার দড়িকান্দী এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ পাশের রাস্তা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা মাইক্রোবাসটির সামনে পড়ে। মাইক্রোবাসটি সিএনজি অটোরিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে অগ্রদূত পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস এসে মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে মাইক্রোবাসটি ধুমড়ে-মুচরে যায় ও  তেরজন যাত্রী প্রান হারান।

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপলোর ছাতিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হানিফ ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে ছাতিরচর এলাকার নিহতদের স্বজনরা লাশ সনাক্ত করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যায়। বিকেল ৪টায় নিহতদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। লাশ দেখতে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ভীড় করেন। এসময় সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আত্মীয়-স্বজনের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার পর নামাজে জানাজা শেষে গ্রামের গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনার পর নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যজিষ্ট্রেট মো. মোজ্জাম্মেল হক, বেলাব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা, ভৈরব হায়ওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম খান ঘটনাস্থল পদিরর্শন করেন।
নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদানের দেওয়া ঘোষণা করা হয়।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *