| ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী | রবিবার

দৈনিক খোলা কাগজে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকার

প্রকাশিত ডেস্ক | নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৯:
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান। উন্নয়নের অক্সিজেন ও সরকারের আয়ের প্রধান দায়িত্ব নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে রাজস্ব আহরণ করে চলেছেন। সমৃদ্ধ করছেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার। ১৯৮১ সালের বিসিএস ব্যাচের এ কর্মকর্তা ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর শিল্প সচিব নিয়োগ পেয়ে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ও সামগ্রিক রাজস্ব আহরণ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খোলা কাগজ সম্পাদক ড. কাজল রশীদ শাহীন এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে।

আসন্ন ওয়ার্ল্ড কাস্টমস দিবস সম্পর্কে কিছু বলুন?
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে। এটি ব্রাসেলসে অবস্থিত। এর সদস্য সংখ্যা ১৮৩টি দেশ। বাংলাদেশ এই সংস্থার কার্যকরী সদস্য। প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ডব্লিউসিওর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী কাস্টমস দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এবার প্রতিবারের মতো আমরাও কাস্টমস দিবস পালন করব।

কাস্টম দিবসের মূল আদর্শ ও উদ্দেশ্য কী?
কাস্টমস দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো কাস্টমসকে জনপ্রিয় করা। মানুষের মধ্যে কাস্টমস যে ভালো কাজ করে সেগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। তারপর হলো আমাদের যে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছি, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু কার্যক্রম রয়েছে। যেমন এর মাধ্যমে আমরা ট্রেডের যাতে সম্প্রসারণ হয়, ফ্যাসিলিটেড হয়, তা নিশ্চিত করি। এবার কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘স্মার্ট বর্ডার ফর সিমলেস ট্রেড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট’। এর অর্থ হলো অবাধ বাণিজ্য, ভ্রমণ ও পরিবহনের জন্য স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থা। বর্ডার যাতে স্মার্টলি যে কোনো পণ্য খালাস দ্রুততার সঙ্গে করতে পারে, এটাই মূল টার্গেট।

কাস্টমস দিবসে এনবিআর কী কী কর্মসূচি পালন করবে?
কাস্টমস দিবসের দিন সকালে র‌্যালি করব। তারপর বিকাল ৫টা থেকে একটা সেমিনার হবে। সেই সেমিনার ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আমাদের সরকারি অফিসার, বিভিন্ন ট্রেড অর্গানাইজেশন থাকবে। সেমিনারে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ব ব্যাংকের আইএফসির কান্ট্রি ডিরেক্টরও থাকবেন।

কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এ ছাড়াও আমরা রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। সেই প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছে কাস্টমস দিবসের দিন সকালে আমরা তাদের পুরস্কার দেব। সার্টিফিকেট অব মেরিট আমাদের অফিসার ও কিছু ব্যবসায়ীকে ডব্লিউসিও দিয়ে থাকে। আমরা তাদের সিলেক্ট করেছি। তাদেরও ওই দিন সার্টিফিকেট অব মেরিট দেওয়া হবে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র বের হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সবাই বাণী দিয়েছেন।

আমরা মানুষকে জানাতে চাই আধুনিক কাস্টমস করার জন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যেমন আমাদের একটা বড় প্রকল্প হলো ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো। এর মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়া হবে। এক্সপোর্ট এবং ইমপোর্টের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অথরিটির কাছে যেতে হয়। সেগুলোতে অনেক কালক্ষেপণ হয়। কিন্তু এর মাধ্যমে অনলাইনে ডকুমেন্টস এক জায়গায় সাবমিট করলে সবার কাছে এটা যাবে। সবার অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করে এক জায়গায় শেষ হবে। এ ছাড়া আমরা যেসব ইমপোর্টার এক্সপোর্টারের রেকর্ড ভালো তাদের মালপত্র পোর্টে বসে থাকবে না। সরাসরি মাল চলে আসবে। পরে তাদের কাস্টমস হবে। এরকম ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছি। তাদের পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট হবে। এখন অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে কাস্টমসের সব কাজ হয়। পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এটা চালু হয়। আমরা কাস্টমসের জন্য একটা ওয়েবসাইট করেছি।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে কাস্টমসের ভূমিকা কী?
এন্টি মানিলন্ডারিং ও এন্টি টেররিস্ট ফাইন্যান্স বন্ধ করার জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে আমাদের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর কার্যক্রম আমরা আরও জোরদার করব।
যারা এলসি খোলে ইমপোর্টের জন্য কী মালামাল আসে, অনেক সময় সঠিক পণ্য না এসে টাকা ওই দেশে থেকে যায়। এগুলো রোধ করতে কাজ করছি। এসব কাজ-কর্ম আমাদের কাস্টমস দিবসে সবাইকে জানাব। আমরা কী করছি সেখানে এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া দুজন রিলেভেন্ট মিনিস্টার রাখার উদ্দেশ্য হলো নতুন মন্ত্রী যারা আসছেন তারা যেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন।

কাস্টমস দিবসে ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআরের ম্যাসেজ কী?
ব্যবসায়ীদের জন্য ম্যাসেজ হলো তারা যেন ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানে আরও স্বচ্ছ হন। এবং দেশের জন্য প্রত্যেকে কাজ করেন। কর ফাঁকির যে প্রবণতা আছে সেটা যেন পরিহার করা হয়। সবাই আমরা যেন রাজস্ব আহরণ ও রাজস্ব দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করি। এসব নিয়ে আইনগত কাঠামো তো আছেই। বাংলাদেশে আইনের কোনো অভাব নেই। প্রতিটি বিষয় নিয়েই আইন আছে। কিন্তু না মানার মন-মানসিকতার কারণে বাস্তবায়ন করা যায় না। আইন যাতে মানে সে ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সরকার যে বর্তমানে ক্ষমতায় আসছে, সরকারের কিন্তু অনেক কমিটমেন্ট আছে। এজন্য টাকা-পয়সার দরকার।

ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলছেন। এ বিষয়ে আপনি অবগত আছেন কি?
আমি খুব ভালো অবগত আছি। সব কাস্টমস কর্মকর্তাই কিন্তু হয়রানি করেন না। প্রতিটি কাস্টমস অফিসার যদি ট্রান্সপারেন্ট হয়ে যায় ও সঠিকভাবে মালামাল আনতে বলে তাহলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। কারণ তারা মনে করবে তাদের লাভ হবে না। ফাঁকি দিতে না পারলে লাভ হবে না।

রাজশাহীতে আমাদের যে শুল্ক স্টেশন আছে সেখানে খুব কড়াকড়ি। এখন কেউ সেখানে আর যায় না। হয় বেনাপোল দিয়ে আসে, সিলেট দিয়ে আসে, না হয় ভোমরা দিয়ে আসে। সব জায়গায় যদি রাজশাহীর মতো কড়াকড়ি হয় তখন আরও ব্যবসা কমে যাবে। ফটকা ব্যবসায়ীরা চলে যাবে।

ব্যবসা তো নষ্ট করে ফেলছে এরা। আমাদের কোনো কর্মকর্তার যাতে যোগসাজশ না থাকে এ বিষয়ে আমি নির্দেশনা দিয়েছি। কঠিন শাস্তির ব্যবস্থাও করেছি। যদি কারও কর ফাঁকি দিতে সহায়তা করার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমদানি-রপ্তানিতে সিএন্ডএফ এজেন্ট। তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট মিথ্যা ঘোষণা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

বিশ্বব্যাপী অবাধ বাণিজ্যনীতির কারণে কাস্টমসের অবস্থান কোন দিকে যাচ্ছে?
সাধারণত গ্লোবালাইজেশন বা অবাধ বাণিজ্যনীতির ফলে পৃথিবীব্যাপী কাস্টমসের গুরুত্ব কমে আসছে। রেভিনিউ কালেকশানের দিক থেকেও গুরুত্ব কমে গেছে। কিন্তু আমাদের দেশে রেভিনিউ কালেকশানের দিক থেকে কাস্টমসের অবস্থান এখনো ভালো। আমাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ আমরা কাস্টম থেকে পাই।

সে হিসাব যদি আমি দিই তাহলে দেখা যাচ্ছে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা কাস্টমস থেকে আহরণ করেছি। আবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা আহরণ হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা কাস্টমস থেকে আহরণ করেছি। প্রতি বছরই কাস্টমসে গ্রোথ আছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্রোথ হলো ১৩ শতাংশ। মোট রাজস্বের ২৯.৬১ শতাংশ কাস্টমস থেকে আসে।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি কেমন?
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখি আসতেছে যে ২৮ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে। রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কম। এগুলো সঠিক না। রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কিন্তু কম না। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিন্তু গ্রোথ আছে। প্রায় ৬ শতাংশ গ্রোথ আছে। কিন্তু গত বছরে বড় বাজেটের জন্য যে টার্গেট নির্ধারণ করা আছে, এটা ধরে রাজস্ব আহরণ করতে গেলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ গ্রোথ করতে হবে। ৪২ শতাংশ গ্রোথ তো আসলে এমবিশাস। এটা যাই হোক আমরা চেষ্টা করে যাব। আগামী ৬ মাস তো আরও আছে।

রাজস্ব আহরণে নির্বাচনের কোনো প্রভাব আছে কিনা?
নরমালি নির্বাচনের সময় খরচ কম হয়। প্রজেক্টগুলোর খরচও কম হয়। প্রকল্পের কাজ চললে এর থেকে আমরা অগ্রিম আয়কর পাই। ভ্যাট পাই। প্রকল্প কাজ নির্বাচনের সময় ধীর ছিল। এ কারণে ভ্যাট ও ট্যাক্স সামান্য কমেছে। আর ভ্যাট আহরণের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের চাপ প্রয়োগ করতে হয়। সেটা আমাদের অফিসাররা নির্বাচনকালীন পিরিয়ডে করে নাই। আমরাই একটা নির্দেশনা দিয়েছিলাম এ বিষয়ে। নির্বাচনের আগে ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের জন্য যাতে চাপ না দেওয়া হয়। নির্বাচন শেষ। এখন আবার আমাদের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের থেকে ভ্যাট আহরণে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছেন। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সবাই কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা ভ্যাট আহরণে হয়রানির অভিযোগ তোলেন…
হয়রানি করা হয় না। ভ্যাট তো কেউ দিতেই চায় না। আমরা সর্বক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চাই না। তারপরও দিতে চায় না। এসবের পরিবর্তন করতে হবে।

ভ্যাট আদায়ের পর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয় না। এমন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন?
সুপারিশসহ যে সব ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের থেকে ভ্যাট আদায় করে কিন্তু জমা দেয় না তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে এনবিআর। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন আমাদের কর্মকর্তারা। অভিযানে কারও বিরুদ্ধে ভ্যাট আত্মসাতের প্রমাণ পেলে তাদের থেকে ভ্যাট আদায় করা হবে। এমনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে তারা ৬ মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা ভ্যাট কম দিয়েছে। এগুলো আদায় করা হয়েছে। এখন থেকে সারা বছরই অভিযান হবে।

ভ্যাট আইন কবে বাস্তবায়ন হবে?
নতুন ভ্যাট আইন নির্ধারিত সময়েই বাস্তবায়ন হবে। সামনের অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই বাস্তবায়ন হবে। ভ্যাট আইনে কয়েক স্তরের ভ্যাট ব্যবস্থা করা হবে। ৩ শতাংশের ভ্যাট স্তর করা হবে না। তবে এক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ একটা স্তর আছে শুধু হাউজিংয়ের জন্য। কমোডিটির জন্য ৩ শতাংশ তো কোনো ভ্যাট নেই। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন, আমাদের কমিটি আছে, কমিটির মাধ্যমে এটা যাচাই হচ্ছে। ভ্যাট আইনের কিছু পরিবর্তন এনে আমরা এটাকে বাস্তবায়ন করব।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে। কীভাবে রোধ করবেন?
আমরা বন্ড অটোমেশন করছি। অটোমেশন হয়ে গেলে কী মাল আসছে, মালগুলো কোথায় কত ব্যবহার হলো সেগুলোর একটা সুনির্দিষ্ট হিসাব থাকবে। এই প্রকল্প আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ হবে। এখন বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে আমাদের কর্মকর্তারা প্রায়ই প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযান পরিচালনা করছেন। কারও বিরুদ্ধে অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়।

গুগল ও ইউটিউবে কর বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখন কী অবস্থা?
গুগল ইউটিউবে কর বসানো হচ্ছে। আমরা কয়েকদিন আগেও চিঠি দিয়েছি। ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছি। গুগল ইউটিউবে যেসব বিজ্ঞাপন যাবে তাদের থেকে যাতে করে যথাযথভাবে ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায় করে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন এলাকায় ফ্ল্যাট জরিপ করার চিন্তা-ভাবনা করেছেন কিনা? বাড়ির মালিকদের আয়করের আওতায় আনতে কী উদ্যোগ আছে?
সিটি করপোরেশন এলাকায় ফ্ল্যাট মালিক ও বাড়ির মালিকরা আয়করের আওতায় আসবেন। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ফ্ল্যাট জরিপ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির মালিকদের আয়করের আওতায় আনা হবে। এ জন্যও জরিপ চলছে। আশা করছি, এ বছর আমাদের নতুন আয়কর দাতা অনেক বাড়বে। শুধু টিআইএন না রিটার্নও যাতে দাখিল করে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানিতে উৎসে কর দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা?
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা বেতন বাড়িয়েছে এজন্য আমরা উৎসে কর কমিয়েছি। আমরা অন্যভাবে এ খাত থেকে যে রাজস্ব ঘাটতি হবে তা পুষিয়ে নেব। এদের আবার মিনিমাম ১২ শতাংশ আয়কর দেওয়ার একটা নিয়ম আছে। সেটাতে তারা শামিল হবে। সুতরাং পয়েন্ট ২৫ শতাংশ তো আর ফাইনাল না। এর পরও তো তারা রিটার্ন দাখিল করবে। সে সময় মিনিমাম ১২ শতাংশ ট্যাক্স তাদের দিতে হবে। যদি দেখা যায় পয়েন্ট ২৫ শতাংশ দেওয়ার পর আরও কিছু ট্যাক্স তাদের দেওয়া উচিত তাহলে তারা তা দেবে। এক্ষেত্রে করদাতারা যাতে স্বচ্ছ হয় ও সঠিক হারে কর প্রদান করে, এ ব্যবস্থাও আমরা গ্রহণ করব।

আয়কর আদায়ের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে বাংলাদেশ কি পৌঁছাতে পেরেছে? আপনার কী মত?
কর অনুপাত সঠিক হারে বাড়েনি। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য আমরা উপজেলা পর্যায়ে আয়কর অফিস করব। কর কর্মকর্তা বাড়াব। এগুলো করা গেলে নতুন করদাতার সংখ্যা বাড়বে। কর আদায়ও বাড়বে। কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে একটু সময় প্রয়োজন। সেটা আশা করছি বছর খানেকের ভেতরে সম্পাদন করা যাবে। কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

এই দায়িত্ব কেমন এনজয় করছেন?
এটা অনেক বড় গুরুদায়িত্ব। আমি তো জীবনে অনেক দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখছি এই দায়িত্বটা অনেক বড়। এখানে নানামুখী কাজ করতে হয়। কোনো ফুরসত মেলে না। অনেক চাপ অনেক কাজ। তারপরও আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি।

খোলা কাগজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *