| ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | বুধবার

রায়পুরায় কবি ও শিক্ষক মহসিন খন্দকারের উপর সন্ত্রাসী হামলা সর্বমহলে প্রতিবাদের ঝড়,পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী : নরসিংদীর রায়পুরায় কবি ও শিক্ষক মহসিন খন্দকারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা শ্রীরামপুর রেলগেইট এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় শুক্রবার আহত কবি মহসিন খোন্দকার বাদী হয়ে রায়পুরা পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম শাহীনকে হুকুমের আসামী করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
কবি মহসিন খন্দকার চরবেলাব ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী প্রভাষক, উপজেলা উদীচি শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর ছড়াগ্রস্থ, কাব্যগ্রস্থ ও প্রবন্ধের ১৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
পুলিশ ও আহত কবি মহসিন খন্দকারের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রায়পুরা কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বছর খানেক পূর্বে “রায়পুরা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন” নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ হয়। এতে সাহিদ হোসেনকে সভাপতি ও মাহবুবুল আলম শাহীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
অপরদিকে রায়পুরা কলেজ এর ৫০বৎসর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তণ ছাত্র-ছাত্রীদের এক পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান উৎযাপন কমিটি গঠন করা হয়। এতে রায়পুরা পৌরসভার মেয়র জামাল মোল্লাকে আহবায়ক ও কামাল মোল্লা সদস্য সচিব করা হয়। অনুষ্ঠান উৎযাপন কমিটির সদস্য করা হয় কবি মহসিন খন্দকারকে।
আহত কবি মহসিন খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, রায়পুরা কলেজের পূর্ণমিলনী উৎযাপন অনুষ্ঠান নিয়ে মাহবুবুল আলম শাহীনের সাথে কিছু দিন পূর্বে তাঁর কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ঐ সময় মাহবুবুল আলম শাহীন মহসিন খন্দকারকে বিভিন্নভাবে হুমকী-ধমকীও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উক্ত ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা শ্রীরামপুর রেলগেইট এলাকায় শাহিনের লোকজন মহসিন খন্দকারের উপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
এদিকে কবি ও শিক্ষক মহসিন খন্দকারের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার বিকালে স্থানীয় বাকবি মহসিন খন্দকারের উপর হামলার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রায়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু মিলনায়তন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমান উদ্দিন ভূঞা, পৌরসভার মেয়র জামাল মোল্লা, জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি অহিদুজ্জামান পলাশ, চান্দেরকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম মিঠু, পৌর যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন বলেন, হামলাকারী যে দলেরই হোক না কেন তাদেরকে শীঘ্রই আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখিন করতে হবে। হামলাকারীরা কখনো আওয়ামীলীগের শুভাকাঙ্খী হতে পারে না।
অভিযোগের জানতে চাইলে রায়পুরা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, মহসিন খন্দকারের সাথে আমার কোন দ্বন্ধ নেই। আমি তাকে কখনো কোন ধরনের হুমকী-ধমকীও দেয়নি। সিরাজনগর হাই স্কুল মাঠে খেলা নিয়ে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে বাগবিত-ার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আর সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক লেবাস দিয়ে একটি পক্ষ গোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্ঠা করছে।
অভিযোগ উঠেছে, কবি মহসিন খন্দকারের হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীন পুলিশ। ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা নথিভুক্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *