| ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | রবিবার

প্রজ্ঞাপন দাবিতে আবারও আল্টিমেটাম

নিউজ ডেস্ক,নরসিংদী প্রতিদিন,বৃহস্পতিবার,১০ মে ২০১৮:
‘আর নয় কালক্ষেপণ, দ্রুত চাই প্রজ্ঞাপন’ স্লোগানে গতকাল বুধবার মুখরিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় সংসদে ঘোষিত কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গতকাল দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন আকারে তা জারি করা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামী রোববার থেকে ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে, আন্দোলনকারীদের আল্টিমেটাম ঘোষণার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী কোটা নিয়ে যে কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন, সেই কমিটি দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই গঠন করা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে রোববার থেকে আবারও আন্দোলনে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন- আমরা ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ।

তিনি বলেন- বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে রোববার সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ছাত্র সমাজ রাজপথে দাবানল সৃষ্টি করে যে কোনো অশুভ শক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
এ সময় মানববন্ধনে কোটা সংস্কারের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ছাত্রছাত্রীরা। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন কই? কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চাই, প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিন, আর নয় কালক্ষেপণ-দিতে হবে প্রজ্ঞাপন, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন দিন, ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে দিন, শুধু মুখে নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন চাই এবং আমরা পড়ার টেবিলে বসতে চাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম বলেন- ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা সংস্কার বাতিলের কথা বলেছিলেন সেদিন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়াই আমাদের নাড়ি-নক্ষত্র বের করেছিলেন। রাশেদ ভাইয়ের বাবাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন, এসব করতে তো লিখিত কিছু লাগেনি। তাহলে আজকে কেন প্রজ্ঞাপন দিতে লিখিত লাগবে? তালবাহানা বন্ধ করেন। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো তালবাহানা মেনে নিবে না। তারা আর কোনো ফাঁদে পা দিতে চায় না।’
একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মাসুদ বলেন- যেখানে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায়, আম-জনতা চায়, জননেত্রী শেখ হাসিনাও চান তাহলে কে আটকায় গেজেট? ‘আমি বলবো কিছু কোটাধারী আমলা ঝামেলা করছেন। এর আগেও অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তারা বাধার সৃষ্টি করেছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় সংসদে ঘোষিত কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ‘প্রজ্ঞাপন নিয়ে টালবাহানা, ছাত্রসমাজ মানবে না, পাঞ্জেরী গো পাঞ্জেরী, প্রজ্ঞাপন আর কত দেরি? আর নয় কালক্ষেপণ, দ্রুত চাই প্রজ্ঞাপন, ন্যায়-নীতি আর অধিকার, রক্ত দেব লক্ষবার, জাগো জাগো ছাত্র সমাজ, বৈষম্যমুক্ত গড়তে সমাজ, ছাত্র সমাজ দিচ্ছে ডাক, মেধাবীরা মুক্তিপাক প্রভৃতি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কোটা বাতিলের ঘোষণা শিগগির প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

৩ দিনের মধ্যেই কমিটি : সচিব
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী কোটা নিয়ে যে কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন, সেই কমিটি দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই গঠন করা হবে। কমিটির প্রধান হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’ কম সময়ের মধ্যেই কমিটি সুপারিশ করবে বলে জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সিনিয়র সচিব।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *