| ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী | শুক্রবার

নরসিংদীর পলাশ ও শিবপুর সীমান্তে অবাদে চলছে মাদক ও জুয়ার আসর

পলাশ প্রতিনিধি:পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নরসিংদীর পলাশ-শিবপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবাদে চলছে মাদক ও জুয়ার রমরমা আসর। পলাশ উপজেলার শেষ সীমান্ত গজারিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড তালতলি গ্রাম এবং শিবপুর উপজেলার শেষ সীমান্ত সাদারচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ সাদারচর এলাকাটি ঘিরে মাদক ও জুয়ার আখড়া গড়ে উঠেছে। এলাকাগুলোতে থানা পুলিশের আনাগুনা কম থাকায় রমরমা জুয়ার আসর ও মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছে ওইসব এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। প্রতিদিনই প্রকাশ্যে ওই সীমান্ত এলাকায় জুয়ার আসর বসছে। সেই সঙ্গে মদ, গাঁজা এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা চলছে রমরমা। এসব জুয়ার আসরে অংশ নিয়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন। একই কারণে রাত হলেই, সীমান্ত এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, চুরির মতো অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাকাতি-ছিনতায়ের ভয়ে সন্ধ্যা হলে সীমান্ত এলাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না। অভিযোগ রয়েছে পুলিশও সীমান্ত এলাকায় রাতে ডিউটি করতে যায় না। ফলে প্রায় রাতেই ডাকাতি-ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। এবার কোরবানি ঈদের সপ্তাহ খানেক পূর্বে গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের খাসহাওলা এলাকায় পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এলাকার জুয়াড়ি ও মাদক সেবনকারীরা গরু চুরির সাথে জড়িত। সীমান্ত এলাকায় জুয়ার আসর ও মাদকের রমরমা বাণিজ্যের উপর দীর্ঘদিন অনুসন্ধানকালে বেড়িয়ে আসে জুয়া এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত কয়েকজনের নাম। তার মধ্যে অন্যতম জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কিরন মিয়া। এলাকায় ভাঙ্গাড়ি কিরন মিয়া নামে পরিচিত। গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালী (খাসহাওলা) গ্রামের মৃত নবাব মিয়ার ছেলে কিরন মিয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানকালে স্পষ্টভাবে বেড়িয়ে আসে কিরন মিয়ার অপরাধ জগত। ভাঙ্গাড়ি কিরন মিয়া এক সময় তার অপরাধ জগতকে লোকও চোখের আড়ালে রাখলেও ২০০৭ সালে গজারিয়া ইউনিয়নের তালতলি বাজারে বাহাউদ্দিন মিয়ার ব্যবসায়িক দোকানে সন্ধ্যা রাতে প্রকাশ্যে ডাকাতি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। এবং ব্যবসায়িক বাহাউদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। তারপর থেকেই কিরন মিয়ার অপরাধ জগত প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ওই ডাকাতির ঘটনায় কিরন মিয়া দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। জেলহাজত থেকে ফিরে প্রকাশ্যে অপরাধ জগতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় তার। অপরাধ জগতের নতুন কৌশল হিসেবে পলাশ-শিবপুর সীমান্ত এলাকাকে বেছে নেয় সে। তালতলি গ্রাম থেকে ১০০ গজ দূরে শিবপুরের দক্ষিণ সাদারচর পুরাতন বাজারের পাশে নামে মাত্র একটি ভাঙ্গাড়ির দোকান দেয় কিরন মিয়া। ওই দোকানের পাশে কয়েকটি সবজি মাচার নিচে চালাচ্ছে জুয়ার আসর। এছাড়া দোকানে বসে প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে। তার জুয়ার আসরে দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চিহ্নিত জুয়াড়িরা জুয়া খেলতে আসে। জুয়ার নেশায় পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। দক্ষিণ সাদারচর গ্রামের সবজি কৃষক আবুল হাসান মিয়া বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সবজি মাচায় কাজ করতাম। কিন্তু সবজি মাচার নিচে জুয়া খেলার ফলে এখন আর পরিবারের সদস্যদের সবজি মাচায় নেই না।
দক্ষিণ সাদারচর ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার আলহাজ¦ বাবুল সরকার জানান, প্রতি রাতে তালতলি ও সাদারচর পয়েন্টে মোটরসাইকেল দিয়ে অনেক লোক এসে মাদক নিয়ে যায়। ভাঙ্গাড়ি কিরন মিয়ার সাথে অনেক নেশাগ্রস্ত খারাপ লোকজন থাকে। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। দুই থানার সীমান্ত এলাকা বলে থানার পুলিশও এখানে বেশি আসে না। মাঝেমধ্যে ডিবি পুলিশ আসলেও তারা কিরনসহ তাদেরকে ধরতে পারে না। কারণ, কিরন মিয়ার অনেক লোকজন আশেপাশে থাকে এবং অপরিচিত কাউকে দেখলেই মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে দেয়। এসব বিষয়ে একাধিকবার থানা পুলিশকে জানালেও কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে কিরন মিয়ার সহযোগি হয়ে কাজ করেন, দক্ষিণ সাদারচর গ্রামের মো: রতন মিয়া, মিন্টু মোল্লা, পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়া। খোকন মিয়ার বিষয়ে খবর নিয়ে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসাকে সক্রিয় করার জন্য শিবপুর উপজেলার সাদারচর ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি কসুমদ্দিনের মেয়ে রুজিনাকে বিয়ে করেন তিনি। খোকন মিয়াও বিভিন্ন মাদক মামলায় একাধিকবার কারাভোগ করেছেন। পলাশের গজারিয়া ইউনিয়নের তালতলি ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার সুলতান উদ্দিন জানান, তালতলি গ্রামের শেষ প্রান্তে শিবপুরের দক্ষিণ সাদারচর ইউনিয়নে অনেকটা প্রকাশ্যেই জুয়ার আসর বসে। যার প্রভাব তালতলি গ্রামেও কিছুটা পড়ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ওই এলাকার ইউপি মেম্বারকে অনেকবার অবগত করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত কিরন মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে শিবপুরের দক্ষিণ সাদারচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাছিহুল গনি স্বপন জানান, জুয়া ও মাদক প্রতিরোধে ওই এলাকায় একাধিকবার পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই এলাকার সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়ায় এখনো এসব বন্ধ হচ্ছে না।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, থানার সীমান্ত এলাকায় জুয়া ও মাদকের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সৈয়দুজ্জামান জানান, দক্ষিণ সাদারচর এলাকায় জুয়া ও মাদক স্পটগুলো বন্ধসহ অভিযুক্ত কিরন ও খোকন মিয়াকে আটক করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যহৃত রয়েছে।

# আলআমিন/লক্ষন

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *