1. nahidprodhan143@gmail.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  2. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  3. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  4. narsingdipratidin.mail@gmail.com : narsingdi :
  5. news@narsingdipratidin.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  6. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  7. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
  8. subeditor@narsingdipratidin.com : Narsingdi Pratidin : Narsingdi Pratidin
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :



রোহিঙ্গাদের অপরাধ, তারা বাঙ্গালি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? বাঙ্গালি জাতি কি মানবজাতির অংশ নয়? মায়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাংলা ভাষায় কথা বলে। এজন্য মায়ানমারের সামরিক জান্তার অভিযোগ, রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি। তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী, অনুপ্রবেশকারী ও ঘৃণিত বাঙ্গালি জাতি। বাংলাদেশই তাদের আবাসভূমি, মায়ানমার বা আরাকান নয়। রোহিঙ্গারা সুস্পষ্ট বাঙ্গালি, এ অপরাধে তাদের প্রতি সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট বর্বরতা চলছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই তারা আরাকানে স্বাধীনভাবে বাস করে আসছে। মায়ানমারের মগদের তুলনায় রোহিঙ্গাদের আবাসন মোটেও কম সময়ের নয়। প্রাসঙ্গিক লিংক-(https://www.hrw.org/reports/2000/burma/burm005-01.htm)। প্রাচীন আমল থেকেই তারা বাংলায় কথা বলছে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ ১৯০৭ সালে আরাকান থেকেই উদ্ধার হয়েছে। সৈয়দ আলাওলসহ বাংলা সাহিত্যের বহু লেখকের আবাসভূমি আরাকান। তাই রোহিঙ্গাদের ভাষাগত রূপ ভিন্ন হলেও তারা বাংলাতেই কথা বলে। যেমন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা হুবহু এক নয়। রোহিঙ্গারা শুধু মুসলিম নয়, তাদের মধ্যে হিন্দু, খ্রীষ্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষই রয়েছে। ধর্ম যাই হোক, তাদের ভাষা বাংলা। তেমনি বাংলাদেশে নব্বই ভাগ মুসলিম হলেও সব ধর্মের মানুষই রয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার, বাংলা ভাষা সবার। এ ভাষার জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চালু হয়েছে। বাঙ্গালি জাতি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ বাঙ্গালি জাতির জনক। রোহিঙ্গারা বাংলাকে তাদের মাতৃভাষা করেছে। আর এ অভিযোগে মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর নিকৃষ্ট গণহত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা নিছক রোহিঙ্গা নিধন করছেনা, তারা বাঙ্গালি হত্যা করছে। তারা বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বা নির্মূল করছে। ফলে এখন প্রায় এক মিলিয়ন বাঙ্গালি উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এবং অবর্ণনীয় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের একটাই অপরাধ, তারা বাঙ্গালি।

রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি, তাই বলে কি তাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে এবং জঘন্য গণহত্যা চালাতে হবে? আরাকান তো রোহিঙ্গাদেরই আবাসভূমি। প্রাচীন আমল থেকেই তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। একসময় তারা মগদের সাথে শাসন ক্ষমতাও পরিচালনা করেছে। প্রাসঙ্গিক লিংক- (http://www.newmandala.org/the-rohingya-and-national-identities-in-burma/)। দীর্ঘদিন যাবৎ সেনা বা স্বৈরশাসনের ফলে রোহিঙ্গারা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই মগের জান্তা সরকার নিছক বাঙ্গালি নিধনের ধুয়া তুলে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের মুল্লুক থেকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করছে। অথচ পৃথিবীর বহু দেশে বাংলা ভাষাভাষী রয়েছে। ভারতের কলিকাতা ও সেনেগালে বাঙ্গালিদের একাধিপত্য রয়েছে। তাই বলে তারাও কি বাংলাদেশে পুশব্যাক হবে? তারাও কি বাংলাদেশ থেকে পলাতক বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মুলোৎপাটিত হবে?

আজ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে, মায়ানমারের ঘাতকেরা রোহিঙ্গাদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারতো না। বাঙ্গালি জাতির জনক তাদের এ নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের চুড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেন এবং বিশ্বসম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে আরাকান দখল করতেন। ভারতের অনাকাঙ্খিত অসহযোগিতার জন্য বাংলাভাষা প্রভাবিত কলিকাতাও দখল করতেন। ভারতের বর্তমান আচরণ কলিকাতার বাঙ্গালিদের জন্য সতর্কবার্তা। মায়ানমারের পর ভারতও সেদেশের বাঙ্গালিদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে পারে। বাঙ্গালি জাতির জনক বেঁচে থাকলে তা অসম্ভব ছিল। তিনি তাঁর জাতিকে নিরাপদ রাষ্ট্র উপহার দিতেন। যেমন, তাঁর সবচেয়ে যোগ্যতম উত্তরসূরী শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গাদের সকল অধিকার ফিরে দিতে মায়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন। তিনি শহীদ হবার পর অর্থাৎ ১৯৮২ সাল থেকেই মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর আবার অত্যাচার শুরু করেছে। বাংলাদেশ হারিয়েছে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী। ফলে মায়ানমার জান্তা জঘন্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় এতোদিনও নিরব ছিলেন। হাজার হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানির পর কেবলমাত্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ, বিশাল ত্রাণবহরের নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ পুরষ্কারের আশায় একেবারে অনিচ্ছা সত্তেও ১২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা পরিদর্শনে যান। তিনি রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালি নয়, সংখ্যালঘু মুসলিম বলেন। জঘন্য গণহত্যা প্রত্যক্ষ করেও তিনি মায়ানমার সরকারকে হুমকি না দিয়ে বরং রোহিঙ্গাদের ফিরে নেবার সবিনয় অনুরোধ জানান। এতে মায়ানমার সামরিক জান্তা আরেকদফা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গাদেরকে প্রকাশ্যে বাঙ্গালি ঘোষণা দিয়ে চিরতরে মুলোৎপাটন করছে।

যেহেতু রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি, তাই তাদের প্রতি বাংলাদেশের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমাদের উচিত, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রেখে তাদের নৈতিক সমর্থন করা। প্রয়োজনে আরাকান ও কলিকাতা দখল করে হলেও পৃথিবীতে বাংলা ভাষার স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করা। মানবতাবিরোধী মায়ানমার জান্তাকে বাঙ্গালি নিপীড়ন বন্ধে বাধ্য করা। বাঙ্গালি হবার অপরাধে রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরনের জন্য অং সান সুচি ও তাঁর সামরিক জান্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তারা শুধু রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরন করেনি; বাংলা ভাষার অবমাননা করেছে এবং বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বা নির্মূলের ষঢ়যন্ত্র করেছে। এজন্য আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, রোহিঙ্গারা নিছক মুসলিম নয়; তারা বাঙ্গালি ও আরাকানের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেই পারে। বাংলা একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষাভুক্ত হবে। পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ এ ভাষা কমবেশি চর্চা করবে। এটা কোনো অপরাধ নয়। এজন্য তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বিবেচিত হবেনা।

সিরাজী এম আর মোস্তাক, শিক্ষানবিশ আইনজীবি, ঢাকা|

follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
শাহিন আইটির একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান