1. nahidprodhan143@gmail.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  2. khandakarshahin@gmail.com : Breaking News : Breaking News
  3. laxman87barman@gmail.com : laxman barman : laxman barman
  4. narsingdipratidin.mail@gmail.com : narsingdi :
  5. news@narsingdipratidin.com : নরসিংদী প্রতিদিন : নরসিংদী প্রতিদিন
  6. msprovat@gmail.com : ms provat : ms provat
  7. hsabbirhossain542@gmail.com : সাব্বির হোসেন : সাব্বির হোসেন
  8. subeditor@narsingdipratidin.com : Narsingdi Pratidin : Narsingdi Pratidin
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শিবপুরে বমসা’র প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মানবিক মেয়র কামরুলের উদ্যোগ: নরসিংদীতে সেলাই মেশিন ও হুইল চেয়ার পেল শতাধিক দুস্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যুদ্ধ রোবট উন্মোচন ইরানের আইএসের হুমকিতে আফগানিস্তান ছাড়ছে হিন্দু ও শিখরা অবশেষে ঘুম ভাঙল নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ধর্ষনের বিচার দাবিতে ময়মনসিংহে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক ওয়াজেদ আলী খানের মৃত্যু কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমান অভিযানে ৭দোকান হতে জরিমানা আদায় মাধবদীতে মানব কল্যান সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামী পাঠাগারের বর্ষপূর্তি উদযাপন করোনায় ঢাকা-চট্টগ্রামে কাজ বন্ধ করে দেওয়া মানুষের ৬৮ শতাংশ চাকরি হারিয়েছে



কালেরকণ্ঠের অনুসন্ধান- লিপ্সাঘর!

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট,নরসিংদী প্রতিদিন: নরসিংদীর পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক হচ্ছে চার লেন। এ কারণে ওই সড়কের দুই পাশে দিনে-রাতে সমানতালে গড়ে উঠছে নিত্যনতুন ভবন।

সৈকাদী গ্রাম। ওই গ্রামে সড়কের পাশে দুটি ভবন নির্মাণ করছেন শিল্পপতি স্বরোজ কুমার সাহা।
চিকন রড, তিন ইঞ্চি ছাদের ঢালাই দিয়ে চারতলা দুটি ভবন তরতর করে উঠছে। কিসের ভবন উঠছে—জানতে চাইলে রাজমিন্ত্রি রুহুল আমিন বলেন, ‘কিসের জন্য ভবন তৈরি করা হচ্ছে, সেটা মনে হয় মালিকও জানেন না। এটা স্কুলঘর, গুদামঘর, নাকি টেক্সটাইল—কিছুই বুঝতে পারছি না। শুধু রাত-দিন কাজ করতে বলছেন। আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। ’ জানতে চাইলে স্বরোজ কুমার সাহার তত্ত্বাবধায়ক মানিক মিয়া বলেন, ‘বাবু নাকি এখানে স্পিনিং মিল করবেন। ’

দিন-রাত তড়িঘড়ি করে ভবন নির্মাণের কাজ করলেও উল্টো সুর শিল্পপতি স্বরোজের। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষতিপূরণের জন্য ভবন নির্মাণ করছি না। আমি এখানে নিট কম্পোজিট তৈরি করব।

এভাবেই দিনে-রাতে সমানতালে উঠছে নিত্যনতুন স্থাপনা। কে কার চেয়ে অত্যাধুনিক ভবন বানাতে পারে এরই যেন প্রতিযোগিতা চলছে নরসিংদীর পাঁচদোনা-ডাঙ্গা সড়কে। কেউ কেউ আবার জমি ভাড়া করে পাকা স্থাপনা তৈরির ব্যবসায়ও নেমেছে। পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল মহাসড়ককে একস্তর নিচু দিয়ে উভয় পাশে আলাদা সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি গত ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন হয়। এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ওই চার লেন সড়কের জন্য আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করা হবে। অধিগ্রহণ করলে জমির ওপর নির্মিত অবকাঠামোর জন্য আলাদা দাম ধরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে সরকার। ফলে যেসব জমি অধিগ্রহণ হতে পারে, সেগুলোতে বাড়তি ক্ষতিপূরণের আশায় পাকা স্থাপনা তৈরির অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে এখন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব কাজে জেলা প্রশাসনের কর্মচারী থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতিরা জড়িয়ে পড়ছেন। সওজ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য ৫২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চার লেন মহাসড়কের দুই পাশে জমি অধিগ্রহণ করা হবে ১৫০ ফুট জায়গা, যা বর্তমানে রয়েছে ২৫ ফুট।

সরেজমিন পাঁচদোনা-ডাঙ্গা সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের পর থেকেই সড়কের পাশের জমিতে পাকা স্থাপনা তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়। পাঁচদোনা থেকে ডাঙ্গা সড়কের প্রবেশমুখের বাঁ পাশে চলছে চারতলা মার্কেট নির্মাণের কাজ। ব্যবসায়ী নরেশ সূত্রধর নির্মাণাধীন এই মার্কেটের মালিক। মার্কেটের নিচে দোকানের কাজ চলছে। আর কিছুটা সামনে এগোলেই নরসিংদী সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার পবিত্র রঞ্জন দাসের চারতলা বাড়ির কাজ চলছে। তিন তলার ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ না খুলেই চারতলার দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। বাইরে লাগানো হয়েছে দরজা-জানালা।

জানতে চাইলে বাড়ির মালিক পবিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ‘এটা আমার পৈতৃক বাড়ি। আমি বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় বাড়ি করছি না। আমি চাই না, সড়কের কারণে আমার বাড়িটি ভাঙা হোক। আমার বাড়ি না ভেঙে অন্য পাশ থেকে বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হোক। ’

কিছুটা সামনে এগোলোই চোখে পড়ে একটি পুরনো আধাপাকা বাড়ি ঘিরে চলছে নতুন ভবন নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। বাড়িটির মালিক শহিদুল্লাহ। তিনি পুরনো ভবনের চারপাশে পিলার তৈরি করে নিম্নমানের ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করছেন। একই সঙ্গে সাত-আটজন শ্রমিক ছাদের সেন্টারিং নির্মাণের কাজ করছে।

জানতে চাইলে নির্মাণ শ্রমিক শহিদ মিয়া বলেন, ‘আগামী সাত-আট দিনের মধ্যে বাড়ির কাজ শেষ করতে হবে। তাই দিন-রাত আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’ বাড়ি নির্মাণে ইট ও রডের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘মালিক যা দিচ্ছেন আমরা তা দিয়েই বাড়ি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছি। ’

পাশেই ফসলি জমিতে রড দিয়ে পাকা পিলার তৈরি করে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি দেখা যায়। স্থানীয়রা জানায়, ওই জমিটি নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির। এক মাস আগে তিনি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে সড়কের সৈকাদী নামক স্থানে সামনে যেতেই চোখে পড়ে একটি পাঁচতলা নির্মাণাধীন ভবনে সাইনবোর্ড লাগানো নাহার টেক্সটাইল। পাশেই গড়ে উঠছে আরো দুটি ভবন। প্রতিটি ভবন তৈরির কাজ চলছে দিন-রাত।

এলাকাবাসী সফিক মিয়া বলেন, নাহার টেক্সটাইল নাম দেওয়া হলেও এ জায়গার মালিক সামছুন্নার বেগম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী আলমগীর স্থানীয় সামছুন্নাহারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ভবন করছেন। মাসুদ সরকার নামে এক দালাল তাঁর সব কাজ দেখভাল করছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে গত সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ শাখায় গিয়ে অফিস সহকারী আলমগীরকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সামছুন্নার বেগম তাঁর দূর সম্পর্কের খালা।

ক্ষতিপূরণের টাকার আশায় অফিস সহকারী আলমগীরই যে শুধু নতুন ভবন বানাচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। নরসিংদী, গাজীপুর, পলাশ থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে ভবন তৈরি করতে জমি ভাড়ায় সহযোগিতা করেছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

নাহার টেক্সটাইলের পাশেই আরো দুটি ভবন উঠছে। স্থানীয় কামাল ও আমির উদ্দিন দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি ভাড়া করতে সহযোগিতা করেছেন আলমগীর নিজেই। জমির মালিক আমির হোসেন বলেন, ‘আলমগীরের মাধ্যমেই আমি কালীগঞ্জের ইকবাল হোসেন বাচ্চু, নরসিংদী ব্যাংক কলোনির বদর উদ্দিন ও পলাশের চরসিন্দুরের আকরাম হোসেনের সঙ্গে তিন বছরের জন্য ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করি। ’

নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হলেও আমাদের মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক আদেশ জারি করেনি। আদেশ জারির পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনকে জমি অধিগ্রহণের অনুরোধ জানাব। ’

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘নিজের জমিতে যদি কেউ স্থাপনা তৈরি করে, সেখানে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তবে এটা পরিষ্কার, তারা বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় এটি করছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ভিডিও চিত্র ধারণ করে রেখেছি। এসব ভিডিও দেখে জমির ক্ষতি পূরণ দেওয়া হবে। যারা নতুন করে ভবন তৈরি করছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। আর যদি জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মচারী এ কাজে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সুমন বর্মণ, দৈনিক কালেরকণ্ঠ, নরসিংদী ৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০

 

follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
শাহিন আইটির একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান