শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২০ ইং |

কোটিপতি এখন পথের ভিখারী!

ডেস্ক রিপোর্ট | নরসিংদী প্রতিদিন-
বুধবার,১৭ এপ্রিল ২০১৯, ভিক্ষুক থেকে কোটিপতি হওয়ার গল্প অনেক রয়েছে। আবার উল্টোটাও দেখা গেছে। কোটিপতি থেকে পথের ভিখারী হয়েছেন কেউ কেউ।

এজন্যই বলা হয়ে থাকে বিধাতা চাইলে সকালে যিনি রাজা সন্ধ্যায় তিনি ভিক্ষুকে পরিণত হন।

তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ কক্সবাজারে রামুর অধিবাসী মহাম্মদ আজিম। স্থানীয়রা তাকে পাগল আজিম বলেই জানে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন এই ব্যক্তি।

কিন্তু কয়েক বছর আগেই তিনি ছিলেন রামু উপজেলার তেচ্ছিপুল এলাকার অন্যতম ধনী ও কোটিপতি। আর এখন উদ্দেশ্যহীন দ্বারে দ্বারে, পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ান তিনি।

ভিক্ষা করে ১০ টাকা পেলেই মহা খুশীতে নাচতে থাকেন। অথচ এই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে দুই হাতে টাকা ওড়াতেন। বিলাসবহুল জীবনে ছিলেন অভ্যস্ত। টাকা খরচ করতেন পানির মতো। তার বাড়িটিও ছিল দেখার মতো। চড়তেন বিদেশি গাড়িতে। হাতের মোবাইল ফোনটি সে সময়ের সেরাটি ব্যবহার করতেন।

গহনায় মুড়িয়ে রেখেছিলেন স্ত্রীকে। স্ত্রীকেও কিনে দিয়েছিলেন দামী মোবাইল। আর পাঁচটা ধনীর মতোই চাকচিক্যে ভরা ছিল তার জীবন।

পড়াশোনা ছেড়ে ১৭ বছর বয়সে ব্যবসায় নেমে পড়েন আজিম। কক্সবাজার থেকে পান, শুঁটকি ও কাঠ পাঠাতেন ঢাকায়। তরতর করে তার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। তিন বছরেই হয়ে যান কোটিপতি। এরপর ব্যবসার প্রসারিত হতে থাকে তার।

তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ভালো আয় করতে শুরু করেন। কিন্তু আজিম যেভাবে তরতর করে উঠেছিলেন সেভাবেই নেমে গেলেন। চোখের পলকে রাজা, ভিখারীতে পরিণত হলো।

বিশেষ একটি ঘটনায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হলো অনেক। এরপর আর দাঁড়াতে পারেননি।

একে একে গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার সব কিছু বিক্রি করে আজ নিঃস্ব। তবুও যদি কর্ম করে খাওয়ার যোগ্যতা থাকে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে ক্ষমতাও হারিয়েছেন।

এখন রামু-কক্সবাজারের মহাসড়কের পাগল ও ভিখারী আজিমের দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ২০ থেকে ৪০ টাকা। সেটা নিয়েই চলে যায় তার জীবন।

গত একবছর ধরে এভাবেই চলছে তার দিনকাল। পরিবারটি আর আগের মতন নেই তার। তারাও থাকছেন না আজিমের সঙ্গে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রামু তেচ্ছিপুলের একসময়ের কোটিপতি মহাম্মদ আজিম এখন ফুটপাতের পাগল।

follow and like us:
0

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published.